মুহিতকে নিয়ে মুক্তাদিরের বিতর্কিত মন্তব্য, ‘গণধোলাই’ এর হুশিয়ারি

Img

সিলেটের কৃতিসন্তান, সাবেক অর্থমন্ত্রী, সিলেট-১ আসনের সাবেক সাংসদ ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ৫৬মিনিটে মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রবীণ এ অর্থনীতিবিদের মৃত্যুতে সমগ্র দেশের মানুষ গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে শোক প্রকাশ করছেন।

তবে সাবেক এই অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে শোক প্রকাশের নামে বিতর্কিত মন্তব্য করে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তার এমন স্ট্যাটাসে সমালোচনার ঝড় বইছে। তাকে প্রতিহত করার হুমকি দিয়েছে সিলেট মহানগর যুবলীগ। প্রকাশ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাহিলে ‘গণধোলাই’ দেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে এ সংগঠন।

‘Khandakar Muktadir’ নামক ফেসবুক পেইজ থেকে (এ রিপোর্ট লেখার সময় থেকে) প্রায় ১২ ঘণ্টা আগে খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের দেওয়া একটি পোস্টে বলা হয়- ‘‘জনাব আবুল মাল আব্দুল মুহিত পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি। আল্লাহ তাঁকে বেহেশত নসিব করুন এবং তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা। জনাব মুহিত ছিলেন কলেজ জীবনে আমার চাচার সহপাঠী। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ছিলেন ভোটার বিহীন জবর দখলকারী একটি সরকারের অংশ, যে সরকার ইলিয়াস আলীসহ অন্তত চারজন সিলেটি এবং সারাদেশে কয়েকশত গুমের জন্য অভিযুক্ত, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকাকালীন তাঁর অনুসৃত ভুল অর্থনৈতিক নীতি এবং একের পর এক দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকল্প ও ক্রয় প্রস্তাব পাশের দায় এই জাতির পরিশোধ করতে হবে বহু বছর ধরে। তাঁর স্মৃতির সাথে এই পীড়াদায়ক বাস্তবতা জড়িয়ে থাকবে বহুদিন। তাঁর মাগফেরাতের জন্য দোয়া করি।’’

বিএনপি নেতার এমন নেতিবাচক মন্তব্যকে ‘অনুচিত’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন সবাই। সমালোচনায় মেতে উঠেছেন সিলেটের লোকজন।

মহানগর যুবলীগ নেতা আলী হোসেন এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘কুলাংগার মুক্তাদির কে এই সিলেটের মাটিতে গনধোলাই দেওয়া হবে প্রস্তুত থাকও। আবার মুক্তাদির কে দিয়ে সিলেট শহরে গল্লা চালান শুরু করবো।’

শরিফুল নামের যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী সাংবাদিক লিখেছেন, ‘এমন স্ট্যাটাস নিছক আপনার মনমানসিকতারই পরিচয় দেয়।’

আরেক সাংবাদিক আবুল হোসেন লিখেন, ‘মুক্তাদির সাহেব মরহুম সাবেক অর্থমন্ত্রী সম্পর্কে আপনার এই মন্তব্য অত্যান্ত ঘৃনিত ও নিন্দনীয়৷’

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপু লিখেছেন, ‘বিতর্কিত মন্তব্য করে মানুষের মাঝে আলোচনায় আসার জন্য একজন কিংবদন্তির মৃত্যু পর এমন মন্তব্য প্রমান করে শালা মানুষ নয় একটা বিএবপি।

উনার বাবার সব আমলনামা যদি তুলে ধরি? তবে সিলেটের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা সারা দেশের মানুষের কাছে সমাদৃত হলেও তিনি সিলেটের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রাজনৈতিক সম্প্রীতিতে ফাটল ধরালে আশা করি আওয়ামী লীগ এর নেতৃবৃন্দ রাজনৈতিক সম্প্রীতির নামক শব্দ মুখে নিবেননা।

