"মালয়েশিয়ায় ক্ষমতার পালাবদল" জনশক্তি রপ্তানিকারকদের হিসাব নিকাশ

আহমাদুল কবির | বিশেষ প্রতিবেদক : মে ১২, ২০১৮

মালয়েশিয়ায় ক্ষমতার পালাবদলে জনশক্তি রপ্তানিকারকরা কষছেন হিসাব নিকাশ। দেশটির নতুন প্রধান মন্ত্রী শপথ নেয়ার পরপরই ১০ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একাট্টাহয়ে হুংকার ছুড়েছেন ব্যবসায়িরা।
এদিকে ১০ মে মালয়েশিয়ায় নবনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৯৩ বছর বয়সী  তুন ডাঃ মাহাথির মোহাম্মদ শপথ নিয়েছেন। এ শপথের মধ্য দিয়ে ৬০ বছরের ইতিহাস পাল্টে দিয়েছেন তিনি। একইভাবে আসবে সব মন্ত্রণালয়ে নতুন নতুন মুখ। তারা সকলেই হবেন ক্ষমতাহীন বারিসান ন্যাশনালের বিরোধী।  এ বিরোধিতা সকল কাজের। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন বাইরের কোন দেশ রুষ্ট হয় এমন কোন নীতি বা পক্ষ মালয়েশিয়া নিবে না। 

এদিকে মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশিদের ভূমিকা পুরাতন ও অনস্বীকার্য। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ হতে শ্রমশক্তি নিয়োগে অনিয়ম, প্রতারণা,  অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অমানবিকতা বিভিন্ন সময়ে ছিল আলোচনায়। সাগর পথে,  স্থলপথে জংগল দিয়ে লোক এনে বন্দী করে রাখা,  জিম্মি করে দেশে ফোন করে টাকা আদায়, অনেকের হাত পা কেটে ফেলা এবং মেরে ফেলার অসংখ্য ঘটনার জন্ম দিয়েছে জন শক্তির সাথে সংশ্লিষ্টরা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন সময়ে নতুন নতুন গড ফাদারের উদয় হয়েছে শাসক শ্রেণির সাথে নিবির যোগসাজসে, তাদের অনেকে এখন ব্যবসায়ী।  অনেকে লোক নিয়োগের দালালী করে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ হতে লোক নিয়োগ যেন অর্থ আয়ের অবাধ উৎস।

এালয়েশিয়ার স্বপ্নদ্রষ্টা তুন ডা: মাহাথিরের ক্ষমতা ত্যাগ  করা থেকে পুনরায় ক্ষমতায় আরোহন সময়ের মাঝখানের ইতিহাস এমনই অমানবিক। এই সময়ের মধ্যে মাই ইজি, কেরিকম, সিনার ফা¬ক্স, এফসিএমডব্লিউ, এসপিপিএ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান বিদেশি শ্রমিক বিশেষ বাংলাদেশি শ্রমিক প্রক্রিয়াকরণের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ছিল ওপেন সিক্রেট।  সর্বশেষ বাংলাদেশ হতে লোক নিয়োগে অতিরিক্ত খরচ শুধু বাংলাদেশ নয় মালয়েশিয়া হতে পণ্য আমদানীকারকপদেরও মাথা ব্যাথার কারণ হয়েছে। তারা প্রশ্ন করেছে কেন এত খরচ। এধরনের অতিরিক্ত খরচে আসা শ্রমিকের হাতে তৈরি পণ্য আমদানি না করার সিগন্যাল অনেক কোম্পানি পেয়েছে। মালয়েশিয়ায় কোম্পানি আর শ্রমিকের মাঝে গড়ে ওঠা দালাল ও এজেন্টের অহেতুক টাকা খাওয়া ও বেচা কেনার কারণে দ্রুত খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে গতসরকার কর্তৃক বাংলাদেশের দশ এজেন্টকে সার্ভিস প্রক্রিয়া করণের দায়িত্ব দেয়া বাংলাদেশে মনোপলি তৈরি করেছে বলে অনেকে মনে করেছেন। 

যদিও বাংলাদেশ হতে লাইসেন্স প্রাপ্ত সকল এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়া সরকারের নিকট দেয়া হয়েছিল এবং সকল এজেন্ট কে কাজের সুযোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করলেও তা উপেক্ষা করে দশ এজেন্সিকেই বহাল রাখা হয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশের হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছে। তবে বিষয় মালয়েশিয়ার তাই এধরনের মামলায় প্রতিকার নেই। কিন্তু হাইকোর্ট খরচের বিষয়ে কেউ রিট করেনি।

