বৈধতার সময় শেষ হতে চলেছে ৩০ জুন "মালয়েশিয়ায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বিদেশি কর্মীরা"

আহমাদুল কবির | নিজস্ব প্রতিবেদক : জুন ১২, ২০১৮

মালয়েশিয়ায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বিদেশি কর্মীরা। দেশটিতে বিদেশি কর্মীদের চাহিদা থাকা সত্বেও  প্রশাসন থেকে শুরু করে দেশটির সাধারন জনগনের মধ্যে চলছে যুক্তিতর্ক। তারা বলছেন দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে অবৈধ অভিবাসী কর্মী কমিয়ে আনার।  আবার কেউ কেউ বলছেন বিদেশি কর্মীদের জীবনমান নিশ্চিত করতে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। অনসন্ধানে জানা গেছে, দেশটিতে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের মধ্যে বেশি আলোচিত সমালোচিত বাংলাদেশি কর্মীরাই। বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের মান ভালো থাকলেও পিছন থেকে কালো থাবায় তাদের এ অর্জনকে ম্লান কওে দিচ্ছে আরেক বাংলাদেশি। মালিকের কাছে একে অন্যের কুৎসা রটনা ও একে অন্যের বিরুদ্ধে অযাচিত টাকার বিনিময়ে পুলিশি হয়রানি, অপহরন, দালালদের দৌরাত্ম্য এবং নানামুখী অপচেষ্টায় ভাবিয়ে তুলেছে দেশটির প্রশাসনকেও। 


বৈধকরণ প্রক্রিয়ার অন্যতম ধাপ হলো ইমিগ্রেশনে ফিঙ্গার প্রিন্ট দেওয়া। তারপর অন্যান্য প্রসেসিং শেষ হলে বৈধতা। কিন্তু হাইকমিশন থেকে নতুন পাসপোর্ট পাওয়াটাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে।
৩০ জুনের মধ্যে ইমিগ্রেশনে দাঁড়াতে পারবে কি না, এ নিয়ে দুঃচিন্তা আর হতাশায় দিন কাটছে অবৈধ বাংলাদেশিদের।
 এ দিকে দশটিতে কর্মরত অবৈধ বিদেশি কর্মীদের বৈধকরণের শেষ সময় ৩০ জুন পর্যন্ত বেঁধে দিয়েছে অভিবাসন বিভাগ। ইমিগ্রেশনে ফিঙ্গার প্রিন্ট দেওয়ার জন্য নিজ দেশের পাসপোর্ট সাথে করে নিয়ে যেতে হবে।
এ দিকে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে নতুন করে পসপোর্টের আবেদন করার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও পাসপোর্ট হাতে না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অনেকে।
কক্সবাজার জেলার একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আব্দুল্লাহ এ প্রতিবেদককে জানান, ৬ মাস গত হয়েছে পাসপোর্টের আবেদন করেছি। হাইকমিশনে যোগাযোগ করার পরও পাসপোর্ট পাচ্ছি না। পুলিশ ভেরিফিকেশন না পাওয়ার কারণে তার পাসপোর্ট ইস্যু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ বড় অংকের টাকা অর্থ দাবি করেছে বলে তার অভিযোগ। টাকা না দিলে ভেরিফিকেশন সনদ দিচ্ছেনা
বৈধকরণ প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন করে পাসপোর্ট ও বয়স জটিলতায় প্রায় ৫০ হাজার  বাংলাদেশি বৈধতা পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বৈধকরণের এ সুযোগকে কাজে লাগাতে দ্রুত পাসপোর্ট দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন প্রবাসীরা।


