বেপজা কতৃপক্ষের ‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠিত

Img

দেশের অর্থনীতি খাতে ইপিজেড নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বেপজা ও ঢাকা ইপিজেডের ভূমিকা, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ও করোনাকালীন জটিলতা নিয়ে মিট দ্যা প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শনিবার দুপুরে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ডিইপিজেড) কনফারেন্স রুমে উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন বেপজার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) নাজমা বিনতে আলমগীর, ঢাকা ইপিজেড এর মহাব্যবস্থাপক আব্দুস সোবহানসহ শিল্প পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকতা এবং স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা।

অনুষ্ঠানে করোনা মহামারিতে দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে ও ক্ষতিগ্রস্থ কারখানা-শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় নানা কাজের অগ্রগতি তুলে ধরার পাশাপাশি ঢাকা ইপিজেডের বিভিন্ন অর্জন ডকুমেন্টারির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।

এসময় ঢাকা ইপিজেডের বন্ধ হওয়া ‘এ ওয়ান বিডি লি.’ কারখানার বিষয়ে বেপজা কতৃপক্ষ জানান, আইনি জটিলতার কারণে শ্রমিকদের পাওনাদি বুঝিয়ে দিতে সময় লাগছে। তবে নিয়ম অনুসারে শ্রমিকদের সকল ধরনের পাওনাদি বুঝিয়ে দিতে কাজ করছে ডিইপিজেড। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সমাধান হবে বলে জানানো হয়। 

ডিইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক আব্দুস সোবহান বলেন, সারা বাংলাদেশে আটটি ইপিজেডে ২৩৭৩ একর জায়গা। এই জায়গা থেকে জাতীয় রপ্তানীর মোট ২০ পার্সেন্ট আমরা এখানে কন্ট্রিবিউট করি। এটা আসলে একটা বিশাল অবদান। এর মধ্যে থেকে কমপক্ষে সাড়ে ৭-৮ পার্সেন্ট কন্ট্রিবিউশনটা ঢাকা ইপিজেড থেকে। এই আট খন্ড জমির উপর প্রায় ৫ লক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী এখানে কাজ করে। আমাদের শ্রমিকদের বেতন বাইরের তুলনায় কমপক্ষে শতকরা ৩৫ ভাগ বেশি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তার সরকার দেশের রূপকল্প পরিবর্তন করে উন্নয়নশীল দেশ থেকে আমরা উন্নত দেশে যাবো। সেই স্বপ্নের সিঁড়িতে বেপজা একটা অগ্রপথিকের ভূমিকায় কাজ করছে। দেশের টোটাল এক্সপোর্ট গার্মেন্টস, সিরামিকস, মেডিসিন, জুট, লেদার, ফুড গুডস, বিভিন্ন ফল ও পানসুপারী সামগ্রী পর্যন্ত সব গুলো এক্সপোর্ট আমাদের আটটি ইপিজেডে অটোমেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। 

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ সনে শ্রমিকদের বেতন বাড়িয়েছেন তিন বার। ২০১০ সালে নভেম্বর মাসে একজন হেলপারের বেতন ছিল ইপিজেডে ২১০০ টাকা। সেই হেলপারের বেতন এখন ঢাকা ইপিজেডে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা। তারা ৮২০০ টাকা বেতন পায়, ১ হাজার টাকা ফুড এ্যালাউন্স, ৮-১০ টাকা পায় ট্রান্সপোর্ট এ্যালাউন্স। এর বাইরেও ইপিজেডের শ্রমিকরা তাদের হাজিরা বোনাস, ওভারটাইম ও অন্যান্য ভাতাসহ ১২ হাজার টাকার উর্ধ্বে বেতন পায়। এই দশ বছরের মধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তার একক সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের বেতন তিন ধাপে কমপক্ষে সাড়ে চার গুণ বাড়িয়েছেন। যেটা অকল্পণীয়। বাংলাদেশ ইপিজেড  শ্রম আইন ২০১৯ অনুযায়ী ১০ দিনের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে হবে। আমাদের ইপিজেডের অন্তত ৯৫ পার্সেন্ট শ্রমিক ৭-১০ তারিখের মধ্যে বেতন পায়। তবে করোনা মহামারি ও ম্যানেজমেন্টের ভুলের কারণে দুই-একটা গার্মেন্টে সমস্যা হতে পারে। 

বেপজার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) নাজমা বিনতে আলমগীর বলেন, দেশের আটটি ইপিজেডের চালু কারখানা সমূহ ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৬.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানী করেছে। যা দেশের জাতীয় রপ্তানীর ১৯.২৭ শতাংশ। তবে করোনা মহামারি বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্থ করেছে। যার ফলে দেশের জাতীয় রপ্তানী ৪০.৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে কমে ৩৩.৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের কিছু বাস্তববাদী ও সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে জাতীয় রপ্তানিতে ইপিজেডের অবদান আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।
 

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার