মালয়েশিয়ায় সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার পাঁচ শতাধিক

শেখ সেকেন্দার আলী | নিজস্ব প্রতিবেদক : সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮

অবৈধদের বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পরই ৩+১ এর মাধ্যমে অবৈধ শ্রমিকদের দেশে ফেরার সুযোগ শেষ হতেই চলছে সাঁড়াশি অভিযান মালয়েশিয়ায়। ৩১ আগস্ট স্বাধীনতার প্রথম প্রহর থেকেই দেশব্যাপী চলমান সাঁড়াশি অভিযানে পাঁচ শতাধিক ও তার বেশি অবৈধ শ্রমিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানিয়েছে। তবে ইমিগ্রেশন এর পক্ষ থেকে ৩৯৫ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশী আছে তা এখনও অভিবাসন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

 অবৈধ অভিবাসী বিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় একজন ইমিগ্রেশন অফিসার মহিলা আহত হয়েছেন। সাঁড়াশি অভিযানের ফলে মালয়েশিয়ার বাঙালি অধ্যুষিত কোতারায়া এলাকা এখন ফাঁকা। এছাড়াও বাস  গুলোতেও আর দেখা মিলছে না বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের। অভিযানের ফলে মালয়েশিয়াতে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে বলে একাধিক মালিক এই প্রতিবেদককে  জানিয়েছেন, অনেকেই ভিসা থাকার সত্বেও গ্রেফতার হচ্ছেন বলে জানা গেছে। অনেকের এজেন্টর নামে ভিসা করে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছে। কিন্তু অভিবাসন বিভাগ বলছে অনুমতি বিহীন অন্য জায়গায় কাজ করলেই তাদেরকে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত করা হবে।অভিবাসন বিভাগের প্রধান জানান, মালিশের সম্ভাব্য সব জায়গায় আমাদের অভিযান পরিচালিত হবে এবং যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের আইনের আওতায় আনতে পারছি তদন্ত আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ শ্রমিক এবং মালিকদের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।

বিভিন্ন সময়ে অবৈধ অভিবাসী ধরা পড়লেও এবারের বেলায় রয়েছে ভিন্ন। সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রিঙ্গিত সহ জেল জরিমানার বিধান রয়েছে। তিন বাহিনীর সর্বাত্মক প্রচেষ্টা মালয়েশিয়াকে অবৈধ অভিবাসী মুক্ত করা হবে বলে জানালেন অভিবাসন বিভাগের প্রধান। যে তিন বাহিনী দিয়ে এবারো অভিযান সাজানো হয়েছে তার মধ্যে রয়েছেন। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন, পুলিশ ও রেলা। অবৈধ অভিবাসীদের বাসস্থান ও কর্ম ক্ষেত্র চিহ্নিত করার জন্য রয়েছেন বিভিন্ন বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করবে অভিবাসন বিভাগ। এছাড়াও মালয়েশিয়ার  পরিত্যক্ত ঘর, ব্রিজের নিচে ও জঙ্গলে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান অভিবাসন বিভাগের প্রধান।

অভিবাসীদের জনসমাগম সহ একত্রিত হতে দেখলেই অভিবাসন বিভাগের ফেসবুক পেজে অথবা টেলিফোন নাম্বার এ যোগাযোগ করতে বলা  বলা হয়েছে। তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রেখে অভিযান পরিচালনা করা হবে। শুধু অবৈধ অভিবাসী সন্ধানে নয় বরং তাদের মালিক কেউ আইনের মুখোমুখি করা হবে এবারের অভিযানে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত কোন প্রকার আউট পাস সংগ্রহ করতে দেয়া হবে না বলে জানান  অভিবাসন বিভাগ প্রধান। বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ, বিদেশি  নাগরিক দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান আরো জোরদার করা হবে। এছাড়া  কাজের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও কাজ করলে তাকেও অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে।  আর অবৈধ হিসেবে ধরা পড়লেই ব্ল্যাক লিস্ট  সহ জেল জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮

প্রতিবেদক: শেখ সেকেন্দার আলী

পড়েছেন: 4215 জন

মন্তব্য: 0 টি