মালয়েশিয়া বৈধ অবৈধ সব অভিবাসীদের করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার আহবান বিশেষজ্ঞদের

Img

মালয়েশিয়ায় বসবাসরত সকল বৈধ ও অবৈধ অভিবাসীদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন এর আওতায় আনার জন্য সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকার যদি পুরো দেশকে রক্ষা করতে চায় তাহলে সর্বস্তরের জনসাধারণকে এই ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। 

সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাসের উদ্যেগে ফেইসবুক অনলাইনের মাধ্যমে আলোচনায় এসব কথা বলেন দেশটির অন্যতম সরকারি মেডিকেল সেন্টার ইউনিভার্সিটি মালায়া এর মেডিকেল অনুষদদের ডিন দাতোক অধ্যাপক ডা. আদিবা কামারুলজামান এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিন ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক ডা. ফ্রেডরিক এল। 

এ বিষয়ে সোমবার (২৩ নভেম্বর) দেশটির জাতীয় অনলাইন সংবাদ মাধ্যম "দ্য স্টার " একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডা. আদিবা কামারুলামান বলেন, সরকার ভ্যাকসিন সরবরাহ করার আগে কাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে সেই পরিকল্পনার আগে নির্মাণ শ্রমিক ও নিরাপত্তা প্রহরীদের কথাও বিবেচনা নেওয়া উচিত। কারণ তাদের মধ্যে সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় দেশে অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। 

তিনি আরো বলেন, কোভিড-১৯ পেনডেমিক মোকাবেলায় আমরা কেবল একটানা লকডাউন দিয়েই যাচ্ছি। এতে করে আমাদের দেশ বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। 

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন এবং জনস্বাস্থ্যের অধ্যাপক ডা. ফ্রেডরিক এল আল্টিস বলেছেন, সরকার যদি তাদের পুরো দেশকে রক্ষা করতে চায় তবে সেখানে বৈধ ও অবৈধ সবাইকে এই টিকা দেওয়া উচিত। কাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত সে সম্পর্কেও তাদের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্টে একটি ন্যায়সঙ্গত কোভিড -১৯ ভ্যাকসিন বিতরণের কাঠামোটি চারটি ধাপের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রথম ধাপের মধ্যে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রথম প্রতিক্রিয়াশীলরা রয়েছেন। এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থতা এবং মৃত্যুজনিত রোগীদের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যেমন, গুরুতর  প্রয়োজনীয় পরিষেবা, স্কুল, নার্সিং হোম এবং এমনকি কারাগারের মতো সীমাবদ্ধ স্থানগুলিতে কর্মরত শ্রমিক ওয়ার্কার।

তিনি বলেছিলেন, তৃতীয় ধাপে তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক, শিশু এবং বিভিন্ন  সেক্টরে কর্মরত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে যাদের সংক্রমনের ঝুঁকি রয়েছে। এবং চতুর্থ স্তরটি ছিল আগে যারা পর্যায়ক্রমে বাদ পড়েছেন।

সর্বশেষ উভয়েই একমত হন, মালয়েশিয়ার নাগরিক নন এমন ব্যাক্তিদের যদি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন থেকে দূরে রাখা হয় তাহলে এমনও হতে পারে যে, সরকারের এই ব্যয়বহুল করোনা প্রতিরোধের পুরো প্রকল্পটি ভেস্তে যেতে পারে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার