মালয়েশিয়ায় মাসব্যাপী লকডাউনে বাড়ছে জনগণের ক্ষোভ

Img

মালয়েশিয়ায় করোনার চতুর্থ ঢেউ মোকাবিলায় ১ মাস লকডাউন ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। কিন্তু হঠাৎ করে সরকারের এই মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (এমসিও) ঘোষণায় দেশটির নাগরিক ও সাধারণ জনগণ মেনে নিতে পেরে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন সংসদ অধিবেশন স্থগিত থাকায় জনপ্রতিনিধিরা সেখানে গিয়ে জনগণের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে পারছেন না।

শনিবার (১৫ মে)  সকালে দেশটির জাতীয় দৈনিক মালায় মেইল এ বিষয়ে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

মালয়েশিয়ায় প্রথম দফায় ৭ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত এমসিও লকডাউন ঘোষণা করে সরকার।  এর ২ দিন পরেই প্রধানমন্ত্রী তান শ্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিন ১২ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেন। প্রতিবেদনে আরো বলা আরো হয়, লকডাউন ঘোষণার ২ দিন আগেও সিনিয়র মন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব বলেছিলেন তারা দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণার তাদের কোন পরিকল্পনা নেই। টানা লকডাউনে বিরক্ত সাধারণ  জনগন এর থেকে বেরিয়ে আসার পথ খোঁজছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকার  জনগণের এই ক্ষোভ সরকারের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না সংসদের অধিবেশন স্থগিত থাকার কারনে। আবার সরাসরি সরকারের কর্মকান্ড নিয়ে সমালোচনা করলে ফৌজদারি আইনে দন্ডনীয় অপরাধ বিধায় তারা প্রকাশ্যে মূখ খোলছেন না। এই মাসব্যাপী লকডাউন নিয়ে জনগন পশ্ন তুলছে তারা বলছে এই ধরনের স্বিদ্বান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চিন্তা ভাবনা করা হয়নি।

জিওস্ট্রেটজি এর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ আজমি হাসানের মতে, এমসিওগুলিতে এই বিচ্ছিন্নতা ও অসন্তোষ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশে থাকা কোভিড -১৯ মহামারী পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের সক্ষমতার প্রতি দেশটির জনগণের আস্থা হ্রাস পাবে।

মালয়েশিয়া লকডাউনে দেশটির নাগরিকদের পাশাপাশি প্রবাসীরাও তাদের কাজকর্ম ও ব্যবসা বানিজ্য হারিয়েছেন। যে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে সেটা পূরণ করে তারা নিজ কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। এদিকে অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক খায়রুল দাযামি দাউদ হুশিয়ার করে বলেছেন প্রবাসীরা ঘরের বাইরে গিয়ে যে শর্ত দেওয়া হয়েছে এটা শর্ত ভঙ্গ করলে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এজন্য তারা কর্মহীন অবস্থায় অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার