মালয়েশিয়া: কর্মস্থলে দুর্ঘটনার হার কমলেও নির্মাণ শিল্পে এখনও বেশি

Img
ছবি: এনএসটি

ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন কাজগুলোর মধ্যে সব চেয়ে বেশি দুর্ঘটনার কবলে পরে নির্মাণ শিল্প। আহত এবং নিহত হওয়া মানুষের সংখ্যাও তাদের মধ্যে বেশি যারা নির্মাণ কর্মীর কাজ করেন। মেরামত করা ক্রেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পরিদর্শকের অভাব, নিরাপত্তার ব্যয় সংকুচিত এসবের ফলে নির্মাণকাজে পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ নির্মাণ কর্মীদের প্রচলিত অভিযোগের অংশ বিশেষ।

সম্প্রতি কুয়ালালামপুরের বানদার তাশিক সেলাতানের একটি সড়কে গাড়িতে উপর থেকে স্ল্যাব পড়ার ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে মানুষের মধ্যে। নির্মাণ প্রকল্পের সুরক্ষা ব্যবস্থা কঠোর ভাবে নিশ্চিত করার দাবি তুলছেন অনেকে। এক গ্র্যাব চালক বলছিল, এখন গাড়ি নিয়ে কোন ওভার ব্রীজের নিচে দিয়ে যাওয়ার সময় খুব ভয় হয়।

নির্মাণ কর্মীরা মালয়েশিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যম ‘নিউ স্ট্রেইট টাইম্স’এ দাবি করে যে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য বেশি মনোযোগ দেওয়া এবং তহবিল বরাদ্দ করা হয় তবে এ জাতীয় বিপদজ্জনক ঘটনাগুলোর হ্রাস পাবে।

এক ক্রেন চালক আমরি জানান, দুর্ভাগ্যজনক যে কিছু ঠিকাদার সুরক্ষা ব্যয় কমানোর উপর বেশি জোর দিয়েছিল। ১৭ বছরের অভিজ্ঞ এ ব্যক্তি বলছিলেন, কর্মীদের সুরক্ষার স্বার্থে যথাযথ কর্তৃপক্ষ দ্বারা নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি (এসওপি) অনুসরণ করা ছাড়া বিকল্প নেই।

উদাহরণস্বরূপ যদি কোন প্রকল্পে মোট ১০০ বিলিয়ন রিঙ্গীত ব্যয় হয় তবে সুরক্ষা খাতে কতো ব্যয় হবে? ঠিকাদার যদি সুরক্ষার খাতে ১০ হাজার রিঙ্গীত ব্যয় করে, এটি কি উপযুক্ত হবে? পার্শ্ববর্তী দেশ সিঙ্গাপুরে প্রকল্পের প্রতি ইঞ্চি নিরাপত্তার জালে আবৃত্ত থাকতে হয়।

যন্ত্রপাতি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত যদি ব্যবহার করা নাও হয়। এবং যন্ত্রপাতি পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য দক্ষ জনবল থাকতে হবে।

তিনি আরো বলছিলেন, এসওপি ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকার সম্মন পদক্ষেপ প্রকল্পের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখার পাশাপাশি কর্মীদের জীবন নাশের ঝুঁকিও কমাবে।

আমরি বলেন, গণপূর্ত বিভাগকে অবশ্যই নির্মাণগুলিতে পর্যবেক্ষণ আরো বাড়াতে হবে। দেশটির শ্রম মন্ত্রী ফাদিল্লাহ ইউসুফ গত রবিবার বলেছিলেন, তার মন্ত্রণালয় এবং হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ দূর্ঘটা কবলিত নির্মাণ প্রকল্পের সুরক্ষা পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে।

‘নিউ স্ট্রেইট টাইম্স’র খবরে বলা হয়েছে নির্মাণ প্রকল্পে গত বছরে দুর্ঘটনার হার কমেছে। গত বছরে এক লাখ কর্মীর মধ্যে দুর্ঘটনার হার ছিল ৩.৮৩ শতাংশ যা আগের বছর ২০১৮ সালে ছিল ৪.১৪ শতাংশ। তবে র্ঘটনা জনিত কারণে এ খাতে এখনও মৃত্যুর সংখ্যা উচ্চতর, গত বছর ৮৪ টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত হিসাবে দেখা গেছে নির্মাণ শিল্প ও উৎপাদন খাতে দুর্ঘটনায় ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, আহত হয়ে মৃত্যুর হার উৎপাদন খাত থেকে নির্মাণ শিল্পে অপেক্ষাকৃত বেশি। নির্মাণ শিল্পে ১৩৭ দূর্ঘটনায় ৩৫ জন মারা গেছে যা ২৫.৫ শতাংশ আর উৎপাদন খাতে ২ হাজার ৬০০ দূর্ঘটনায় ৩৫ জন মারা গেছে যা ১.৩৪ শতাংশ।

মালয়েশিয়ার নির্মাণ শিল্পে এ বছরের অতীত কিছু দুর্ঘটনা

৫ আগস্ট: চেরাসের আলম দামাইতে ২৬ টন ওজনের ক্রেনের নিচে আটকা পড়ে ক্রেন চালকের বাম পায়ে ফ্র্যাকচার

৫ মার্চ: পাহাংয়ের টেমরলাহে একটি আবাসন প্রকল্পের নির্মাণাধীন স্থানে দুইজন বিদেশী কর্মী নিহত হয়। তিন কর্মীর মধ্যে তারা দুইজন পাইপ স্খাপনের কাজ করছিলেন।

১৪ ফেব্রুয়ারি: কুয়ালালামপুরে একটি দীর্ঘ কনডমিনিয়াম প্রকল্পের কাঠামো ভারী বৃস্টির ফলে আংশিক ভেঙে পড়েছিল। এতে দুই বাংলাদেশিসহ ছয়জন আহত হয় ।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার