একাদশ সংসদের প্রথম দিন থেকে শপথ না নেয়ার বিষয়ে অনড় ছিল বিএনপি। দলের এমপিদের শপথ ঠেকানোর বিষয়ে মরিয়া ছিলেন শীর্ষ নেতারা। প্রথমে এক এমপি শপথ নেয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়। স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এ ইস্যুতে দফায় দফায় বৈঠকও করেন।

চার এমপিকে নিয়ে আবার তাদের ছাড়াও বৈঠক হয়। শপথ নিলে পরিণতি কী হতে পারে সে ইঙ্গিতও দেয়া হয় তাদের। সব মিলে শপথ ইস্যুতে বিএনপির মধ্যে নানা ধরনের নাটক হয়। শেষ দিন এসে তারা হঠাৎ করেই শপথের বিষয়ে নাটকীয় সিদ্ধান্ত নেন। চলতি সংসদের মেয়াদের ৯০তম দিনে সোমবার হঠাৎ চার এমপিকে শপথ গ্রহণের নির্দেশ দেন দলের হাইকমান্ড। এভাবে হঠাৎ নির্দেশ দেয়াকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে কাগুজে বাঘের হালুম-হুলুম গেলুম-এলুম নাটক।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপির চার সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন বলে জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যদিও তিনি এখনও শপথ নেননি। তবে তিনি আজ শিগগিরই শপথ নেবেন বলে স্পিকারের কাছে সময় চেয়েছেন। 

আসলে বিএনপির পরাজয় সেদিনই হয়েছিল যেদিন আন্দোলনের সুযোগ কাজে না লাগিয়ে আওয়ামীলীগের অনুকম্পার উপর চড়তে গিয়েছিলো, আর এই সুযোগ আ.লীগ ভালভাবে কাজে লাগিয়েছে, সুতরাং বিএনপি এখন রাজনীতি করতে হলে আ.লীগের ছত্রছায়া অনুকম্পার রাজনীতি করতে হবে।

কথা হচ্ছে, সুবিধাবাদিদের দলে ঐক্য আর ভাঙ্গনের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। নির্বাচনের আগে মাঠ কাঁপানো প্রিন্স অফ আদমবেপারীরা এখন গেল কই? নির্বাচনে দলের ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের মনোয়ন না দিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্যে বুদ্ধিমানের পরিচয় দিয়েছেন প্রিন্স অফ আদমবেপারী নেতা। নেতাকেতো কোনদিনও দেখলাম না বহিঃবিশ্বে কোনও একটা বিশ্ব নেতার সাথে কথা বলতে। আর সেটা না পারাটাই স্বাভাবিক এ তো জ্ঞান ও মেধাশুন্য নেতা। তাছাড়া বিশ্ব রাজনৈতিক মঞ্চে তার ব্যর্থতার পাল্লাই বেশি ভারী।

তার প্রথম ব্যর্থতা তিনি এমন একটি বলয়ে ঘিরে থাকেন যারা বিএনপির চেয়ে নিজেদের স্বার্থ খোঁজেন বেশি। 

দ্বিতীয় ব্যর্থতা, তিনি যোগ্য নেতাদের শত্রু বানিয়ে দূরে ঠেলেন আর অযোগ্য চাটুকার মাকাল ফলদের পদে বসান- যারা ঐ পদের জন্য কখনও যোগ্য নয়। তার বাস্তব উদহারণ বিএনপির সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন। গত নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে সেখানে দেওয়া হলো অশিক্ষিত আদম ব্যাপারীকে। অথচ সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর জন্যই বিএনপির সাফল্য ছিলো লক্ষণীয়। শিক্ষাঙ্গনে নকল মুক্ত পরিবেশ, জাটকা নিধন বন্ধ, কারিগরি শিক্ষার বিপ্লব ও জিপিএ পদ্ধতির অগ্র নায়ক তিনি। 

তৃতীয় ব্যর্থতা, তিনি সঠিক পরামর্শ দাতাদের অপছন্দ করেন, যেমন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। আর যারা জ্বী হুজুর জ্বী হুজুর করে এবং ভুল পরামর্শ দেয় তাদেরকে মুল্যায়ন করেন। যেমন তার ডানে বামের প্রভাবশালী নেতারা।

চতুর্থ ব্যর্থতা, তিনি ভুল থেকে শিক্ষা নেননা, বরং ঐ ভুলটাকে সঠিক প্রমানে আরো দশটা ভুল করেন। এটা ঠিক রাজনৈতিক বালখিল্যতা ছাড়া আর কিছু নয়।

বিএনপির তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা এখন কিছু কিতাবী কথা বলে সান্তনা দেবার চেষ্টা করছেন। বলছেন, নেত্রীকে জেল থেকে মুক্ত করতে সংসদ ও তার বাহিরে যুগৎপত আন্দোলন করতে এটি দলের সিদ্ধান্ত। আবার তার দলেরই নির্বাচিত সংসদ সদস্যারা সংসদে যাবে বলে ট্রাইবুন্যালে কেস করেছেন। কারণ তারা নাকি জনগনের ভোট নিয়ে মীরজাফরগিরি করতে পারবেন না। আবার এরাই কিন্তু দলের নীতিনির্ধারক। এ কেমন দ্বান্দ্বিক ও স্ববিরোধিতা বিএনপির?

বাস্তবতা হলো বিএনপির ছাল, চামড়া ,লজ্জা-শরম বলতে আর কিছুই নাই। আর এটা কোন সুস্থ রাজনৈতিক দলের রাজনীতি হতে পারে বলে বিশ্বাস করার নয়। 

তবুও তাদের অবস্থা এমন যে, প্রচন্ড খরা রোদ দুইজন কুস্তি করতে মাঠে নেমেছে। এর মধ্যে একজন রুগ্ন পাতলা আর একজন তাগড়া জোয়ান। স্বাভাবিক ভাবেই রুগ্নরোগীকে এক ধাক্কায় মাটিতে ফেলে তার বুকের উপর বসবে। এখন দুর্বল রুগ্নটির হাতের আঙুলে নখ থাকায় কিছুক্ষন পর পর বুকের উপরে বসা তাগড়া জোয়ানকে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে খামচায় আর বলে আমি বাঘ এবার খাইছি তোরে ! হালুম-হুলুম খেলুম-গেলুম। আহ কি করুণ দৃশ্য। 

আমাদের দেশের দৃশ্য ঠিক এমনই বিএনপির বুকের উপর আওয়ামীলীগ বসা। আর এমতবস্থায় নিচে পড়া রুগ্ন বিএনপি কিছুক্ষন পরে পরে নিঃশ্বাস নেয় আর বলে আমি বাঘ এবার খাইছি তোরে! 

নাটকতো শেষ এবার মিলে যাবার পালা! পাঠক একটু ধৈর্য ধরি। হয়তো কয়দিন পর শুনবো যে তারেকের নির্দেশে দেশ নেত্রীকে মুক্ত করার জন্য  ক্লিন ইমেজের মহামান্য মহাসচিব আওয়ামীলীগের মন্ত্রী হতে রাজি! 

আসলে বিএনপিতে রাজনীতিবিদ মনে হয় কখনোই ছিল না। কর্নেল ওলি, বদরুদ্দোজা ও ড. এহসানুল হক মিলনদের মত বীরপুরুষদের লাথি মেরে বের করা ও একগুঁয়েমির ফল কি হলো তা পাঠক সবাই দৃশ্যমান। 

যদিও বদরুদ্দোজাও এখন এরশাদের মতো একজন গোপালভাঁড়। তবে মজার বিষয় হলো সর্বশেষ গোপালভাঁড় হলো ফখরুল সাহেব ও বিএনপির রাজপুত্র প্রিন্স অফ আদমবেপারীর নেতা। 

বর্তমান দৃশ্যে গণতন্ত্র হেরে একনায়কতন্ত্রের নৌকা পুরোদমে চালু হয়ে গেলো। 

ফলাফল: হারলো গণতন্ত্র জিতলো একনায়কতন্ত্র।