মহাজনদের ঋণের জালে বন্দী পাইকগাছার জেলে পল্লীর বাসিন্দারা

Img

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলেরা গহীন সমুদ্রে জীবন জীবিকার জন্য ছুটে যান।দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন তারা। কিন্তু তারপরও নেই তাদের নিরাপত্তা।কোন ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান তাদের ঋণ সহায়তা দেয় না। আর মহাজনদের ঋণের জালে বন্দি হয়ে পড়েন তারা। যা তাদের জীবনযাত্রাকে সংকটময় করে তুলেছে। খুলনার জেলে পল্লী গুলো ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, খুলনার পাইকগাছা উপজেলার মাহমুদকাঠী,হেতমপুর, কাটাখালি, হাবিবনগর, নোয়াকাটি, রামনাথপুর,কাঠিপাড়া গ্রামের ৪০০ পরিবার সমুদ্রে মৎস্য আহারনের সঙ্গে জড়িত। এসব জেলে ৪২ হাত দৈর্ঘ্য ও ১২ হাত প্রস্থের নৌকা নিয়ে অক্টোবরের শেষে সমুদ্রে পাড়ি জমান। সেখানকার দুবলার চরের, আলোর কোল, নারকেলবাড়িয়া, এলাকায় মাছ শিকার করেন। আর মার্চ মাসে আবার বাড়ি ফিরতে শুরু করেন।একশ্রেণীর মহাজনের কাছ থেকে ১ লাখ টাকায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা সুদে দাদন নিয়ে পথে নামেন জেলেরা।এভাবে ৭-৮ জেলের নৌকাপ্রতি খরচ হয় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। প্রতিবছর কোন ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই এ জেলেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা ভাসান সাগরের বুকে।

ভুক্তভোগী জেলেরা বলেছেন, টানা ৫ মাস সমুদ্রে মৎস্য আহরণ শেষে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন খুলনার জেলে পল্লীর বাসিন্দারা।কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের পরিবারে আনন্দ নেই।  প্রথমবারের মতো জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম(একটি এনজিওর দেওয়া) নিয়ে সাগরে তরী ভাসালেও ঘন বৃষ্টি সহ বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হতে হয়েছে তাদের। আর যারা জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম নিতে পারেনি তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন। সুশান্ত বিশ্বাস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে সাগরেও। তাই বেশি দুর্যোগের শিকার হতে হচ্ছে। এতে সুবিধা বঞ্চিত জেলেরা কাঙ্ক্ষিত মৎস্য আহরণ করতে পারেনি। ফলে তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন, যা তাদের জীবনযাত্রাকে সংকটময় করে তুলছে।

অর্থনীতির চালিকাশক্তির এক অংশ এই জেলে সম্প্রদায়।তাদের দক্ষ করে তুলতে হবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে জেলেদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা, ব্যাংক ঋণ ও বীমা সুবিধার বিষয়টি ভাবতে হবে। তবে বৃহৎ এই জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি বেশি বেশি উদ্যোগ প্রয়োজন।কারণ তারা শুধু নিজেদের জন্য নয়, অর্থনৈতিক ভাবে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

পূর্ববর্তী সংবাদ

সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক পান ব্যবসায়ী নিহত

সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় রামকৃষ্ণ দেবনাথ(৫০) নামে এক পান ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে ও আহত হয়েছে একজন। তাৎক্ষনিকভাবে আহত ঐ ব্যাক্তির নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। বুধবার সকাল ৮টার দিকে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের বিনেরপোতা ঋ-শিল্পীর সামনে এই দূ্র্ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই পান ব্যবসায়ী সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বিঞ্চুপদ দেবনাথের পুত্র।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে রামকৃঞ্চ দেবনাথ পান কিনতে বাইসাইকেল যোগে পাটকেলঘাটা বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ঋ-শিল্পির সামনে পিছন থেকে একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দিললে দুজনেই রাস্তায় পড়ে গুরত্বর আহত হন। পথচারীরা তাদেরকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্তায় রামকৃঞ্চ দেবনাথ মারা যান।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি আরও জানান, নিহতের খবরটি রামকৃঞ্চের পরিবারকে জানানো হয়েছে। তার মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার