মানুষ কাকে বলে, কী করলে মানুষ হওয়া যায়, শুধু মানুষের ঘরে জন্মগ্রহণ করলেই কি মানুষ হওয়া যায় ? মান এবং হুশ এই দুই গুনাবলী যার রয়েছে তিনিই মানুষ । মানুষের রয়েছে মন, মনুষ্যত্ব, ইনসানিয়াত নামক মাণবিক গুণাবলি।“যার মধ্যে মনুষ্যত্ব আছে সে-ই মানুষ। মনুষ্যত্ব হলো মানুষের চিরাচরিত বা শাশ্বত স্বভাব বা গুণ।” যেমন দয়া-মায়া, ভালোবাসা, পরোপকারিতা, সহানুভূতি, সম্প্রীতি, ঐক্য ইত্যাদি। কিন্তু আমরা মানুষ হিসেবে নিজেদেরকে কতটা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি ? ভালো-মন্দ,-স্বার্থবাদী দুই ধরনের মানুষেরই পদচারণা ঘটেছে এই নিখিল বিশ্বে।কিন্তু তারা সকলেই কি মানবতা-মনুষ্যত্বকে প্রতিষ্ঠা করে নিজেদেরকে মানুষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে ? আমাদের নিত্য কর্মকাণ্ডে মনুষ্যত্বের চিরন্তন-সনাতন প্রতিফলন কি ঘটাতে পারছি ? কেবল মাত্র যাদের মধ্যে মানবিক গুণ রয়েছে কেবল তাদেরকেই মানুষ বলতে পরি।

"এ জগতে হায় সেই বেশি চায়
আছে যার ভুরি ভুরি।
রাজার হস্ত করে সব কাঙ্গালের ধন চুরি"

মানুষের চাহিদার কোন শেষ নেই।বৈধ অবৈধ যেভাবেই হোক আমরা আমদের চাহিদা পুরনের জন্য, সমাজে ভালভাবে বেঁচে থাকার জন্য সম্পদ আহোরন করি।নিজের তথা পরিবারের চাহিদা পূরনের পর সমাজ ও রাষ্ট্রের চাহিদায় সেই অর্জিত সম্পদ ব্যয় করি মানব কল্যানে। কিন্তু একবার কি আমরা ভেবে দেখেছি এগুলিই আমাদের পরপারের আসল সম্পদ নয়। এই ক্ষনস্থায়ী পৃথিবীর সমস্ত সম্পদই ফেলে শূন্য হাতেই বিদায় নিতে হবে। আমাদের যশ, খ্যাতি, প্রভাব, প্রতিপত্তি, ক্ষমতার চেয়ার সম্পদের বিশাল প্রিয় এলাকা সবই ছড়তে হবে। তবুও আমাদের হুশ হয় না। দখলবাজি করে সম্পদের পাহাড় গড়ি। এই সম্পদ কিছুই আমাদের সাথে কবরে যাবে না। সবার নিদিষ্ট সাড়ে পা্ঁচ গজ মার্কিন কাপড় আর সাড়ে তিন হাত জমিই বরাদ্দ। তাই নকুল কুমার লিখেছেন –

"ভাব, কবরে কি করে রবে একা একা?
অন্ধকারে বাতি নাই, বন্ধ ঘরে সাথী নাই
তোমার প্রিয়াও দেবে না তোমারে দেখা।
বালিশ নাই মশারী নাই কেমন করে ঘুমাবে ভাই?
নাই এয়ারকন্ডিশনের ঠাই, নাই হিটার পাখা।"

এক মুহুর্ত বিজলী না থাকতে আমরা অস্থির হয়ে পড়ি, কেউ আমাদের এক হাত জমি দখল করলে সেটা উদ্ধারের জন্য সংঘর্ষে লিপ্ত হই একবারও ভাবি না এসবই মিছে। কিছুই সঙ্গে কবরে যাবে না।

""দামী গাড়ি পাকা বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে পাড়ি
যাবে না থাকা।
বসার চেয়ার টাকার সিন্ধুক আত্ম রক্ষার পিস্তল বন্দুক
ছাড়তে হবে বিশাল মুল্লক প্রিয় এলাকা।"

তারপরও আমরা ক্ষমতার দাপটে সব কিছু বশে রাখতে চাই।কবে আমাদের মানুষ নামের “মান” ও “হুশ” হবে বলতে পারেন ? আমরা কি পারি না সমস্ত হিংসা প্রতিহিংসা, বৈষম্য দ্বন্দ্ব, সংঘাত ভুলে এক কাতারে শামিল হতে? সুন্দর সুখময় পৃখিবী গড়তে এক হতে ?