মা ইলিশ রক্ষায় ঢাকার দোহারে দিনরাত প্রশাসনের অভিযান

মোঃ শাহীন হোসেন | নিজস্ব প্রতিবেদক : অক্টোবর ১০, ২০১৮

মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য ঢাকার দোহারে বেশ জোরেশোরে অভিযানে নেমেছে প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও থানা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বেশ তৎপর দেখা যাচ্ছে জাতীয় সম্পদ রক্ষায়। এখন ইলিশ মাছ ধরার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা চলছে সেটিকে তারা বেশ কঠোরভাবেই প্রয়োগ করছেন।

উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সহকারি কমিশনার (ভূমি) সালমা খাতুনের বর্ণনায় মা ইলিশ রক্ষার জন্য এখন এক ধরনের ‘যুদ্ধ চলছে’। কারণ ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ।

মা ইলিশ রক্ষায় দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত যেখানে আন্তরিক সেখানে এ সম্পদ কেন আমরা রক্ষা করতে পারব না। নিষেধাজ্ঞা শুরুর দিন থেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবার নেতৃত্বে আমরা দিনরাত পদ্মা নদীতে অভিযান পরিচালনা করছি।


তিনি প্রবাসীর বাংলা অনলাইনকে জানান, নিষেধাজ্ঞা শুরুর দিন থেকে গত তিনদিনে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১০ কারাদন্ড কারাদন্ড, একজনকে অর্থদন্ড, ১৫ কেজি মাছ জব্দ সহ অন্তত ৬৩ হাজার মিটার জাল পুড়ানো হয়েছে। জব্দকৃত মাছগুলো এতিমখানায় দেয়া হয়েছে।


উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে ইলিশ শিকার-যা কার্যকর থাকবে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত। মা ইলিশ রক্ষায় সরকার এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মৎস্য অধিদফতর জানায়, মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমা লক্ষ্য রেখে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। এ সময়ে ডিম ছাড়ার জন্য ৭০-৮০ ভাগ মা ইলিশ গভীর সাগর ছেড়ে নদীর মিঠা পানিতে চলে আসে। এ বছরের ২৪ অক্টোবর আশ্বিনের পূর্ণিমা। পূর্ণিমার আগে সাগর ছেড়ে নদীতে প্রবেশকালে এবং পূর্ণিমার পরে নদী ছেড়ে সাগরে ফেরার সময় জেলেদের জালে ধরা পড়ে মা ইলিশ। তাই মা ইলিশের আসা-যাওয়া নির্বিঘœ করতে পূর্ণিমার আগে ১৭ দিন ও পরে ৪ দিনসহ মোট ২২ দিন ইলিশ নিধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ ২২ দিন ইলিশ আহরণ, বেচাকেনা, পরিবহন ও মজুদ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এ আদেশ বাস্তবায়ন করবে মৎস্য অধিদফতর, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে ইলিশ শিকার বন্ধে গত কয়েকদিনে উপজেলা মৎস্য অফিসের সহায়তায় সচেতনতামূলক বেশ কয়েকটি সভা করেছে দোহার উপজেলা ও থানা প্রশাসন।


উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবিএম জাকারিয়া বলেন, ইলিশ মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্যই বেশ জোরালোভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অফিস, থানা, নৌপুলিশ সহ সংশ্লিষ্ট সবাই একসাথে কাজ করছে। দিন-রাত মিলিয়ে পালাক্রমে নদীতে টহল দেয়া হচ্ছে তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার জেলেদের সচেতনতা

যারা নদীতে মাছ ধরার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ছে তাদের কারাদ- বা জরিমানা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, যাদের জেল-জরিমানা করা হয়েছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগ পেশাদার মৎস্যজীবী নয়।


দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ইলিশ মাছ আমাদের দেশের সম্পদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মা ইলিশ রক্ষায় সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন। যদি কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার, বিক্রি বা মজুদের সাথে জড়িত থাকে তাহলে কোন ছাড় দেয়া হবে না। এই ২২ দিনে পদ্মায় কোন ইলিশের নৌকা পাওয়া গেলেই আটক করার নির্দেশ দেয়া আছে। আমরা মনে করি, জাতীয় সম্পদ যারা বিনষ্ট করবে তারা দেশের শত্রু। তাদের কোন ছাড় দেয়া হবে না।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় কোন ছাড় দেয়া হবে না। “একটি ইলিশ একবারে গড়ে দশ থেকে বারো লক্ষ ডিম ছাড়ে। ভেবে দেখুন এটা কত বড় একটা বিষয়”। মা ইলিশ এবং জাটকা রক্ষার জন্য বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইলিশের উৎপাদন অনেক বেড়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ইলিশের উৎপাদন আরো বাড়বে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে ইলিশ আহরণ, বেচাকেনা, পরিবহন ও মজুদ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। আমরা দিনরাত নদীতে অভিযান পরিচালনা করছি। ইতোমধ্যে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। জাল পুড়ানো হয়েছে অন্তত ৫০ হাজার মিটার। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে নামলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিদিন আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


 

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০১৮

প্রতিবেদক: মোঃ শাহীন হোসেন

পড়েছেন: 772 জন

মন্তব্য: 0 টি