এই ধরনের মন্তব্য করা পরেও যদি সিলেট ঈদের জামাত পড়ার সুযোগ পায় তা হবে দুঃখজনক।’

সিলেট প্রতিদিনের সম্পাদক সাজলু লস্কর লিখেছেন- ‘আপনি জাস্ট একজন ছোট লোক। ছি’।

ছাত্রনেতা রাজেশ বলেছেন- ‘আপনার এই স্ট্যাটাস দেখে আমি সত্যিই বিচলিত বা অবাক হয়নি, কারণ আপনি কোন দল থেকে উঠে এসেছেন তার প্রমাণ দিয়ে দিলেন। আপনার জন্য লজ্জা হচ্ছে না, করুণা হচ্ছে, কারণ আপনি আপনার জাতের উর্ধ্বে উঠে কাউকে সম্মান করতে জানেন না।’

বেসরকারি টেলিভিশন নিউজ ২৪ এ কর্মরত সাংবাদিক শফি আহমদ খন্দকার মুক্তাদিরের স্ট্যাটাসের সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২ বার বাজেট পেশ করা, আপাদমস্তক একজন অর্থনীতিবিদ। একজন সাদা মনের মানুষ ও হাস্যোজ্জ্বল ও মেধাবী মানুষ তিনি। যিনি রাজনীতির মাঠে সফলভাবে অর্থনীতিকে ব্যবহার করেছেন চাইলে অনেক কিছু করতে পারতেন, কাজের সুবাদে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিলো, রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রিয় এই ব্যক্তিত্ব কে । তার গৃহীত অর্থনীতি পদক্ষেপ কারো মনপুত না হলে তার জবাব দিয়েছেন তাত্ত্বিক ও পরিসংখ্যান দিয়ে। সাদামাটা জিবনে নিজের অক্ষমতা ও দুর্বলতাকে স্বীকার করতেন অকপটে, সব সময় সাদাকে সাদা ও কালোকে কালোই বলে গেছেন যিনি, তিনিই আমাদের সিলেটের অহংকার জনাব আবুল মাল আব্দুল মুহিত। মিডিয়ায় কাজ করার সুবাদে দেখে আসছি সিলেটের রাজনীতি খুব সুষ্ঠু সুন্দর সবার সাথে মনের মিল রেখেই চলতেন সব সময়, কিন্তু আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে মর্মাহত করেছে একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস। আমরা এমন নোংরা রাজনীতি চাইনা দয়া করে এই সব রাজনীতি বন্ধ করেন প্লিজ। নতুন  প্রজন্মকে ভালো কিছু উপহার দেন আশাকরি আপনারাও সুফল পাবেন ইনশাআল্লাহ।

এদিকে, খন্দকার মুক্তাদিরের কুরুচিপূর্ণ ফেইসবুক স্ট্যাটাসের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি ও সাধারণ সম্পাদক মুশফিক জায়গীরদার।

এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে খন্দকার মুক্তাদির যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ কখনো তা করতে পারেনা, নেতৃবৃন্দ বলেন মরহুম আবুল মাল আবদুল মুহিতকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে খন্দকার মুক্তাদির দেশবাসী ও সিলেটবাসীর হৃদয়ে আঘাত করেছেন এবং মানষিক বিকারগ্রস্ত বিনপি নেতা খন্দকার মুক্তাদি আবারো প্রমাণ করলেন বিএন পি একটি মানষিক বিকারগ্রস্ত লোকদের সংগঠন। খন্দকার মুক্তাদির কুলাঙ্গার খন্দকার মোশতাকের উত্তরসূরী। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে কুলাঙ্গার  খন্দকার মুক্তাদিরকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে সিলেটবাসী ও দেশবাসীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা জন্য বলেন। অন্যতায় খন্দকার মুক্তাদিরকে সিলেট থেকে বিতাড়িত ও প্রকাশ্যে গণধুলাই দেয়া হবে বলে হুশিয়ারি দেন।’’

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার