মালয়েশিয়ায় আবারও করোনার হানা! ১ প্রদেশে চুড়ান্ত লকডাউন

Img

মালয়েশিয়ায় কয়েকমাস করোনাভাইরাস সংক্রমণ সহনীয় পর্যায়ে থাকার পর আবার আশঙ্কাজনক হারে হানা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৫ জন সারাদেশে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। নতুন করে করোনা মহামারি ঠেকাতে  এই পরিস্থিতিতে  সাবাহ প্রদেশের ৪টি জেলা যথাক্রমে, লাহাদ দাতু, তাওয়াউ, কুনাক এবং সেম্পর্নাতে মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (এমসিও) কার্যকর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিনিয়র মন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরি ইয়াকব। 

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, আগামীকাল ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত এমসিও কার্যকর থাকবে। এই সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৯ লক্ষ ৬২ হাজারের ও বেশি বাসিন্দা রয়েছেন।

ইসমাইল সাবরি বলেন, আদেশ কার্যকর থাকাকালীন ১৪ দিনের মধ্যে বাসিন্দাদের অঞ্চল ছাড়তে দেওয়া হবে না। অনাবাসী এবং দর্শনার্থীদেরও এই সময়ে চারটি জেলায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনীয় পরিষেবা সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহকারী দোকান ব্যতীত সমস্ত ব্যবসায়ীক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

এসময় এলাকাগুলতে প্রবেশ বাহির বন্ধ করে দেওয়া হবে।  পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী, সিভিল ডিফেন্স, রেলা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে উক্ত জেলাগুলি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হবে। আমরা জনসাধারণকে শান্ত থাকার এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে তাদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়ার এবং কর্তৃপক্ষের জারি করা আদেশগুলি অনুসরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

পূর্ববর্তী সংবাদ

‘জাতির সংকটে-সংগ্রামে-উন্নয়নে-অর্জনে একটিই নাম শেখ হাসিনা’

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, জাতির সংকটে, সংগ্রামে, উন্নয়নে, অর্জনে দেশের মানুষের পাশে ও নেতৃত্বে একটিই নাম, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে সোমবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘নারীর ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনা: বিশ্ব নেতৃত্বে বাংলাদেশ’ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। 

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক সিনিয়র সচিব জুয়েনা আজিজ। সেমিনারের প্রতিপাদ্য বিষয়ে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস এসোসিয়েশন সভাপতি আঙ্গুর নাহার মন্টির মূল প্রবন্ধের ওপর আলোকপাত করেন নিউজ২৪ টিভি চ্যানেলের প্রধান বার্তা সম্পাদক শাহনাজ মুন্নী।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন। জননেত্রী শেখ হাসিনার জীবন একটি সংগ্রামী জীবনের উপেখ্যান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলাদেশে পদার্পণ করেছিলেন। সেদিন লক্ষ মানুষের সমাবেশে জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তিনি মা-বাবা-ভাই-ভাবীসহ পরিবারের সবাইকে হারিয়ে বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে তাদেরকে খুঁজে পেয়েছেন। এই প্রায় ৪০ বছরের পথ চলায় জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের পাশে থেকেছেন সংকটে, সংগ্রামে, উন্নয়নে, অর্জনে একটিই নাম হয়ে।’ 

‘শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু তিনি বারবার মৃত্যু উপত্যকা থেকে ফিরে এসে কখনো বিচলিত হননি, কখনো দ্বিধান্বিত হননি বরং আরো প্রত্যয়ী হয়ে, আরো দীপ্ত হয়ে বাংলাদেশের মানুষকে তিনি এগিয়ে নিয়ে গেছেন’ বলেন হাছান মাহমুদ। জননেত্রী শেখ হাসিনার একটি অতুলনীয় গুণ হচ্ছে সমস্ত সংকটের মধ্যে প্রচন্ড ঝঞ্ঝার মধ্যেও তিনি অবিচল থেকে সংকট মোকাবিলা করতে পারেন আর সে কারণেই তিনি অনন্য, বলেন তথ্যমন্ত্রী। 

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বেই বাংলাদেশের শেকলবন্দি গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছে, মার্শাল ডেমোক্রেসি থেকে আমরা পূর্ণ গণতন্ত্র পেয়েছি, বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার জাদুকরী নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে, খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। 

এসময় নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ আজকে পৃথিবীর সামনে উদাহরণ উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, বাংলাদেশে ১৯৯৬ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর শেখ হাসিনা স্থানীয় সরকার পর্ষদে নারীর জন্য ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করেছিলেন। বাংলাদেশে কেউ কখনো ভাবেনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার বা পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলর বা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান হবে নারী। জননেত্রী শেখ হাসিনার কারণে স্থানীয় সরকার পরিষদ নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে। এখন শুধু এসপি নয়, মেজর জেনারেল থেকে শুরু করে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারপতি, সচিব থেকে শুরু করে এমন কোনো পদ নেই যেটি নারী অলংকৃত করেনি।

যখন কোনো বিশ্ব সভায় জননেত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত হন, তখন তিনিই মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হন, বিশ্বসভা শেখ হাসিনার উপস্থিতির কারণে আলোকিত হয়, উল্লেখ করেন ড. হাছান। তিনি বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ শুধুমাত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিই নন, শুধুমাত্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীই নন, কর্মদক্ষতা, দুরদৃষ্টি এবং সাফল্যের কারণে তিনি আজ বিশ্বনেত্রীর আসনে আসীন। তিনি চ্যাম্পিয়ান অব দ্যা আর্থ, মাদার অব হিউমেনিটি। জননেত্রী শেখ হাসিনা তার গুণাবলী দিয়ে এই সম্মান অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিনে আমাদের প্রার্থনা, তিনি যেন যুগ যুগ ধরে আমাদেরকে নেতৃত্ব দিতে পারেন।’
 

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার