মুখে ব্রণ ওঠে কেন

Img

অনেকের মুখেই ব্রণ উঠতে দেখা যায়। কারো কারো ক্ষেত্রে যুবক অবস্থায় ব্রণ বেশি ওঠে। আবার কারো কারো সারা জীবন ধরেই মুখে ব্রণ ওঠে। কিন্তু কেন ব্রণ ওঠে তা কি আপনি জানেন?

আমাদের শরীরের ত্বকে বিশেষ করে মুখের দিকের ত্বকে সেবাসিয়স গ্রন্থি থাকে, যা থেকে নিঃসৃত হয় এক ধরনের তৈলাক্ত পদার্থ, যাকে বলা হয় সেবাম। এই তৈলাক্ত সেবাম আমাদের ত্বককে মসৃণ রাখে। কোনো কারণে সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে সেবাম নিঃসরণের বাধা তৈরি হলে তা ভেতরে জমে ফুলে ওঠে, যা সবার কাছে ব্রণ নামে পরিচিত।

ব্রণের ওপরের চামড়া বন্ধ থাকায় ভেতরের কোষগুলো মরে যায় এবং পরবর্তীকালে লাল ও আরো পরে কালো হয়ে যায়। এ সময় ব্রণে আক্রান্ত স্থানে অন্য কোনো জীবাণু এসে পৌঁছালে সংক্রমণ হতে পারে, যা পুঁজের সৃষ্টি করে। তাই যাদের মুখে ব্রণ ওঠে তাদের মুখ সব সময় পরিষ্কার রাখা উচিত।

এখন প্রশ্ন হলো, কী সমস্যার কারণে মানুষের মুখে ব্রণ ওঠে? যাদের হজমের সমস্যা থাকে, ঘুম কম হয়, যারা কম পানি পান করে, তাদের ক্ষেত্রে সেবাসিয়াস গ্রন্থির এ ধরনের সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পূর্ববর্তী সংবাদ

কীভাবে বুঝবেন লিভার সিরোসিস

কীভাবে বুঝবেন লিভার সিরোসিসলিভার সিরোসিস। একটি মারাত্মক ও অনিরাময়যোগ্য রোগ। এতে যকৃৎ বা লিভারের কোষকলা এমনভাবে ধ্বংস হয়ে যায় যে তা সম্পূর্ণ বিকৃত ও অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে যকৃতের যেসব স্বাভাবিক কাজ আছে, যেমন বিপাক ক্রিয়া, পুষ্টি উপাদান সঞ্চয়, ওষুধ ও নানা রাসায়নিকের শোষণ, রক্ত জমাট বাঁধার উপকরণ তৈরি ইত্যাদি কাজ ব্যাহত হয়। দেখা দেয় নানাবিধ সমস্যা। ধীরে ধীরে এই রোগ মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় মানুষকে।

কেন হয়? হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস সংক্রমণ কারও কারও ক্ষেত্রে ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি আকার ধারণ করে সিরোসিসে পরিণত হয়। বিশ্বজুড়ে এটাই প্রধানতম কারণ। তবে সব ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ সিরোসিসে পরিণত না-ও হতে পারে। দেখা গেছে, ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হেপাটাইটিস বি পজিটিভ রোগীর পাঁচ থেকে ২০ বছর পর লিভার সিরোসিস হতে পারে। তবে হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের ক্ষেত্রে এই হার অনেক বেশি।

এ ছাড়া দীর্ঘদিনের মদ্যপানের অভ্যাস, যকৃতে চর্বি জমা থেকে জটিলতা, কিছু জিনগত সমস্যা, কিছু ইমিউন সিস্টেমের জটিলতায়ও লিভার সিরোসিস হতে পারে। চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধ লিভার সিরোসিসে সেরে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ। মাত্র ২৫ শতাংশ রোগী পাঁচ বছরের বেশি সময় বেঁচে থাকার আশা করতে পারেন। সিরোসিস থেকে যকৃতের ক্যানসারেও রূপ নিতে পারে। তাই রোগ হওয়ার আগে প্রতিরোধ করাই ভালো।

হেপাটাইটিস বি ও সি সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ, যেমন শিরায় নেশাদ্রব্য ব্যবহার, অনিরাপদ রক্ত গ্রহণ বা ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক এড়িয়ে চলুন। যাঁরা হেপাটাইটিস বি নেগেটিভে আক্রান্ত, তাঁরা সংক্রমণ এড়াতে টিকা দিয়ে নিতে পারেন। অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান এড়িয়ে চলুন। হেপাটাইটিসে সংক্রমণ হলে ঝাড়ফুঁক-জাতীয় চিকিৎসা না করে দ্রুত বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা নিন। প্রাথমিক লক্ষণ ধরা পড়তে দেরি হয় হঠাৎ রক্তে লিভার এনজাইমের অস্বাভাবিকতা বা আলট্রাসনোগ্রাফিতে যকৃতের আকার-আকৃতির পরিবর্তনের কারণ খুঁজতে গিয়ে লক্ষণ ধরা পড়ে।

উপসর্গ সাধারণত খাদ্যে অরুচি, ওজন হ্রাস, বমি ভাব বা বমি, বমি বা মলের সঙ্গে রক্তপাত, শরীরে পানি আসা ইত্যাদি হলো মূল উপসর্গ। পরে যকৃতের অকার্যকারিতার সঙ্গে কিডনির অকার্যকারিতা, রক্তবমি, রক্তে আমিষ ও লবণের অসামঞ্জস্য ইত্যাদি জটিলতা।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার