ভারতের নাগরিক তালিকায় নাম না থাকায় রাতারাতি সেখানকার অধিবাসীরা হয়ে যাচ্ছেন বিদেশি! সম্প্রতি এমনভাবে বিদেশি হয়ে যাওয়া এক আসামের নারীর কথা জানা গলো ভারতের গণমাধ্যমে।

আসামের বক্সা জেলার বাসিন্দা জাবেদা বেগমের কথা শুনে অনেকেই অবাক হবেন। এই নারীর স্বামী রেজ্জাক আলি অসুস্থ অবস্থায় ঘরে পড়ে রয়েছেন দীর্ঘদিন। ফলে সংসার চালাতে উপার্জন করতে পঞ্চাশ বছর বয়সী এই নারীকে বের হতে হয় জীবিকার সন্ধানে। এমন প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়া এই নারীর জন্য ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে পড়ল জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তালিকা (এনআরসি)। সেখানে তার নাম না থাকায় তিনি এখন থেকে বিদেশি!

এখানেই দমে যায়নি জাবেদা বেগম। তার নিজের ও পরিবারের পরিচয় ফিরে পেতে দ্বারস্থ হন গুয়াহাটি হাইকোর্টে। কিন্তু সেখানেও তাকে বিদেশি হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়ে রায় দেয়া হয়। এখন নিজের নাগরিকত্ব ফিরে পাবার একমাত্র ভরসা সুপ্রিম কোর্ট।

জাবেদা বেগমের ৩ মেয়ের মধ্যে এক মেয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে এবং অপরজন নিখোঁজ। সংসারে এখন সন্তান বলতে রয়েছে ছোট মেয়ে আসমিনা। আর মেয়ের কথা ভেবেই আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন জাবেদা। নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে না পারলে কী হবে আসমিনার ভবিষ্যৎ!

গোয়াবাড়ি গ্রামের এই বাসিন্দা তার পরিবারকে ২০১৮ সালে বিদেশি হিসেবে ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনাল। পরবর্তীতে নাগরিকপঞ্জি তালিকাতেও স্থান হয়নি তাঁদের। টানা এক বছর নিয়মিত আদালতে চক্কর কেটেও নিজের পরিবারের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারেননি তিনি। হাইকোর্ট জানিয়েছে, জাবেদার জমির কর দেওয়ার কাগজ, ব্যাংকের নথিপত্র এবং প্যান কার্ড এই সব তাঁর নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

মামলা লড়ার খরচ জোগাড়ের জন্যে নিজের তিন বিঘা জমিও বিক্রি করা জাবেদা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, ‘আমার যা ছিল তা আমি প্রায় সব খরচ করে মামলা চালিয়েছি। এখন আমার কাছে আইনি লড়াইয়ের জন্যে আর কোনও সংস্থান নেই।’

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আসামে যে জাতীয় নাগরিকপঞ্জিকরণ হয়েছে সেই চূড়ান্ত তালিকা থেকে প্রায় ১৯ লাখ মানুষের নাম বাদ গেছে। আর সে কারণেই জাবেদা বেগমের মতো আরো অনেকে রাতারাতি বিদেশি বলে ঘোষিত হয়েছেন।