ব্যতিক্রমী আয়োজনে এবারো থাকছে ‘ইত্যাদি’

Img

গত দুই দশক ধরে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় স্থানে গিয়ে ইত্যাদি ধারণ করা হয় এই অনুষ্ঠানটি। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে দর্শকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কথা ভেবে গত রোজার ঈদের মতো এবারো দর্শক উপস্থিতিতে 'ইত্যাদি'র নুতন পর্ব ধারণ করা হয়নি। গত রোজার ঈদের ইত্যাদির বিশেষ সংকলিত পর্বটি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হওয়ায় এবারও দর্শকদের অনুরোধে একটি সংকলিত ইত্যাদি সাজানো হয়েছে।

আগে প্রচারিত কয়েকটি ঈদ ইত্যাদি সংকলন করে সাজানো হয়েছে এবারের পর্বটি। সংকলিত ইত্যাদি হলেও এবারের কিছু অংশ নতুনভাবে ধারণ করা হয়েছে। জানানো হয়েছে সদ্য প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরকে শ্রদ্ধা। রয়েছে প্রয়াত অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির একটি বিশেষ পর্বসহ জনপ্রিয় তারকাদের অংশগ্রহণে নাচ, গান, নাট্যাংশের সমন্বয়ে অনেক মজার মজার পর্ব। 

ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন।

ইত্যাদি একযোগে প্রচারিত হবে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড-এ ঈদের তৃতীয় দিন রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর। অনুষ্ঠানটি পুনঃপ্রচার করা হবে ৮ আগস্ট, শনিবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর।

পূর্ববর্তী সংবাদ

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি

কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। টানা বন্যায় প্রকট হয়ে উঠেছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, গবাদি পশুর খাদ্য এবং স্যানিটেশন সমস্যা।

শনিবার ধরলা নদীর পানি ব্রিজ পয়েন্টে বিপদ সীমার ৬৫ সেন্টিমিটার এবং ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদ সীমার ৭৭ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা অব্যাহত থাকায় জেলার ৫৬ ইউনিয়নের ছয় শতাধিক গ্রামের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নদী ভাঙনের শিকার হয়ে সারডোব, সাহেবের আলগা, থেতরাইসহ বিভিন্ন এলাকায় গৃহহীন হয়েছে আরও শতাধিক পরিবার। অনেকেই বাঁধে আশ্রয় নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, বন্যা কবলিতদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য ৮৫টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। তবে মেডিকেল টিমের কোনো সদস্যকে না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে বানভাসীদের।

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের বতুয়াতুলির চরের মুসা মিয়া বলেন, ‘বন্যা এত দীর্ঘ হবে সেটা কেউই ভাবতে পারেনি। কাজকর্ম নেই, ঘরে খাবার নেই। পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। ত্রাণ না পেলে আর বাঁচার উপায় থাকবে না।’

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, জেলার প্রধান তিনটি নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। এ পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার বাঁধ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁধ ও স্পার রক্ষায় ১৯টি পয়েন্টে ভাঙন রোধে কাজ চলছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাস কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, দ্বিতীয় দফা বন্যায় এ পর্যন্ত ১৯০ মেট্রিক টন চাল, ৯ লাখ টাকা ও ৬ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

ঈদের আগেই বন্যা কবলিত সোয়া চার লাখ মানুষের হাতে ভিজিএফ’র ১০ কেজি করে চাল পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার