মালয়েশিয়া পিকে আর দলের প্রধানআনোয়ার ইব্রাহীম মুক্তি পাচ্ছেন মঙ্গলবার

আহমাদুল কবির | নিজস্ব প্রতিবেদক : মে ১৪, ২০১৮


মালয়েশিয়ার কারাবন্দি রাজনৈতিক নেতা আনোয়ার ইব্রাহীম মঙ্গলবার মুক্তি পাচ্ছেন। এদিন তার পূর্ণাঙ্গ রাজকীয় ক্ষমা ঘোষণা করা হবে। এমনটিই জানিয়েছেন তার দলের নীতি-নির্ধারকরা।
দলীয় সূত্রে  জানা গেছে , আনোয়ার ইব্রাহীমের মুক্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার তার রাজকীয় ক্ষমা ঘোষণা করা হবে।
একই সঙ্গে তিনি বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাবেন। এর আগে শুক্রবার মালয়েশিয়ার নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ঘোষণা দিয়েছিলেন, আনোয়ার ইব্রাহীমকে ক্ষমা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজা আগং। তবে আনোয়ারের মুক্তির দিনক্ষণ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি মাহাথির। বলেছিলেন, দ্রুতই তার মুক্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে কথিত সমকামিতার অভিযোগে ৭০ বছর বয়সী আনোয়ারকে জেলে পাঠান সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাক। তবে এই অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন আনোয়ার। তার দাবি, সমকামিতার অভিযোগ পুরোপুরিভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্যই এই অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ক্ষমতাসীন জোটের মতবিরোধ মেটানোর চেষ্টা মাহাথির:
মন্ত্রিসভায় অবস্থান নিয়ে মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যকার টানাপোড়েন কাটানোর চেষ্টা করছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ও কারাদন্ড পাওয়া রাজনীতিক আনোয়ার ইব্রাহিম। রবিবার বিষয়টি নিয়ে জেল থেকেই বিবৃতি দিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। আর টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে মাহাথির বলেছেন, শুরুতেই মন্ত্রিসভার অনুপাত নিয়ে চিন্তা করা উচিত হবে না বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ও পিকেআর দলের নেতা আনোয়ার ইব্রাহিম।
গত ৯ মে বুধবারের নির্বাচনে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা বারিসান ন্যাশনাল সরকারকে হারিয়ে জয়লাভ করে চার দলের নতুন জোট। তবে এত তাড়াতাড়ি জোটটির মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হওয়ায় তাদের একতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে পাঠানো এক বিবৃতিতে আনোয়ার ইব্রাহিম তার পিপলস জাস্টিস পার্টি-পিকেআর সদস্যদের মাহাথিরের সরকারকে ‘শক্তিশালী ও স্থিতিশীল’ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি এটাও বলেছেন, মাহাথিরের সঙ্গে আলোচনায় তিনি আরও বিস্তৃত সমঝোতার মাধ্যমে মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে পিকেআর’র দাবি তুলে ধরেছেন।
টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে মাহাথির বলেছেন, শুরুতেই মন্ত্রিসভার অনুপাতের দিকে খেয়াল করা উচিত হবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা বাকি মন্ত্রিসভা গঠন করার পরে এটা দৃশ্যমান হবে। নিশ্চিতভাবে সেখানে প্রত্যেক দলের চাওয়া-পাওয়া নিয়ে কিছু দ্বন্দ্ব দেখা দেবে। এটা প্রধানমন্ত্রীই নির্ধারণ করবেন’।
মাহাথির ক্ষমতাসীন জোটের নেতা আর আনোয়ার জোটের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জেতা দল পিকেআর’র নেতা। এই দুজন প্রথমে বন্ধু, তারপর শত্রু ও পরে জোটের মিত্র হয়েছেন। তাদের এমন পরিবর্তনশীল সম্পর্কই গত তিন দশক ধরে মালয়েশিয়ার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে। এমনকি জোটের ভবিষ্যৎও এই দুইজনের সম্পর্কের ওপরই নির্ভর করছে।
মাহাথির শনিবার তার মন্ত্রিসভার মাত্র তিনজন সদস্যের নাম ঘোষণা করেছেন। তার ১০ জনের নাম ঘোষণা করার কথা ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জোট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি জোটের অন্য কারও সঙ্গে কোনও আলোচনা করেননি। আনোয়ার ইব্রাহিমের স্ত্রী ওয়ান আজিজাহকে মাহাথির মন্ত্রিসভায় রাখার পরও তিনি নতুন মন্ত্রিদের নাম ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না। জোটের একটি সূত্র জানায়, মতবিরোধের জেরেই তিনি সেখানে উপস্থিত হননি।
ওই ঘটনার পর মাহাথির হাসপাতালে আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আনোয়ার তার কাঁধের অপারেশন করিয়েছেন। সেখানে উপস্থিত থাকা একটি সূত্র জানায়, মাহাথিরের সঙ্গে আনোয়ারের সাক্ষাতের সময়কার পরিবেশ তেমন উষ্ণ ছিল না। এই মতবিরোধ কাটানোর জন্য তারা রবিবার আবারও সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করেন।
পিকেআর দলের জ্যেষ্ঠ সদস্য রাফিজি রামলি বলেন, ‘মন্ত্রিসভার জন্য তিনজনকে মনোনীত করা হলেও আমাদের অংশগ্রহণ ছাড়াই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে’। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মালায়েশিকিনিকে তিনি বলেন, ‘মাহাথির এটা চাপিয়ে দিয়েছেন। তিনি এক তরফাভাবে ওই ঘোষণা দিয়েছেন’।
গত ৯ মে’র নির্বাচনে পিকেআর ৪৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। জোটের অন্য দলগুলোর মধ্যে দ্য ডেমোক্র্যাটিক অ্যাকশন পার্টি- ডিএপি  ৪২টি, মাহাথিরের বেরসাতু পার্টি ১২টি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ সাবুর আমানাহ পার্টি ১১টি আসনে জয়লাভ করেছে।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: মে ১৪, ২০১৮

প্রতিবেদক: আহমাদুল কবির

পড়েছেন: 689 জন

মন্তব্য: 0 টি