এ দিকে দেশটির অভিবাসন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে জুলাই মাস থেকে কঠোর অভিযান শুরু করবে প্রশাসন। হুঁশিয়ারি করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। মালয়েশিয়ায় অবৈধ শ্রমিকদের বৈধকরণ প্রক্রিয়ায় আঙুলের ছাপ নেয়ার সময় শেষ হচ্ছে চলতি মাসের ৩০ তারিখে।
এরপরই ‘ওপস মেগা থ্রি-জিরো’ সাঁড়াশি অভিযান শুরু হবে।
২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হওয়া বৈধকরণ প্রকল্পে যেসব কর্মী ও নিয়োগকর্তারা নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের আটক করাই প্রথম লক্ষ্য।
 অতি সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক সেরি মুস্তাফার আলি।
গংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৮ মে পর্যন্ত গেল আড়াই বছরে মালয়েশিয়ায় সাড়ে সাত লাখ কর্মী এবং ৮৪ হাজার নিয়োগদাতা বৈধকরণ প্রকল্পে নিবন্ধিত হয়েছে। নিবন্ধিতদের মধ্যে এক লাখ আট হাজার ২২৩ জন অবৈধ কর্মীকে বৈধতার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। এই বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মী  নিবন্ধিত হলেও ৫০ হাজার নাম জটিলতায় বৈধতা পাবেনা । বাকি দেড় লাখেরও বেশি লেভি পরিশোধ কওে ভিসার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।  
দেশটিতে যারা অবৈধ ভাবে কর্মরত রয়েছেন আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে থ্রি প্লাস ওয়ান’র  আওতায় তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে নিয়োগকর্তাদের।
৩০ শে জুনের রিং-হেয়ারিং প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পর অনুলিপিপ্রাপ্ত অভিবাসী কর্মীদের উপর পরিকল্পিত অভিযানের পুনর্বিবেচনার জন্য ক্লাং এমপি চার্লস সান্তিয়াগো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ৬ জুন ক্লাং একটি অনুষ্টানে এ আহবান জানান। চার্লস সান্তিয়াগো বলেছেন যে কোন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত অভিবাসী শ্রমিকদের বিচার করা উচিত কারণ তাদের অনেকে তাদের নিয়োগকর্তার দোষের কারণে অনথিভুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী কর্মীদের ন্যায়বিচারের বিরুদ্ধে অমানবিক প্রয়োগ করা হবে না যারা "অসাধু এবং অপমানজনক। নিয়োগকর্তাদের" দ্বারা ব্যর্থ হয়েছে।
এমনও শোনা গেছে, অভিবাসী শ্রমিকদের ধর্ষণ, অত্যাচারিত ও হত্যা করা হয় এমন মামলার কথা শুনতে অস্বাভাবিক নয়। "
২০১৩ সালের বিশ্বব্যাংকের একটি গবেষণাতে সান্তিয়াগো জানান যে ইন্দোনেশিয়ার অভিবাসী কর্মীরা অননুমোদিত হয়ে অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলগুলি দ্রুত এবং কম ব্যয়বহুল হয়ে যাওয়ায় অনেক কারণ দেখিয়েছে; প্রগতিশীল ব্যবস্থা যা অভিভাবকদের নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তাদের সাথে সংযুক্ত করেছে; এবং অপ্রস্তুত কাজ শর্ত, অপমানজনক চর্চা বা বেতন না দেয়ায় কয়েকজন কর্মী পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের ভ্রমণ নথি হারিয়ে ফেলেছে। কারণ নিয়োগকর্তারা তাদের পাসপোর্টগুলি নিয়ে গিয়েছিল। অন্যরা প্রতারিত হয়েছিল।
২০১৭ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, নেপালি শ্রমিকদের একটি দল যারা একটি স্টিল কারখানায় বিপজ্জনক কাজ করতে প্রতারিত হয়েছে তারা কর্মক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি শিল্প দুর্ঘটনা দেখা দেয়ায় পালিয়ে যায়।
সান্তিয়াগো বলেন, মালয়েশিয়ার প্রায় ১.৯ মিলিয়ন নিবন্ধিত অভিবাসী শ্রমিক এবং ছয় মিলিয়ন অনথিভুক্ত অভিবাসী কর্মী রয়েছে। ২০১৭ সালে সরকারের পুনর্বিবেচনা এবং অ্যামনেস্টি প্রোগ্রামের মাধ্যমে ১৬১,০০০ নথিভুক্ত অভিবাসী শ্রমিক নিবন্ধিত হয়, মোট সংখ্যাটির ২৭%।
২০১৭ সালে ইমিগ্রেশন অভিযান চালানো হয়। তিনি বলেন, ৩ হাজারেরও বেশি নথিভুক্ত অভিবাসীদের গ্রেফতার ও আটক রাখা হয়েছে।
"এটি রি-হিয়ারিং প্রোগ্রামটি একটি ব্যর্থতা দেখায়। সরকারী কর্মকর্তা ভুল কর্মী নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
"অধিকন্তু, অভিবাসী শ্রম ব্যবস্থা কৃচ্ছতা দ্বারা প্রভাবিত হয় - স্থানীয় ও বিদেশী নিয়োগ সংস্থাগুলি অভিবাসী শ্রমিকদের লাভজনক পণ্যগুলিতে পরিণত করেছে।
উদাহরণস্বরূপ মাইইজি এবং বেস্টিনেটের জন্য লাভজনক রিয়াস দেওয়া হয়।"
তিনি বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার জন্য অভিবাসী শ্রম ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থায় পরিবর্তন করার সময় সরকার ছিল; নিয়োগকারীদের শাস্তি এবং অনথিভুক্ত অভিবাসী কর্মীদের জন্য প্রতিকার প্রদান; অভিবাসী শ্রম ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের মধ্যে পৎড়হুরংস বর্জন; এবং অভিবাসী কর্মীদের সংশোধন সমাপ্ত।
"প্রথমত, ২০২০ সালের মধ্যে মোট কর্মীবৃন্দের ১৫% অভিবাসী শ্রমিকের অনুপাত ক্যাপচার করা। দ্বিতীয়ত, মানব সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিচালিত একটি এক-স্টপ কেন্দ্রের মাধ্যমে অভিবাসী কর্মীদের নিয়োগের কাজকে আরও গতিশীল করার, যা সমস্ত মধ্যস্থতাকারী এবং আউটসোর্সিং কোম্পানিগুলিকে পরিত্যাগ করবে । তৃতীয়ত, একটি দায়বদ্ধতা ধারণা চালু করা যে নিয়োগকর্তারা অভিবাসী কর্মীদের কল্যাণে পুরোপুরি দায়িত্বশীল। "
সান্তিয়াগো ২০০৭ সালে মায়ানমারের অধিকার রক্ষার প্রমোশন ও উন্নয়নে আশিয়ান ডিক্লারেশন-এর অধীন সরকারকে তার দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যা "মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা, কল্যাণকে উন্নীত করা এবং অভিবাসী শ্রমিকদের মানব মর্যাদা রক্ষার প্রচেষ্টাকে তীব্র" করার অঙ্গীকার করেছে।
তিনি বলেন, এ অঞ্চলে অভিবাসী শ্রমিকদের মানবাধিকার রক্ষা করার জন্য আইনত বাধ্যতামূলক চুক্তি করারও প্রয়োজন ছিল।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: জুন ১২, ২০১৮

প্রতিবেদক: আহমাদুল কবির

পড়েছেন: 1051 জন

মন্তব্য: 0 টি