এদিকে মালয়েশিয়ার নব নির্বাচিত নতুন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন মালয়েশিয়ার পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার দৃঢ় ও সম্প্রসারণ করার। অর্থাৎ মালয়েশিয়া পণ্য উৎপাদন জোড়দার করতে অবশ্যই বিদেশি কর্মী লাগবে। তাই নতুন সরকারের আগমনে বাংলাদেশ হতে লোক নিয়োগ করবে কি না এমন ভাবনায় যারা আছেন তারা অন্যভাবনা ভাবতে পারেন। লোক নিয়োগ বন্ধ করতে হলে বিগত সরকার ঘোষিত সোর্স কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশের নাম বাদ দিতে হবে, বা সেক্টর সীমিত করতে পারে। তবে কারখানাগুলোর প্রথম পছন্দ বাংলাদেশ হওয়ায় সরকার সে ধরনের সিদ্ধান্ত নিবে না বলে অর্থনীতিকরা আশা করেন। মালয়েশিয়ায় শ্রম বাজারে কেপ্লিকেসি হচ্ছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ায় একটি গ্রুপের অপপ্রচার এবং অতিরিক্ত খরচ। যদিও অতিরিক্ত খরচ করে বাংলাদেশ হতে শ্রমিক আসছে তথাপি নুন্যতম একহাজার রিংগিত বেতন এবং তিন বছরের চুক্তি কারো মনেই শান্তি এনে দিচ্ছে না। 

বিদ্যমান শ্রমিক নিয়োজন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশি জনশক্তির সাথে সংশ্লিষ্টরা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। তাদের এ বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় গতকাল থেকে জড়তোলেছে।
তাদের বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো, "মালয়েশিয়া জনশক্তি রপ্তানী ইতিহাসের কলংকিত অধ্যায়।

সিন্ডিকেট সদস্য ১০ লাইসেন্সের প্রতি চুড়ান্ত সতর্ক বার্তাঃ
এতদ্বারা মালয়েশিয়া জনশক্তি রপ্তানীর নিয়ন্ত্রক সিন্ডিকেট সদস্য, নির্লজ্ব ১০ লাইসেন্স মালিকদের দৃস্টি আকর্ষন করে বলছি-

জীবিকার তাগিদে অথবা মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানীর সাথে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে সিন্ডিকেটের সকল অন্যায় সহ্য করে আমরা অন্যান্য মালিকেরা ব্যবসা করে আসছে। অনেক সময় আপনাদের অত্যাচারের  মাত্রা চরমসীমায় পৌছে গেলেও মুখবুজে সহ্য করা ছাড়া আমাদের কিছুই করার ছিলনা।

স্বপন সাহেব ঘুমের ভিতর রাতের বেলা যে স্বপ্ন দেখতেন, সকালবেলা বাকী ৯ জন ছাগলের মতো সেটাই ফলো করতেন।

বেহায়া স্বপন ও দূর্নীতিবাজ আমিনের চামচারা হুসিয়ার-সাবধান।

মালয়েশিয়ার জনগন ভোটের মাধ্যমে দূর্নীতিবাজ অন্যায়কারী রক্তচোষাদের পতন ঘটিয়ে জনগনের সরকার প্রতিস্ঠা করেছেন। এটা একটা জলজ্যান্ত দৃস্টান্ত। মানুষের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে যায় তখন পরিণতি এমনি হয়ে থাকে।

সময়ের প্রয়োজনে সিন্ডিকেট ১০ লাইসেন্সের করণীয় পদক্ষেপ, যেটা তারা করতে পারেন-

১। নিজেরা পরিবর্তন হয়ে ২৪ ঘন্টার ভিতরে সার্ভিস চার্জ সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে এসে সবাইকে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিতে পারে।

২। সকল ব্যবসায়ী মিলে ১ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশের সকল সংশ্লিস্ট কতৃপক্ষকে অভিহিত করে জুতাপেটার মাধ্যমে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।
এমতাবস্থায় ১০ লাইসেন্সের জন্য করণীয়ঃ

১। যেহেতু মালয়েশিয়ার পূর্ববর্তী দূর্নীতিবাজ সরকার নাজিবের পতন হয়েছে,সেহেতু তার নামে আদায়কৃত ৩০০০ রিংগিত বাদ দিয়ে রক্তচোষা আমিন ও  স্বপপনের ২০০০ রিংগিত সার্ভিস চার্জ রেখে সহনীয় সার্ভিস চার্জ ঘোষণা করা।।

২। শনি বার অর্থাৎ ১২-৫-২০১৮ইং এর মধ্যে মিটিং করে নতুন সিদ্ধান্ত সকলকে জানিয়ে দেয়া।।

৩। নতুন সিদ্ধান্ত অদ্য হইতে পরবর্তী সকল ফ্লাইটের ব্যপারে কার্যকর হইতে হইবে।।

অন্যথায় নির্লজ্ব ও বেহায়া সিন্ডিকেট সদস্যদের বিরুদ্ধে নিরীহ ও ভুক্তভোগীদের যা করণীয়-

১। অদ্য হইতে ভিষা লাগানো সকল ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া।

২। নতুন প্রধাণমন্ত্রী তুন ডঃ মহাথির বিন মোহাম্মদের নিকট ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে এবং মালয়েশিয়ান কোম্পানী মালিকদের পক্ষথেকে আমিন,স্বপন সিনারফ্লেক্স বাংলাদেশের মাধ্যমে নাজিব রাজ্জাকের নামে এবং তাদের নিজেদের জন্য মোট ৫০০০/ রিংগিত আদায়ের অভিযোগ সর্বস্তরের পর্যায় হতে আগামী সোমবারের মধ্যে অভিযোগ দাখিল করা হইবে।।

৩। সংশ্লিস্ট মন্ত্রণালয় এবং মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা,এবং মিডিয়ার সম্মুখে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে ব্যপক প্রচারের ব্যবস্থা করা।।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়া দূতাবাসের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করা,

এই মর্মে যে,কলিং ভিষা আসার পরে কেন আমরা সিনারফ্লেক্সের মাধ্যমে ছাড়া ভিষা লাগাতে পারবো না।।
একই ভাবে সিনারফ্লেক্স বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করতে হবে, কোন আইনগত অধিকারের বলে তারা শুধুমাত্র ১০ লাইসেন্স ছাড়া অন্যকারো লাইসেন্সের মাধ্যমে ভিষা প্রসেস করে আসছে? 

এবং কিসের অনুমতিতে তারা এমন বৈষম্য মূলক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন, তাদের আইনগত ভিত্তি কি?
মেডিক্যাল চেক-আপ করার জন্য কেন মেডিক্যাল সেন্টার নিজেই যাত্রীর রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন না,কেন তাদের ১০ লাইসেন্সের স্মরনাপন্ন হয়ে তাদের মাধ্যমেই রেজিস্ট্রেশন করে আসতে হবে??
কেন সিনারফ্লেক্স টপ-আপের নামে সিন্ডিকেটকে মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশনে বাধ্য করছে?

এই সবের আইনগত ভিত্তি কি?
সমস্ত নিরীহ ভুক্তভোগী লাইসেন্স মালিকেরা হাইকোর্টের মাধ্যমে শ্রম-জনশক্তি ও প্রবাসী কল্যান মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে রীট আবেদন করে এই সমস্ত অন্যায় ও অনিয়মের অবসান চাইবো।।
কেন বায়রার সকল সদস্য-সদস্যা ভাই ও বোনেরা তাদের নিজ নিজ লাইসেন্সের মাধ্যমে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করে ছাড়পত্র পাবো না?
কেন ঢাকা হতে নিজ নিজ লাইসেন্সের নামে নিয়োগানুমতিপত্র এবং বহিঃগমন ছাড়পত্র পাবো না? এর আইনগত ব্যখ্যা কি?
লোভী-নির্লজ্ব ও রক্তচোষা সিন্ডিকেট সদস্যরা শুনে রাখুনঃ

আমাদের রিজিকের উপর অন্যায় হস্তক্ষেপ করে, আমাদের রক্তচুষে আমাদের সর্বশান্ত করে ছেড়েছেন,সুতরাং আমাদের হারানোর কিছু নাই।। বরং আপনাদের ১০ জনের শোষনের কবল হতে মুক্তি পেতে আমরা আমাদের সর্বশক্তি নিবেদিত করে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। তবুও যদি আপনাদের একটু বোধোদয় হয় এবং লোভের মাত্রা একটু নিয়ন্ত্রিত করতে পারেন,

আমরা আশা করবো আপনারা সিন্ডিকেট সদস্যরা আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে স্বপ্রনোদিত হইয়া এর কোন সহনীয় সমাধান ঘোষণা করে বায়রার সকল সদস্য/সদস্যা ভাই বোনদের জন্য কিছুটা নমনীয় হবেন এবং সম্মিলিত ভাবে ব্যবসা করার জন্য এগিয়ে আসবেন।।

অন্যথায়,রবিবার হইতে আমরা আমাদের জীবন ও জীবিকার তাগিদে সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য সমবেত পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে বাধ্য হইবো।।

প্রশ্ন হল যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এমন হুংকার দিচ্ছেন তারা ভুলেও কম খরচে কর্মী প্রেরণের ঘোষণা দেয় নি! অথচ বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া কারখানায় নিয়োজন পর্যন্ত সব খরচ এই কর্মীরাই বহন করে। টাকা দিলে যে চাকরি হয় এটাই তার বড় প্রমাণ যে চাকরি কিনে নিচ্ছে গরিব মানুষ। 

বর্তমানে দুইবার মেডিক্যাল করাতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কর্মীরা অর্থাৎ বাংলাদেশে মেডিক্যাল করে উত্তীর্ণ হয়ে মালয়েশিয়া এসে আবার মেডিকেল করলে অনেকের নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে এবং দেশে ফেরত যেতে হচ্ছে। অথচ তিন থেকে চার লাখ টাকা দিয়েছে তার এক কানা কড়িও ফেরত পায় না!! নতুন সরকারের নিকট প্রত্যাশা যে এধরনের কাজ যেন না হয়। সকল ক্ষেত্রের কর্মীরা পুলিশ, ইমিগ্রেশন, কারখানা ও এজেন্ট এর হয়রানি ছাড়াই ভালভাবে কাজ করতে পারে মালয়েশিয়ার স্বপ্নদ্রষ্টা প্রধানমন্ত্রী তুন ডাঃ মাহাথির মোহাম্মদের কাছে এমন প্রত্যাশা আশা করছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকরা ।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: মে ১২, ২০১৮

প্রতিবেদক: আহমাদুল কবির

পড়েছেন: 9658 জন

মন্তব্য: 0 টি