বিশ্বনবী নিয়ে ব্যঙ্গ, সহ্য করবে না মুসলিম হৃদয়

লেখক: মো. খালেদ বিন ফিরোজ।

Img

একজন মুসলমানের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজের প্রাণের চেয়ে, নিজের সন্তানের চেয়ে, নিজের মা-বাবার চেয়ে এবং তার যাবতীয় সম্পদ থেকে প্রিয়। যদি কোন ব্যক্তির এমন মহব্বত না থাকে, তাহলে লোকটি প্রকৃত মুসলমানই নয়।

আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন: ‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়াঃ আয়াত ১০৭)
‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে অভিশাপ দেন এবং তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি।’ (সুরা আহযাবঃ আয়াত ৫৭) ‘আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ তা জানে না।’ (সুরা সাবাঃ আয়াত ২৮)

হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:-
হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার পিতা-মাতা, এবং তার সন্তান ও সমস্ত মানুষ থেকে আমাকে বেশি মোহাব্বত করবে। সহীহ বুখারী শরিফ, হাদীস নং-১৫, সহীহ মুসলিম শরিফ, হাদীস নং-১৭৭

নাস্তিক্যতা এক জিনিস, আর ধর্মকে কটাক্ষ্য করা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালাগালি দেয়া, অশ্লিলভাবে উপস্থাপন করা ভিন্ন জিনিস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যারা গালি দেয়, অপমানিত করে, অসম্মানজনক কথা বলে বা লিখে, সে মুরতাদ। সে তওবা না করলে হত্যা করা ইসলামের বিধান। এরকম কুলাঙ্গারের এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই। কারণ আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন উনার সৃষ্টির মাঝে যিনি শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, উনার যে কুৎসা রটায় এমন কুলাঙ্গারের আল্লাহ পাক উনার এই জাহানে বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই।

ফ্রান্স সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে পুলিশ পাহারায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করে বিশ্ব মুসলিমের কলিজায় আঘাত হেনেছে। কারণ মুসলমানরা তাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রাণের চেয়ে বেশি ভালোবাসে। নবীজির অবমাননা মুসলমানগণ কিছুতেই বরদাশত করবে না। 

ফ্রান্সের জন্য আফসোস! ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে পরিচিত দেশটি তাদের যথাযথ অবস্থান ধরে রাখতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। তাদের ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকাণ্ড বরাবরই দেশটির মুসলিমদের হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে চলছে। কষ্ট দিচ্ছে মুসলিম উম্মাহকে। হজরত মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে তাদের এ ব্যঙ্গ চিত্র দেশটির দেয়ালে দেয়ালে টানানো তাদের এই ধৃষ্টতা যেন ছাড়িয়ে গেছে আগের সব মুসলিম বিদ্বেষ।

ফ্রান্স সরকার নবীর বিরুদ্ধে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের মাধ্যমে বিশ্বমুসলিমকে উস্কে দিয়ে ধর্মযুদ্ধ বাধানোর ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

অথচ বিশ্বনবি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কত উদার ও ক্ষমা প্রদর্শনকারী ছিলেন; তা মক্কা বিজয়ের ঘটনা থেকেই প্রমাণিত। ইসলাম বিদ্বেষীরা প্রিয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জন্মভূমি থেকে যথেষ্ট কষ্ট দিয়ে হিজরত করতে বাধ্য করেছিলেন। অথচ মক্কা বিজয়ের পর বিশ্বনবি ক্ষমার এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি সবাইকে ক্ষমা করে দেয়ার জন্য বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দেন। যাতে সবাই ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়।

ফ্রান্সসহ বিশ্বের যেসব দেশ ইসলাম ও মুসলমানদের নিয়ে এসব ধৃষ্টতা প্রদর্শন করছে, এতে তাদের দীনতা, অজ্ঞতা ও অসহায়ত্বই প্রকাশ পায়। আর মুসলিমদের কাছে এ বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় যে, বিশ্বব্যাপী মানুষের কাছে বিশ্বনবি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত-সুন্নাহ তথা সুন্দর ও অতুলনীয় আদর্শগুলো তুলে ধরা। যার প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী মানুষ জানতে পারবে বিশ্বমানবতার জন্য কেমন ছিলেন বিশ্বনবি।

পশ্চিমা বিশ্ব যান্ত্রিক উন্নতির দিকে এগিয়ে গেলেও সভ্যতার শিখরে পৌছতে ব্যর্থ হয়েছে। মুসলিম উম্মাহ বর্তমানে বিপর্যস্ত ও পর্যুদস্ত হলেও ইসলাম বিদ্বেষীদের ঘৃণ্য আক্রমণ থেকে মুক্ত নয়। এর একমাত্র কারণ, ইসলাম, কুরআন ও বিশ্বনবির সুমহান আদর্শ বুকে ধারণ করে মুসলমান। যে কুরআন ও নবির আদর্শ অন্ধকার জগত থেকে মুমিন মুসলমানকে দেখায় আলোর পথ।

মুসলিম উম্মাহকে বিপথগামী করতে, বিশ্বের বুকে তাদের মনোবলকে ভেঙে দিতেই যুগে যুগে ইসলাম বিদ্বেষীরা কখনো ইসলামের উপর আক্রমণ করেছে। আবার কখনো বিশ্বনবির ব্যঙ্গ চিত্র প্রকাশ করে চালিয়েছে ঘৃণ্য অপপ্রয়াস। এ থেকেই প্রমাণিত ইসলাম, কুরআন ও বিশ্বনবির আদর্শ চিরন্তন সত্য ও এর বিবরণ যর্থার্থ।

আসুন দলমত নির্বিশেষে দেশের নবীপ্রেমিক মুসলমানরা ফ্রান্সের সকল পণ্য বর্জন ও দলমত নির্বিশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইজ্জত রক্ষায় প্রতিবাদ অব্যাহত রাখি।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার