ভিডিও কাটিং করে ট্রল খুবই দুঃখজনক: তাহেরী

Img

‘আমার দু-আড়াই ঘণ্টার বক্তব্যের ভেতর থেকে কেউ যদি ৩০ সেকেন্ডের বক্তব্যে কেটে ট্রল করে তাহলে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এভাবে ওলামায়েকেরামদের কথা ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়া আসলেই খুবই দুঃখজনক।’

আজ বুধবার রাতে এসব কথা বলেন মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী।

‘স্লিপ অব টাং হতে পারে’

‘চা ঢেলে’ দিতে চাওয়া, ‘বসেন-বসেন’ ইত্যাদি শব্দ ও বাক্যগুলো সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। এ প্রসঙ্গে তাহেরী বলেন, ‘দুই ঘণ্টার বেশি সময় আমি ওয়াজ-নসিয়ত করে থাকি। এর ভেতরে দুই একটি কথা হয়তো আমি মজা করে বলি কিংবা স্লিপ অব টাং হতে পারে। পরিস্থিতি এবং উপস্থিতির কারণে আমি বলতে পারি তাই বলে এটা নিয়ে ট্রল করে প্রচার করা খুবই দুঃখজনক।'

তাহেরী বলেন, ‘আমি যদি কোনো একটি কথা ভুল করে বলে থাকি সেটা আমাকে ভালোভাবে বলা যায়। আমি শুধরে নিতে পারি। কিন্তু এভাবে আমার কথা থেকে কেটে এভাবে ট্রল করা কোনোভাবেই ভালো না।’ তিনি বলেন, ‘অনেক সময় আমার কাছের লোকজন বলে, বক্তব্যে ভেতরে এটা বলার কী দরকার? তখন আমি তাদের বলি এটা হয়তো ভুল করে বা পরিস্থিতি ট্যাকেল দিতে গিয়ে হয়ে যায়। তখন তারা আর কিছু বলে না।’

তাহেরী আরো বলেন, ‘তবে আমি যদি জানতাম আমার এসব কথা নিয়ে ট্রল হবে তাহলে আমি বলতাম না। মানুষ তো ভুল করেই। তবে ভুল করা মানুষকে নিয়ে খারাপ ভাবে না বলে শুধরে নিতে বলা উচিত।’

‘উসকানি’ প্রসঙ্গে

তবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ওয়াজে তাহেরীর ব্যবহার এসব শব্দ বা বাক্যগুলো ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে দেখছেন। তাই তারা ওই বক্তাকে রাখছে নজরদারিতে। আজ বুধবার পুলিশ হেডকোয়াটার্স ও ঢাকা মহানগর পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েকদিন ধরে পুলিশের কাছে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করছে মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর নামে। অভিযোগ তুলছে তার অশ্লীল অঙ্গ-ভঙ্গি নিয়েও। ফলে স্বাভাবিকভাবে তার কার্যক্রম মনিটরিং করছে পুলিশ। যেখানে  তাহেরী নতুন করে ওয়াজ মাহফিল করবেন সেখানেও থাকছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তাহেরী বলেন, ‘যদি পুলিশ আমাকে নজরদারিতে রাখে তাহলে তথ্য দেখবে, বিশ্লেষণ করবে। যদি মনে হয় আমার বক্তব্য উসকানিমূলক তাহলে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবে।’

‘১৭ বছর ধরে ওয়াজ-নসিয়ত করি’

তাহেরীর অনেক বক্তব্যে একাধিক ব্যক্তি উষ্মা প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তাহেরী বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগবে সেটা আমি চাই না। হয়তো বক্তব্যের ভেতরে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যবহার করা হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আমি ১৭ বছর ধরে ওয়াজ-নসিহত করি। এই পুরো সময়ের ভেতরে হয়তো দু-একটি শব্দ বা বাক্য আমি ব্যবহার করেছি এটা যদি ভালো চোখে না নেন তাহলে কীভাবে হবে? আড়াই ঘণ্টার ভেতর থেকে ৩০ সেকেন্ড গ্রহণ করবেন আর সবটা ফেলে দিবেন এটা হতে পারে না।’ সূত্র: এনটিভি অনলাইন।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার