যবিপ্রবির ৪ বিজ্ঞানীকে সম্মাননা প্রদান

Img

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসভিয়ারের সমন্বিত জরিপে চলতি বছরে বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় স্থান পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনসহ সেরা চার শিক্ষক-গবেষককে সম্মাননা দিয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষক সমিতি।

শনিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে যবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের গ্যালারিতে সেরা চার শিক্ষক-গবেষককের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিয়ে তাদের সম্মাননা জানানো হয়।

সম্মাননাপ্রাপ্ত যবিপ্রবির শিক্ষক-গবেষকরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, কেমিকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. জাভেদ হোসেন খান, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইমরান খান এবং পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম।

যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদের সভাপতিত্বে সম্মাননা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান, অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমান, ডিনস কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. নাসিম রেজা, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. সুমন চন্দ্র মোহন্ত, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ড. মো. মেহেদী হাসান, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আমজাদ হোসেন, ড.ইঞ্জি প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষক সমিতির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক দীপা রায়।

পূর্ববর্তী সংবাদ

মোবাইলে ছবি তোলা বা ভিডিওচিত্র ধারণ কি হারাম?

প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষের হাতে হাতে এখন মুঠোফোন। আবার প্রযুক্তির উৎকর্ষে মুঠোফোন এখন স্মার্টফোন, আর তাতেই খুব সহজে এখন যে কেউ ফোনের ক্যামেরা অন করে যখন তখন ছবি তোলা এবং ভিডিও ধারণ করতে পারে। তবে যারা মুসলমান এবং ইসলামের অনুশাসন গুলো মেনে চলেন তাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে যে, মুঠোফোন বা মোবাইল দিয়ে ছবি তোলা বা ভিডিওচিত্র ধারণ কি ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম কিনা?

আমরা মোটামুটি সকলেই জানি, মূর্তি বা প্রতিমা তৈরি করা, কোন জীবন্ত প্রাণীর ছবি তৈরি করা, আঁকা হারাম। তবে, জড়বস্তুর ছবি তোলা ও আঁকায় শরয়ী কোন বিধিনিষেধ নেই। কিন্তু প্রশ্ন এখানে কোন ইলেকট্রনিক্স মাধ্যম যেমন ডিজিটাল ক্যামেরা অথবা মোবাইল ব্যবহার করে কোন জীবন্ত প্রাণী অথবা মানুষের ছবি তোলা কি জায়েজ?

মোবাইল ক্যামেরা অথবা ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা বা ভিডিও ধারণ জায়েজ কিনা এ নিয়ে নানারকম আলোচনা ও বিশ্লেষণ রয়েছে। অনেক আলেম ও ইসলামিক স্কলাররা এটিকে জায়েজ বলেছেন, আবার অনেকেই এটিকে হারাম ও বলেছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ছবি তোলা বৈধ, যেমন: আইডি কার্ড বা পাসপোর্টের জন্য ছবি তোলা ইত্যাদি।

মতামত (এক):

প্রয়োজন ছাড়া ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা জায়েজ নয়। ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা আর ছবি আঁকার বিধান একই। উভয়টিই সম্পূর্ণ হারাম। কেননা শরীয়তে যেই বিষয় মৌলিকভাবে জায়েজ নয় তা করার যন্ত্র পাল্টে গেলেও তার হুকুম পাল্টে না,  যেমন মদ খাওয়া হারাম। হাতে মদ বানালে যেই হুকুম, মেশিনে বানালেও একই হুকুম। যেমন মানুষ হত্যা করা হারাম, হাতে হত্যা করা যেমন হারাম কোন নব আবিস্কৃত যন্ত্রের মাধ্যমেও হত্যা করলেও একই বিধান প্রযোজ্য। তবে কম্পিউটার ও মোবাইল স্ক্রীনে থাকা প্রাণীর (অশ্লীল ও নারীর ছবি ছাড়া) ছবি প্রিন্ট করার আগ পর্যন্ত জায়েজ বলেছেন জামিয়া বিন্নুরিয়া পাকিস্তানের ফাতওয়া বিভাগ। 

মতামত (দুই):

শেইখ ইবনে উথাই’মিন বলেছেন, যেসব ছবি, যা কোন কিছুর সাহায্য ছারা দেখা যায় না, আমাকে বলা হয়েছে যেমন ভিডিও ক্যামেরার দৃশ্য। এরূপ ছবির ক্ষেত্রে কোন নীতিমালা নেই এবং এগুলি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পরে না। যেসব আলেমরা প্রিন্ট করা ছবির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করেছেন তারাই বলেছেন এরূপ অস্থায়ী ভিডিও ক্যামেরার ছবির ক্ষেত্রে কোন সমস্যা নেই।

মতামত (তিন):

শেইখ ডা: খা’লিদ আল-মুস’হাকি (র:)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আমি মোবাইল দিয়ে স্মৃতির জন্য আমার বাচ্চার ছবি তুলি। কিন্তু আমি পড়েছি যে স্মৃতির জন্য ছবি তোলা শরীয়ত মতে হারাম। আমার এই ছবি তোলা কি শরীয়তে নিষিদ্ধ অথবা এটা কি ঠিক আছে মোবাইলে ফোনের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা। এর ক্ষেত্রে দলিল কি? আমি এও পড়েছি যে কম্পিউটার এবং মোবাইলের ছবিকে ‘ছবি’ বলা হয় না, কারণ তা রাখা হয় কম্পিউটার বা মোবাইলের মেমোরিতে এবং তা ছাপানো হয় না। আমি যদি কম্পিউটার বা মোবাইলে ছবি খুলি তাহলে তাতে ফেরেশতারা কি থাকবে না চলে যাবে? আমি আশা করছি আপনি আমাকে বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে বুঝাতে পারবেন কারণ এটি খুব বিভ্রান্তিকর বিষয়। আল্লাহ্‌ যেন আপনাকে ভাল প্রতিদান দেয়।

উত্তরে তিনি বলেন: ‘মোবাইল বা কম্পিউটার বা ভিডিও টপের ছবিগুলি, শরীয়তের ছবির নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পরে না কারণ এই ছবিগুলোর কোন আকার নেই এবং তা স্থায়ী নয় , যতক্ষণ না তা কাগজে ছাপা হয়। এ ভিত্তিতে মোবাইলে বা কম্পিউটারে স্মৃতির জন্য ছবি রাখাতে কোন সমস্যা নেই, যদি না তা দ্বারা কোন হারাম কাজ করা হয়। এবং আল্লাহ্‌ই ভাল জানেন’…

উপরোক্ত মতামত গুলো অনুসরণ করলে এরূপ সিদ্ধান্তে পৌঁছা যায় যে মোবাইল বা ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলে কোন সমস্যা নেই, যদি না তা ছাপানো হয়। তবে তা ঝুকিপূর্ণ ও তাকওয়ার খেলাপ। কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে এরূপ ছবি তোলা শরীয়ত সম্মত নয়, কারণ তা ফিতনার কারণ হবে এবং তা ছেলেদের মধ্যে খারাপ কামনা-বাসনা তৈরি করবে।

সুতরাং ফটোগ্রাফী ছবিকে মুতলাক জায়েজ বলা এই হিসেবে যে, তা মূলত ছবি না, বরং তা ছায়াকে আটকে ফেলা, এরূপ বলা উচিত নয়, বরং তার বৈধতা প্রয়োজন পর্যন্ত সীমিত থাকবে। (তাফসীরু আয়াতিল আহকাম-২/৩০০)

কম্পিউটার স্ক্রীনে বা মোবাইল স্ক্রীনে ছবি না রাখাটাও তাক্বওয়ার দাবী। সুতরাং ওলামায়ে কেরামসহ যারা সমাজের অনুস্বরণীয় ব্যক্তিত্ব তাদের জন্য অবশ্যই একাজটি বর্জনীয়। যেন সাধারণ মানুষরা ছবি তুলে প্রিন্ট করার মাধ্যমে সুস্পষ্ট হারাম কাজে লিপ্ত হতে উদভুদ্ধ না হয়। 

আমাদের জানা মতে প্রশ্নেল্লেখিত শব্দে কোনো সহিহ হাদিস নেই। তবে সহিহ হাদিসে এসেছে,

আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

كُلُّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ يُجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُورَةٍ صَوَّرَهَا نَفْسٌ فَيُعَذِِّبُهُ فِي جَهَنَّمَ

প্রত্যেক ছবি নির্মাতা জাহান্নামে যাবে, তার নির্মিত প্রতিটি ছবি পরিবর্তে একটি করে প্রাণ সৃষ্টি করা হবে, যা তাকে জাহান্নামে শাস্তি দিতে থাকবে। (বুখারী ২২২৫, ৫৯৬৩, মুসলিম ৫৬৬২)

অতএব, স্পষ্ট বিধানের ওপর আমল করাই আমাদের জন্য উত্তম। আল্লাহ ও তার রাসূল ﷺ-এর হুকুম অনুসরণ করার ক্ষেত্রে যত বেশি কঠোরতা অবলম্বন করা যায়, ততই তাকওয়ার জন্য অধিক সহায়ক। আপনি মোবাইলে ছবি (অবৈধ ও অশ্লীল কিংবা যাকে দেখা নাজায়েজ তেমন মানুষের ছবি ছাড়া) তুলে রাখলে, কাগজে প্রিন্ট না দিলে, আপলোডও না করলে আপনার সাধারণ ছবি তোলার সমান গুনাহ নাও হতে পারে। তবে এটাও যদি বর্জন করা যায় তাহলে এটা হবে আপনার তাকওয়ার আলামত।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার