মায়ের দিকে সুনজরে তাকালে কবুল হজের সওয়াব পাব?

Img

প্রশ্ন : মায়ের দিকে সুনজরে তাকালে একটি কবুল হজের সওয়াব পাওয়া যাবে, এই কথাটি কি সত্য? উত্তর : এই কথাটি কোনো হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়নি, এটি মানুষের একটি ধারণা।

তবে একটি কথা সত্যি যে, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘পিতামাতা তোমার জান্নাত এবং জাহান্নাম’। যদি কেউ পিতামাতার সেবা করতে পারে তাহলে সে জান্নাতে যাবে এবং সেবা না করলে অর্থাৎ অবাধ্য হলে সে জাহান্নামে যাবে। এটি হাদিসে স্পষ্টভাবে এসেছে।

যদিও আপনি যে হাদিসটির কথা বলেছেন সেটি শুদ্ধ নয়, কিন্তু কথাটির একটি তাৎপর্য আছে। সেটি হচ্ছে, অবশ্যই মায়ের দিকে তাকাতে হবে, বয়স্ক হয়ে গেলে তাঁদের আলাদা করে দেওয়া বা বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেওয়া, এই জাতীয় কোনো কিছু করা উচিত নয়, আমরা সবসময় চিন্তা করব পিতামাতাকে আমাদের সাথে রাখব, শরিয়াবিরোধী না হলে তাঁদের কথা অবশ্যই মানব। কিন্তু আপনি যে হাদিসের কথা বলেছেন, সেটি শুদ্ধ নয়। এ রকম কোনো হাদিস আসেনি।

পূর্ববর্তী সংবাদ

২৬ ধনীর হাতে ৩৮০ কোটি মানুষের সমান সম্পদ

বিশ্বায়ন আর প্রযুক্তির কল্যাণে প্রতিনিয়ত বিশ্বের নানা চিত্র উঠে আসছে আমাদের সামনে। বিশ্ব বাণিজ্যের ফলে একদিকে যেমন ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি আর আধুনিকায়নের সুবাদে উম্মুক্ত হচ্ছে এসব পরিসংখ্যান। ধনী আর দরিদ্রের পার্থক্য নিয়ে এমনই একটি চিত্র তুলে ধরেছে দাতব্য প্রতিষ্ঠান অক্সফাম।

বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্ধেক (৩.৮ বিলিয়ন) মানুষের মোট সম্পত্তির সমান সম্পদ রয়েছে বিশ্বের ২৬ জন শীর্ষ ধনীর কাছে। অর্থাৎ ৩৮০ কোটি মানুষের সম্পত্তির সমান সম্পদ রয়েছে বিশ্বের শীর্ষ ২৬ ধনীর কাছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে অক্সফাম জানিয়েছে, ২০১৮ সালের বিশ্বের ধনীরা আরও ধনী হয়েছে এবং দরিদ্ররা হয়েছে দরিদ্রতর। সম্পত্তির এই বিশাল ব্যবধানের কারণে দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদি শীর্ষ ধনীদের আয়ে ১ শতাংশ সম্পদ কর আরোপ করা হয় তাহলে বছরে ৪১৮ বিলিয়ন ডলার অর্থ আসবে। এই অর্থ দিয়ে স্কুলে যাচ্ছে না এমন শিশুদের শিক্ষা দেওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে ৩০ লাখ মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হবে।

অক্সফামের মতে, বিশ্বের ২২০০ বিলিওনিয়ারের সম্পত্তির মূল্য ২০১৮ সালে বেড়েছে ৯০০ বিলিয়ন ডলার, প্রতিদিন বেড়েছে ২.৫ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বের ধনকুবেরদের সম্পত্তি বৃদ্ধির হার ১২ শতাংশ। বিপরীতে বিশ্বের দরিদ্র অর্ধেক মানুষের সম্পত্তি কমেছে ১১ শতাংশ। এর ফলে বিশ্বের অর্ধেক মানুষের সমান সম্পত্তি জমা হয়েছে বিলিওনিয়ারদের হাতে।

প্রতিবেদনটিতে আরও উঠে এসেছে, আর্থিক মন্দার পর গত দশ বছরের বিলিওনিয়ারদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৭ ও ২০১৮ সালের প্রতি দুইদিন অন্তর নতুন একজন বিলিওনিয়ার হয়েছেন। যুক্তরাজ্যের ধনীদের ১০ শতাংশের তুলনায় দরিদ্রতম ১০ শতাংশ মানুষ উচ্চহারে কর দিচ্ছেন।

অক্সফামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি জেফ বেজসের সম্পত্তি বেড়েছে ১১২ বিলিয়ন ডলার। তার এই সম্পত্তির মাত্র ১ শতাংশ ১০৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ ইথিওপিয়ার পুরো স্বাস্থ্য বাজেটের সমান।

অক্সফামের প্রচারণা ও নীতি বিষয়ক পরিচালক ম্যাথিউ স্পেনসার বলেন, ‘চরম দারিদ্র্যে বাস করা মানুষের সংখ্যা কমে আসা গত শতকের শেষে বড় একটি অর্জন। কিন্তু ক্রমবর্ধমান অসমতা ভবিষ্যতে এই খাতের অগ্রগতিকে জটিল করে তুলছে। আমাদের অর্থনীতি যে পথে চলছে তাতে সম্পত্তি ক্রমবর্ধমানভাবে এবং অন্যায্যভাবে কয়েকজনের কাছে জমা হচ্ছে।’

প্রতিবেদনেটিতে বলা হয়েছে, অনেক দেশ সরকারি সেবাখাতে বিনিয়োগ করতে ব্যর্থ হওয়ায় অসামঞ্জস্যকে তীব্রতর করে তুলছে। স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ায় ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২৬২ মিলিয়ন শিশু এখনও স্কুলে যেতে পারছে না, কারণ তাদের পিতা-মাতারা স্কুলের ফি, পোশাক ও বই কিনে দিতে পারছে না। -আমাদের সময়

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার