ভারতীয় ডাক্তারা বাংলাদেশে রোগী দেখছেন অ্যাপের মাধ্যমে

Img

করোনার এই সময়ে বাংলাদেশের রোগী ধরতে ভারতীয় হাসপাতালগুলো মোবাইল অ্যাপ এবং হোয়াটসঅ্যাপের ভিডিও কলে আশ্রয় খুঁজছেন। গত কিছু দিনে ফেসবুকে এ সংক্রান্ত অনেক বিজ্ঞাপনও দেখা যাচ্ছে। ভারতের নানা হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তাদের ছবি দিয়ে বানানো হয়েছে চমকপ্রদ এ সব বিজ্ঞাপন।

আবার এসব বিজ্ঞাপনের ভাষাও ব্যবহার করা হয়েছে বাংলায়।

বাংলাদেশের রোগীরা যেহেতু করোনাকালে আর ভারতের হাসপাতালগুলোতে স্বশরীরে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে পারছেন না সে কারণে বাংলাদেশের রোগী দেখার জন্যে এই বিকল্প পথ তারা বাতলে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ফেসবুক বিজ্ঞাপন দেখে কেউ আগ্রহী হয়ে ক্লিক করলেই তাকে আগে নানা তথ্য জানিয়ে নিবন্ধন করতে হচ্ছে।

গত মাসে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর একটা হাসপাতালে নিজের মায়ের একটি অস্ত্রোপচার করিয়ে এনেছেন বাংলাদেশেরই একটি টেলিভিশন চ্যানেলের এক রিপোর্টার।

ভারতে লকডাউন ঘোষণার ঠিক আগে আগে তিনি মা’কে নিয়ে ঢাকায় ফেরেন। তাদের আবার এই এপ্রিলেই যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওখান থেকে যোগাযোগ করায় মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেই নিজের মায়ের পরবর্তী চেকআপ করিয়ে নিতে পেরেছেন বলে জানান, পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সংবাদকর্মী।

জানা গেছে, শুধু ডাক্তার দেখানো নয়, রিপোর্ট দেখানোসহ আরও অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলই অনলাইনের মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে অনলাইনেই প্রেসক্রিপশনও দিয়ে দিচ্ছেন তারা।

বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইনের নানা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ডাক্তার দেখানোর প্রবণতা বেড়েছে, বিশেষ করে করোনার কারণে সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায়।

তিন বছর আগের বাংলাদেশে চালু হওয়া স্বাস্থ্য সেবার একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম প্রাভা হেল্থ। প্রাভা’র ব্রান্ড ম্যানেজার সাবিক হাদি বলেন, অনলাইনের মাধ্যমে অন্তত ৮০ শতাংশ স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া সম্ভব। আর যদি বিকল্প পন্থায় টেস্টগুলো করিয়ে নেওয়া বা প্রেসার মাপা অথবা ব্লাড সুগার মাপার ব্যবস্থা থাকে তাহলে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ সেবাই অনলাইনে দেওয়া সম্ভব।

আর এই সুযোগই স্বাস্থ্য খাতে ভারতীয় প্ল্যাটফর্মগুলো নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

হাদি বলেন, বাংলাদেশেও এখন অনেকগুলো প্ল্যাটফর্ম স্বাস্থ্যখাতে ভার্চুয়াল সেবার প্রচলন করেছেন। আর করোনার কারণে সেখানে প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

পূর্ববর্তী সংবাদ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে প্রথম ৪ জন করোনায় আক্রান্ত

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে প্রথমবারের মতো চার করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাব্বির আহমেদ ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কাইয়ূম তালুকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আক্রান্ত রোগীদের বাড়ি কাশিয়ানী সদর ইউনিয়ন, মহেশপুর ও সাজাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।

তারা সকলে করোনার উপসর্গ নিয়ে ঢাকা থেকে এলাকায় আসেন। এ ঘটনায় আক্রান্তদের গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম লকডাউন করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কাইয়ূম তালুকদার বলেন, গত ১৫ এপ্রিল আক্রান্ত রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা আইইডিসিআরে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। গতকাল রাতে তাদের পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ আসে।

তিনি আরো বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার