ভয়াবহ সীমান্ত হত্যা

Img

বর্তমান বিশ্বে এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। মানুষের মাথা যেন বোটার ফুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইচ্ছে করলেই ছিঁড়ে ফেলছে যে কেউ। কোন ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের মতের পার্থক্য হলেই বাধিয়ে দিচ্ছে হানাহানি, যুদ্ধ। এতে কত মানুষ হতাহত হচ্ছে তার হিসেব কে রাখে! তার উপর সীমান্ত হত্যাকান্ড একটি বড় ইস্যু মনে করা হচ্ছে। 
সীমান্ত হত্যার ইস্যুটি একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু। সীমান্ত হত্যার বিষয়টি আলোচনা করতে হলে প্রথমে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক সীমান্ত সুদান ও দক্ষিণ সুদানকে আলোচনায় আনতেই হবে। এই দুই দেশের সীমান্ত এলাকার দৈর্ঘ্য প্রায় ১,৩৫০ মাইল। এই সীমান্তে অতিসম্প্রতি ১২ জন সীমান্ত হত্যার শিকার হয় এবং শরণার্থী হয় প্রায় ১,৩০,০০০ জন। ২০০৫ সালে বিবিসির এক জরিপে দেখা যায় সুদানের দক্ষিণ করডোফান  প্রদেশ সুদান সীমান্তে ১.৫ মিলিয়নেরও বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটে। অনেক বিশেষজ্ঞগণ এটাকে দুই দেশের গৃহযুদ্ধের পরিণাম হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

মেক্সিকো ও ইউএসএ সীমান্ত আরেক ভয়ানক সীমান্তের নাম। এই সীমান্ত মাদক চোরাকারবারি ও অবৈধ অভিবাসীদের এক অভয়াশ্রম। এই দুই দেশের সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৯৫০ মাইল। ২০০৭ সালের হিসেব অনুযায়ী এখানে প্রায় ৪০ হাজার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এবার আসি বিশ্বের ৫ম দীর্ঘতম ও আরেক ভয়ানক সীমান্তের আলোচনায় যার দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫০০ মাইল। এখানে মৃত্যু যেন ওঁত পেতে থাকে প্রতিনিয়ত। এটা আর কোন দেশ নয়, বাংলাদেশ ও তার প্রতিবেশী দেশ ভারতের সীমান্ত। ২০০০ সালের পর থেকে আজঅবধি ১৫০০ সাধারণ ও বেসামরিক হত্যাকাণ্ড ঘটে এই দুই দেশের সীমান্তে। যার প্রত্যেকটি সংঘটিত হয় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক। তাদের ভাষ্যমতে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে শ্যূট অল সাইট অর্থাৎ দেখামাত্র গুলি এই বিতর্কিত নীতিতে প্রাণ গিয়েছে হাজারো সাধারণ মানুষের। এই সীমান্তে অবৈধ কার্যক্রম নিষিদ্ধ যেমন মাদক চোরাচালান, যৌন কাজের জন্য মানব পাচার, জাল মুদ্রা ও বিস্ফোরক পরিবহন। এ সকল অবৈধ কার্যক্রম কারোরই কাম্য নয়। কিন্তু ভারতীয় বাহিনী কোন প্রমাণ বা পর্যবেক্ষণ ছাড়াই সীমান্তে মানুষ হত্যা করছে নির্বিচারে। এখানে প্রতিদিনই অনেক মানুষের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাতায়াত, কাজের সন্ধান, পণ্য বিকিকিনি করা বা মৎস্য আহরণের জন্য সীমান্ত পার হওয়ার প্রয়োজন পড়ে এবং চোরাকারবারি ছাড়া এসকল সাধারণ জনগণ সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এমনকি সীমান্তবর্তী জমিতে চাষাবাদ করার সময় অনেক কৃষককে প্রাণ দিতে হয়েছে বিএসএফের
গুলিতে।

যারা সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় তাদের অধিকাংশই সাধারণ ও নিরীহ জনগণ। চোরাকারবারীরা যে এর মধ্যে পড়ে না তা কিন্তু নয়। তবে যারা এই চোরাকারবারির মূলহোতা তারা সবসময় থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। যারা মারা পড়ে তারা নিতান্তই হতদরিদ্র। সীমান্ত হত্যাকান্ড কখনোই কাম্য নয়। বর্তমান এই বিশ্বায়নের যুগে সকলেরই ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ড কমিয়ে আনা বা শূণ্যে নামানোর জন্য পদক্ষেপ নেয়া অতি জরুরী। দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ের আলোচনা এর সমাধান হতে পারে। তাছাড়া সীমান্ত এলাকার জনগণের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে এই এলাকার জনগণের সীমান্ত পার হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমবে। এদের কর্মসংস্থানের জন্য দেশি ও বিদেশি এনজিও গুলোর কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে। তাছাড়া চোরাকারবারি ঠেকাতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের একযোগে কাজ করা জরুরি। যারা এইসব হতদরিদ্র জনগণকে অবৈধ কাজের জন্য ব্যবহার করে তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

সর্বোপরি দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনাই একমাত্র সীমান্ত হত্যা বন্ধের উপায় হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এ বিষয়ে এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন অনেকেই।

পূর্ববর্তী সংবাদ

মালয়েশিয়া প্রবাসী সাংবাদিক কাজী আশরাফুল ইসলামের জন্মদিনের শুভেচ্ছা

বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব মালয়েশিয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রবাসী দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক কাজী আশরাফুল ইসলামের শুভ জন্ম দিন আজ ৮ ফেব্রুয়ারি।

দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে কর্মের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের খবরাখবর তুলে ধরেন সাংবাদিক কাজী আশরাফুল ইসলাম।

আজ তার জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন, প্রবাসী দিগন্তের প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ ফরহাদ আমির, প্রকাশক মোহাম্মদ আবুল হাসনাত, ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক ডাঃ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন সিদ্দিকী, সহযোগি সম্পাদক জহিরুল ইসলাম হিরন, বার্তা সম্পাদক শেখ সেকেন্দার আলী, সহকারী সম্পাদক মোঃ সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক মোঃ ইমরান মিয়া, সহ-সম্পাদক নূর মো. কামরুল হাসানসহ প্রবাসী দিগন্তের সকল সাংবাদিক বৃন্দ।

এছাড়াও জন্ম দিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার কর্মরত সাংবাদিক, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার