মালয়েশিয়াস্থ গোপালগঞ্জ জেলা সমিতির সহযোগিতায় অবশেষে দেশে ফিরলেন ডলি বেগম

প্রবাসীর দিগন্ত | প্রবাস ডেস্ক : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮

মালয়েশিয়াস্থ গোপালগঞ্জ জেলা সমিতির সহযোগিতায় গত ১৭ ই সেপ্টেম্বর অবশেষে দেশে ফিরেছন গোপালগঞ্জ জেলার মাক্সুদপুর উপজেলার আব্দুল গফুর শেখের মেয়ে ডলি বেগম।

মালয়েশিয়ার বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রবাসীর দিগন্তের এই প্রতিবেদকে ভুক্তভুগি ডলি বেগম জানান, ভালো কাজের লোভ দেখিয়ে (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এক প্রতারক দালাল ২০১৭ সালের এপ্রিলের দিকে তাকে মালয়েশিয়া নিয়ে আসেন। একটু সুখের আশায় এবং পারিবারিক সচ্ছলতার জন্যে মানুষের নিকট থেকে ধার ও বিভিন্ন সমিতি থেকে লোন করে তিনি ভিসার খরচ যোগান।

মালয়েশিয়ায় আসার পরে তাকে বিক্রি করে দেয়া হয় বাংলাদেশী অন্য এক দালালের কাছে যেখানে তাকে সহ্য করতে হয়ছে ভয়াবহ মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। কিছু দিন পর সুযোগ বুঝে তিনি পালিয়ে এসে বাংলাদেশী রহিম নামের একজনের গার্মেন্টসে কাজ নেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, গ্রামের ভাষায় বলে 'পোড়া কপাল যেখানে যায় পুরতে পুরতে যায়' এমনটিই ঘটে আবার ডলির সাথে। বেশ কয়েক মাস কাজ করার পরেও ভাগ্যে জুটেনি মাসিক বেতন।

কোন উপায়ন্তর না দেখে আবার সেখান থেকে চলে এসে বাংলাদেশ অধ্যষিত হাংতুয়া সহ বিভিন্ন বিল্ডিং কনেক্টেশ সাইড গিয়ে বিক্রি করতে থাকে আম, আমড়া, পিয়ারা সহ বিভিন্ন ফল, এতে কোন রকম চলতে থাকে তার বিষাদ ময় প্রবাস জীবন। কাজের কোন ভিসা না থাকায় পরতে হয় পুলিশের হয়রানি সহ বিভিন্ন সমস্যা।

এদিকে ম্যালয়েশিয়া সরকারের ঘোষনা অনুযায়ী বৈধ হওয়ার সুযোগ থাকলেও ডলি সেই আওতায় পরেন না বলেই তিনি আর সেই সুযোগ নিতে পারেনি। অন্যদিকে স্ব-ইচ্ছায় দেশে ফিরার সুযোগ ৩০ আগষ্ট ২০১৮ পযর্ন্ত বেধে দেয় ম্যালয়েশিয়া সরকার আর যদি এই সুযোগ কেউ না নেই তাহলে তাদের জন্যে রয়েছে জেল জরিমানা সহ বিভিন্ন সাজা।

এদিকে ডলি কি করবে বুঝে উঠতে পারে না, অবশেষে সিদ্ধান্ত নেই দেশে ফিরে যাবে, কিন্ত কি ভাবে? ইচ্ছা করলেই তো দেশে ফিরে যাওয়া যায়না। দরকার ট্রাভেল পাস সহ বিমানের টিকিট। অভিবাবক হীন একটা মেয়ে কোথায় যাবে আর এতো টাকা কোথায় পাবে? পূর্বে রহিমের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাকে পরতে হয় বিভিন্ন সমস্যায় এবং দেওয়া হয় প্রাণ নাশের হুমকি। মালয়েশিয়া বসবাসরত অনেক বাংলাদেশীর কাছে রহিমের কাছ থেকে টাকা আদায়ের কথা বলেন কিন্তু অনেকেই আস্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

বাড়িতে ছেলে, মেয়ে, বৃদ্ধ মা, বাবার চিন্তায় দিন দিন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন ডলি। ফল বিক্রিয় করতে করতে পরিচয় হয় সুলতান নামে একজন ছেলের সাথে তারই মধ্যমে গরীবের সাংবাদিক নামে পরিচিত প্রবাসীর দিগন্তের মালয়েশিয়া প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীর কাছে আসে ডলি এবং তার কাছে বিস্তারিত জানায়। ঘটনাটা জানার পর সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী ম্যালয়েশিস্থ বাংলাদেশী কমিউনিটির বিভিন্ন নেতাদের সহ এদেশে বিপদ্গস্থ বাংলাদেশীদের বিভিন্ন রকম সমস্যার সমাধান করবেন বলে যারা নিজ নিজ জেলার নামে সমিতি বা এসোসিয়ন করেছেন তাদের নিকট আর্থিক সাহায্যের জন্যে অনুরোধ করেন। এতে তেমন কোন সারা না পেলেও হাল ছাড়েনি তিনি। অবশেষে মালয়েশিয়াস্থ গোপাল গঞ্জ জেলা সমিতির প্রচার সম্পাদক ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মালয়েশিয়া শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মওদুদ মোল্লাকে জানালে সে গোপালগঞ্জ জেলা সমিতির সার্বিক সহযোগিতায় তার বিমানের টিকিট সহ মালামাল দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

গোপালগঞ্জের মেয়ে ডলি মালয়েশিয়াস্থ গোপাল গঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি শওকত আলী (তিনু), সাধারন সম্পাদক তারিকুজ্জামান মিতুল, উপদেষ্টা ধাতু ইবাদত সহ সমিতির সকল সদস্যকে সার্বিক সহযোগিতার জন্যে ধন্যবাদ জানান।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮

প্রতিবেদক: প্রবাসীর দিগন্ত

পড়েছেন: 838 জন

মন্তব্য: 0 টি