বেঁচে থাকতে প্রিয়জনকে মূল্যায়ন করুন, মরে গেলে তো অপরিচিতও আক্ষেপ করে

Img

ডিপ্রেশন শব্দটির সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। বর্তমান সময়ে ডিপ্রেশনে থাকা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। একেকজন একেক কারণে ডিপ্রেশনে ভুগছে। কিন্তু তাদের প্রতি আমাদের উদাসীনতা যেন বেড়েই চলছে।

প্রতিটা মানুষই জীবনের কোনো না কোনো সময় ডিপ্রেশনে ভোগে। যাদের মনোবল শক্ত তারা হয়তো ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠে সহজেই।

কিন্তু যারা কাটিয়ে উঠতে পারে না তারা কি করে?

ডিপ্রেশন এ থাকা মানুষগুলো তার ভেতরে কতটা চাপা কষ্ট বয়ে নিয়ে চলে তার খোঁজ কেউ কি রাখে? পরিবার থেকে শুরু করে বন্ধু বান্ধব কেউ রাখে না সে খোঁজ। ডিপ্রেশনে থাকা মানুষগুলো খুব করে বাঁচতে চায় একটু ভালো থাকতে চায়।

তাদের চাওয়া গুলো খুব ছেলেমানুষী টাইপের হয়। আসলে ভেতরে ভেতরে রক্তাক্ত হতে হতে মানুষগুলো কেবল মরে বেঁচে থাকে। তারা এক একটা জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে থাকে বলেই  জীবনের রঙটা খুব ভালো চিনতে পারে। তারা সীমিত পরিসরে বাঁচতে পারে, কেবল পারে না প্রিয়জনদের করা অবহেলা মেনে নিতে। তাইতো কখনো কখনো নিজেকে গুটিয়ে নেয় গোটা পৃথিবীর সমস্ত পরিচিতজনদের থেকে।

সেই পরিচিতজন, যাদের কাছে বারবার সমস্যার কথা বলতে চেয়েও বলতে পারেনি আবার কখনো বলেছে ঠিকই কিন্তু পাত্তা পায় নি। মজার ছলে তার গুরুত্বপূর্ণ কথাটাকে ঠিকঠাক না শুনেই একগাল হাসিতে উড়িয়ে দিয়েছে। আর সেই অবহেলা পেতে পেতে মানুষটি ধীরে ধীরে নিজেকে সবার চোখের আড়াল করে ফেলেছে।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে মানুষটা কত না হাতে পায়ে ধরেছে পরিচিতজনদের। কিন্তু না, কেউ বুঝতেই চায়নি মানুষটার ব্যাথা। 

কিন্তু যখন সেই মানুষটি নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে নিজেকে মুক্ত করে ফেলে, নিজের জীবনকে আত্ম হননের দিকে ঠেলে দেয় তখনও সবাই নির্বিকার। 
একটা জীবন চলে গেলেও কিছু আসে যায় না কারো এই কথাটা যখন ডিপ্রেশনে থাকা মানুষটি বুঝে যায় তখন সত্যিই তার জীবনের আর কোনো মোহো থাকে না। নিজের প্রতি তীব্র ঘৃণা, অপমান, অভিযোগে বেছে নেয় জীবনটাকে শেষ করে দেবার মতো ভয়ংকর সিদ্ধান্ত।

আর যখন কেউ এমনটা করে বসে তখন চারপাশের সেই প্রিয়জনরা শোকের মাতম তোলে কিন্তু এই তারাই একটা সময় মানুষটাকে অবজ্ঞা অবহেলার পাশ ফিরিয়ে চলে গেছে। যখন এই প্রিয়জনদের একটু সময় দেবার প্রয়োজন ছিলো তখন তারা নানা অজুহাতে মানুষটার থেকে দূরে চলে গেছে।

একদিনে কারো জীবন প্রদীপ নিভে যায় না। একদিনের অবহেলা, অবজ্ঞায় কেউ আত্মহননের পথ বেছে নেয় না।  প্রতিনিয়ত প্রিয়জনদের করা অবহেলা একটু একটু করে সেই জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিতে সাহায্য করে।

তাই আপনার আশেপাশে থাকা প্রিয়জনদের সাথে এমন আচরণ করছেন কিনা খেয়াল রাখুন। বেঁচে থাকতে তাদের মূল্যায়ন করুণ। তারা কিছু বলতে চাইলে মনোযোগ দিয়ে শুনতে চেষ্টা করুন। হয়তো আপনার একটু মনোযোগ ই পারে একটা জীবন বাঁচিয়ে দিতে।

কারণ আত্মহত্যার জন্য কেবল ভুক্তভোগীই দায়ী থাকে না। কোনো না কোনো ভাবে দায়ী  হয়তো আমি, আপনি, আমরা সবাই।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার