মালয়েশিয়ায় এই প্রথম মালিক পরিবর্তনের সুযোগ পাবে বৈধ বাংলাদেশিরা। সেদেশের সিনিয়র মন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকুবের সাথে আলোচনায় এমটি জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত হাইকমিশনার মহ শহীদুল ইসলাম।

চলমান কোভিড পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের অনুরোধের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৬ জুন ) মালয়েশিয়া সরকারের সিনিয়র মন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরি ইয়াকুবের সাথে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলামের সাথে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দু’ দেশের দ্বিপাক্ষিক বিষয়াদি- বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, শ্রমিক, বাণিজ্য, বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং কভিড -১৯ পরিস্থিতিতে উভয় দেশের মধ্যে নবমাত্রায় কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। 

 করোনা ভাইরাস মহামারীর মধ্যেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় এই বৈঠকের সম্মতি প্রদান করায় তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং অত্যন্ত সফলভাবে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলা করায় মালয়েশিয়া সরকারের প্রশংসা করেন।  

মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, দু’ দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো মজবুত হবে। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় শেখ হাসিনার প্রসংশা  করেন।   তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। 

এসময় বাংলাদেশের হাইকমিশনার কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিদেশী কর্মীদের নিয়োগকর্তা পরিবর্তন করার সুযোগ প্রদান করায় মালয়েশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈধতা প্রদানের জন্য অনুরোধ করেন।

জবাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠতা ও সততার প্রশংসা করেন এবং বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন। বিগত ৬ বছরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে তিনি জানান।   

বৈঠকে হাইকমিশনের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা কমোডর মুশতাক আহমেদ এবং ডেপুটি হাইকমিশনার ওয়াহিদা আহমেদ এবং মালয়েশিয়ার আন্ডার সেক্রেটারি মোহাম্মদ এমরান বিন হাসান, প্রিন্সিপ্যাল এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি নজরুল জাফরি বিন মুহাম্মদ নাজরি ও ডমিনিক ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার চলাকালে মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কোন দেশের রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনারের সাথে এই প্রথম মুখোমুখি বৈঠক করলেন।