বৈধভাবে দেশে ফেরার আকুতি নিয়ে মালয়েশিয়ান মালিকের বিরুদ্ধে মামলা বাংলাদেশীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

গত ৭ সেপ্টেম্বর  বিকালে  কুয়ালালামপুর  ওয়াংসা মাজু থানায়  ৩ জন বাংলাদেশী শ্রমিক মালয়েশিয়া রেস্টুরেন্ট মালিক টনি লি বিরুদ্ধে মামলা দায় করেছে।  মামলা নং  AA- 885492. 

   সম্প্রতি মালয়েশিয়া সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ১০ বছরের পর আর কোন ভিসা দেবেনা বলে আদেশ জারি করে। আগামী কাল ১১ ই সেপ্টেম্বর তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বার বার কোম্পনির মালিককে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে  দেশে পাঠানোর অনুরোধ করলে  কর্ণপাত করছেনা মালিকপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে শত শত শ্রমিক আছে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষের পরেও জোর করে রেখে দিচ্ছে। 

   পরে নিরুপায় হয়ে পুএাযায়া ইমিগ্রেশনে অভিযোগ করতে গেলে ইমিগ্রেশন অফিসার পুলিশ স্টেশনে আগে মামলা দায় করতে বলেন তারপর ইমিগ্রেশন মালিকের বিরুদ্ধে একশন নিবে। পরে  বাংলাদেশ হাইকমিশনে অভিযোগ করলে সাথে সাথে হাইকমিশন থেকে মালিক কে কল করে যথা সময়ে শ্রমিকদের দেশে পাঠানোর অনুরোধ জানালে, মালিক টনি লি কোন উওর না দিয়ে ফোন রেখে দেয়। এবং হাইকমিশন থেকে এস এম এস এর মাধ্যেমে জানানো হলে কোন উওর দেয়নি মালিক। সবশেষে বাংলাদেশ হাইকমিশন তাদের বালাই পুলিশে অভিযোগ করতে বলে এবং মালিকের বিরুদ্ধে যথাযথ  পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে আসস্ত  করলে। শ্রমিকরা থানা তে অভিযোগ করে। 

    আমাদের প্রতিনিধি কে শ্রমিকরা বলেন এর জন্য কিছু বাংলাদেশী ম্যানেজার দায়ী। এই কোম্পানিতে কিছু বাংলাদেশী আছে যারা ম্যানেজার ও অফিসিয়াল দায়িত্বে আছে। তাদের পজিশন টিকিয়ে রাখার জন্য সবসময় মালিকে বাংলাদেশী ম্যানেজারা  বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে পরামর্শ দিয়ে থাকে যা সাধারণ স্টাফদের জন্য অনেক ক্ষতিকর। তারা বলেন পাশাপাশি বাংলাদেশী ম্যানেজারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্তা  নিতে। 

 প্রতিটি শ্রমিকের কাছ থেকে এক বছর আগেই ডিপোজিট বাবদ কথা বলে জনপ্রতি ১২০০ শত রিঙ্গিত বেতন হতে কেটে রাখে এবং চলতি ২ মাসের বেতন দেওয়া বন্ধ করে রাখে। প্রতিটা শ্রমিকের কাছ থেকে ডিপোজিট ও চলতি ২ মাসের বেতন সহ ৪ হাজার রিঙ্গিত আটকে রাখে। যা বর্তমান বাংলাদেশী টাকায় ৮০ হাজার টাকার উপরে। এমন ২০০ শত শ্রমিকের কাছ থেকে কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ রিংগত। 

নির্যাতনের ও পাসপোর্ট আটকে রাখার ভয়ে কেউ মুখ খুলে না বা প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। 

উল্লেখ ২০০৭ সালের পর থেকে এই মালিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে, যা সবাই মারিং কাটিং কোম্পানি নামে পরিচিত। ২০০৭ সাল হতে ২০১৮ সাল এই পযন্ত কয়েক হাজার বাংলাদেশী,নেপালী, ইন্দোরনেশীয়া,মায়ানমার শ্রমিক  বুকে কষ্ট নিয়ে  কোম্পানি হতে পলায়ন করেছে এবং দেশে ফিরত চলে গিয়েছে।অভিযোগ রয়েছে শত শত শ্রমিক আছে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষের পরেও জোর করে রেখে দিচ্ছে। ঐ মালিকের কয়েকটি কোম্পানির কাছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জিম্মি করে অবৈধভাবে কাজ করতে বাধ্য করারও অভিযোগ আনা হয়েছে।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

পড়েছেন: 12229 জন

মন্তব্য: 0 টি