মে দিবসের কর্মসূচিতে যোগ দেয়ায় ৮ শ্রমিক ছাটাইয়ের অভিযোগ

Img

ঢাকার সাভারে মহান মে দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেয়ায় একটি কারখানার আট শ্রমিককে ছাটাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মে দিবসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে কারখানা বন্ধ রাখতে হবে বিধায় একদিন আগে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারেও আট ঘন্টা জোরপূর্বক কাজ করিয়ে নেয়ার অভিযোগ শ্রমিকদের।

রোববার সকালে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার ডিকে নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানায় এই শ্রমিক ছাটাইয়ের ঘটনা ঘটে। 

কারখানাটির ছাটাইকৃত শ্রমিকরা হলেন- সুইং সিনিয়র অপারেটর মাসুম তালুকদার (৫ বছর), সিনিয়র কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম (১০ বছর), ফিনিসিং সাইজম্যান আমিনুল ইসলাম (৮ বছর), সিনিয়র সুইং অপারেটর রিপন আলী (৫ বছর), সুইং অপারেটর সাখাওয়াত হোসেন (১০ বছর), ইনপুট ম্যান কামরুল হাসান (১২ বছর) ও ইনপুট ম্যান রবিউল ইসলাম (১০ বছর)।

দশ বছর ধরে কারখানাটিতে কর্মরত শ্রমিক ইনপুট ম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কালকা আমাদের মে দিবস গেছিলো। এই মে দিবসে আমরা গেছিলাম। হয়ত এই জায়গায় ছারেদের পক্ষ থাইকা কিনবা কেউ আমাদের ফলো করছে কিংবা দেখছে। যদি যাই ওরাতো সহ্য করতে পারে না। এই কারণে আমাদেরকে এরকম লাঞ্ছিত, নির্যাতন করতেছে। প্রত্যেক বছর মে দিবসেইতো আমরা যাই। গত শুক্রবার মে দিবসের আগের দিনও আমাদের আট ঘন্টা ওনারা ডিউটি করাই নিছে।’ 

ছাটাইয়ের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কি কারণে ছাটাই করছে জানার সুযোগ তারা দেয় নাই। সকালে গার্মেন্টে গেলে নোটিশ ধরায় দিছে। এছাড়া বেতন সাত তারিখের মধ্যে দিতে হবে, ছয় মাসের বোনাস দিতে হবে, রিজাইন দিলে পাওনা ত্রিশ কর্মদিবসের মধ্যে দিতে হবে এমন দাবি ছিলো আমাদের। আর রমজান মাসে জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ায় টিফিন বিল রমজান মাসে ১০ টাকা বেশি চাইছিলাম। কিন্তু এগুলা আমরা কিছুই পাই নাই। সর্বশেষ ইস্যু একটাই ওই মে দিবসে আমরা গেছিলাম এটাই ওরা সহ্য করতে পারতেছে না। আর ছয় মাস আগের ঘটনায় এখন তাদের অন্যায় ভাবে ছাটাই করা হইছে। কিন্তু ওই ঘটনা পুরোপুরি মিথ্যা ও বানোয়াট।’

একই সময় ধরে চাকরি করা সিনিয়র কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সকাল বেলা অফিসে যাওয়ার পরে আমাকে মানে প্রিন্টের দিকে ডাইকা নিছে। ডাইকা নিয়া চার-পাঁচ জন ধইরা আলাদা এক জায়গায় নিয়া গেছে। যাওয়ার পরে আমার কাছ থাইকা মোবাইল কাইরা নিছে। দশ মিনিট পরে আমরা ৪-৫জন বইসা আছি ওইখানে নেওয়ার পরে একটা নোটিশ ধরায় দিছে। অ্যারপরে আমি জিজ্ঞাস করছি এটা কি কারণে? কয়, এটা তোমার জানতে হবে না। পরে একটা পেসে সই দেয়ার পরে আমাদের এইখান থাইকা নিয়া যাচ্ছে। সামনে ঈদ আমাকে বেতন-বোনাস কোন না দিয়া আমাকে এইভাবে বাইর করে দিচ্ছেন জিজ্ঞাস করলে। তখন ওনারা কোন উত্তর দিচ্ছে না। তখন আশিক নামের একজন আমাদের হুমকি দেয়, তোরা যদি এগুলা চাইতে আসিছ তোদের নিয়া যাইয়া মারবো।’

বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আশুলিয়া আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন বলেন, ‘আমি যতটুকু মনে করতেছি বা জানতে পেরেছি, ওই শ্রমিকরা গতকালকে মে দিবসে আমাদের সাথে ছিল এবং আইনের জায়গা থেকে ওই শ্রমিকরা বঞ্চিত। সে গুলা যখন শ্রমিকরা দাবি করে এই ক্ষোভ থেকেই নোটিশটা দেওয়া। কারণ যদি এই শ্রমিকরা থাকে তাহলে আমাদের আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। যার কারণে নোটিশটা দেওয়া। আর নোটিশে যে ঘটনা উল্লেখ করছে সেটা অনেক পুরান ঘটনা। এই ঘটনা আমি নিজে, মালিকপক্ষ এবং প্রশাসনের মাধ্যমে সমাধান হয়ে গেছে। এই পুরান ইস্যু নিয়া বর্তমান নোটিশ দিছে আসলে একেবারেই অযৌক্তিক। ঈদের আগে গতকাল গেছে মে দিবস আর আজকে যদি শ্রমিক ছাটাই হয় এটা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যাচ্ছে না। সামনে যে ঈদ আসছে এই সময় শ্রমিক ছাটাই হবে না বলে সরকার থেকেই এইরকম নির্দেশনা দেয়া আছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘মূলত এই শ্রমিকরা সংঘটিত এবং গতকালকে এরা মে দিবসে কেন আসল? আর গতকালকে ওনাদের ফ্যাক্টরির সামনে মানববন্ধন হয়েছে। এটা হয়তো ওনারা দেখেছে। এটাই ওনাদের শ্রমিকদের প্রতি ক্ষোভের মূল কারণ।’

এবিষয়ে ডিকে নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানার মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের ব্যবস্থাপক আল আমিন হোসেনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি শুধু এটুকু জানি যে ওই গার্মেন্টে ছাটাইটা হয়েছে। আমি প্রাথমিক ভাবে জাস্ট অবহিত হয়েছি। ইন ডিটেইল তদন্ত করে এ বিষয়ে বলা যাবে।’

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার