আধুনিক সভ্যতার কারণে কি রাতের আকাশ হারিয়ে যাচ্ছে? কৃত্রিম আলোর গ্রাসে অন্ধকার আকাশ সত্যি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এই আলো দূষণের প্রভাব পড়েছে জীবজগতসহ গোটা ইকো সিস্টেমের উপর। বিজ্ঞানীরা তার পরিণতি বোঝার চেষ্টা করছেন।

পদার্থবিদ মানুয়েল ফিলিপ মনে করেন, রাতের আকাশ ধীরে ধীরে উধাও হয়ে যাচ্ছে। তিনি মিউনিখের কাছে রোজেনহাইমে এক তারকা পার্ক খুলেছেন। অন্ধকার এই সংরক্ষিত এলাকায় রাতের আকাশ স্পষ্ট দেখা যায়। মানুয়েল বলেন, গোটা বিশ্বে সম্ভবত ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষ রাতের আকাশ তার প্রকৃত রূপে দেখতে পায়। কারণ রাতে কৃত্রিম আলোর আধিক্য মারাত্মক হারে বেড়ে গেছে। গত ১০, ২০ বছরে কৃত্রিম আলোর ছটা আকাশ ভরিয়ে দিয়েছে।
বড় শহরগুলিতে আলো ও অন্ধকারের প্রাকৃতিক ছন্দ কার্যত লোপ পেয়েছে। এই সব শহরে কৃত্রিম আলোর তীব্রতা প্রায় ৪০ গুণ বেড়ে গেছে। সপ্তদশ শতাব্দীতে আবিষ্কৃত ল্যাম্পপোস্ট আজ প্রায় গোটা বিশ্ব আলোকিত করছে। প্রতি বছর রাতের বেলায় আলোর তীব্রতা প্রায় ২ দশমিক ২ শতাংশ হারে বাড়ছে।

একসময় চলে যেতে পারে একেবারে দৃষ্টির আড়ালে। কৃত্রিম আলো নতুন ও ক্ষতিকারক এক নির্গমন। মানুয়েল ফিলিপ মনে করেন, যথেষ্ট অন্ধকারের পরিবেশ না পেলে অনেক কিছু ঘটে। পাখি নির্ধারিত সময়ের আগেই বংশবৃদ্ধি করে, আগেই গান গায়। প্রতি রাতে জার্মানিতে ল্যাম্পপোস্টে ধাক্কা খেয়ে প্রায় একশ’ কোটি পোকা মরে যায়।