কতটা ত্যাগ করতে পারলে একজন পুরুষ বাবা হতে পারেন তার অনুপম দৃষ্টান্ত তুমিই বাবা।

আমি আসলে বাবা-মাকে ভালোবাসার জন্য বিশেষ কোনো দিন রাখতে চাই না। বাবা-মাকে ভালোবাসতে বিশেষ কোনো দিনের প্রয়োজন হয় না। আমার কাছে ৩৬৫ দিনই বাবা আর মা দিবস।

বাবা দিবস, মা দিবস, ভালোবাসা দিবস এগুলো আসলে আমাদের সঙ্গে যায় না। এটা আমাদের সংস্কৃতি না, পশ্চিমা সংস্কৃতি। আধুনিকতার এই যুগে অনেক কিছু আমাদের সংস্কৃতিতে মিশে গেছে। এটা আসলে ঠিক না। বিশ্বের অনেক দেশে ১৮+ হলে বাবা-মা তাদের সন্তানদের আলাদা করে দেন। ওদের সম্পর্কটাই এমন। বাবা-মাকে ভালোবাসার জন্য তারা বিশেষ দিন খুঁজতে পারে, আমরা না। বাঙালি জাতি দিন দিন উৎসব এবং দিবস প্রিয় জাতিতে পরিণত হচ্ছে। বাবা-মায়ের মতো দেশকে ভালোবাসবো, এটা আমার ৩৬৫ দিনের ভালোবাসা। এটা আমার দায়িত্ব। আমি বাঙালি থাকবো ৩৬৫ দিন। এটা মন থেকে মেনে নিতে হবে। যাই হোক, আজ বিশ্ব বাবা দিবস। বিশ্বব্যাপী দিনটি পালিত হচ্ছে। বাবা দিবস উপলক্ষে পৃথিবীর সকল বাবাকে শুভেচ্ছা জানাই।

যে কথাটা হয়তো বাবাকে বলা হয়নি কখনো। যে মানুষটার জন্য রাজ্যের ভালোবাসা জমা হয়ে আছে ভেতরে। আর হবেই না কেন? সন্তান বড় হয়ে গেলে বাবার সঙ্গে একধরনের দূরত্ব তৈরি হয়। অথচ এই বাবার পায়ে পা রেখেই হয়তো সন্তান প্রথম হাঁটা শিখেছে। কিংবা বাবার হাতের মাঝে হাত রেখে শিখেছে কোনো বর্ণ লিখতে। সময়ের ব্যবধানে সেই বাবা কেবল সংসারের কর্তা বনেই যান। আমাদের সবার জীবনেই একজন সুপার হিরো থাকে। তার নাম `বাবা`। ছোটবেলায়, যখন পৃথিবীকে একটু একটু করে চিনতে শুরু করি, তখন থেকেই আমাদের চিন্তার জগত যিনি সুপ্রসারিত করেন, তিনি বাবা। আমরা তখন ভাবতে ভালোবাসি, বাবারা সব পারেন! আর তাই তো রঙিন একজোড়া জুতা কিংবা পছন্দের খেলনাটির জন্য বেশিক্ষণ মন খারাপ করে থাকতে হয় না

পৃথিবীতে অনেক দরিদ্র মানুষ আছে, অনেক ধনী মানুষও আছে। আছে নানা পেশার, নানা মতের, নানা ধর্মের মানুষ। কিন্তু বাবা শব্দটির ব্যাখ্যা করতে আর কোনো উপমা কিংবা পরিচয় দরকার হয় না। দরিদ্র বাবা কিংবা ধনী বাবা বলেও কিছু নেই। বাবা শব্দের অর্থই বাবা। নিজের সবটুকু দিয়ে সন্তানকে মানুষকে করতে চান তিনি। নিজের জীবনের অপূর্ণতা সন্তানের মাধ্যমে পূরণ করতে চান।

অনেক পরিবারে বাবার সঙ্গে সন্তানের কিছুটা দূরত্ব দেখা যায়। ছোটবেলা থেকেই মায়ের আঁচল ধরে ঘ্যানর ঘ্যানর করার অভ্যাস আমাদের, বাবাকে তখন মনে হয় রাগী আর গম্ভীর কেউ! সমস্ত আবদার যেন মায়ের মাধ্যমেই বাবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে! একটু একটু করে দূরত্ব বাড়ে অনেকসময়। বাবা তার গাম্ভির্যের আড়ালে লুকিয়ে রাখেন সন্তানের সমস্ত অনিশ্চয়তা, প্রতিবন্ধকতা। দুশ্চিন্তার এতটুকু আঁচড় যেন সন্তানকে না ছোঁয়!

দূরত্ব কিংবা গাম্ভীর্য, যাই থাকুক না কেন, হৃদয়ের টানটা ঠিকঠিক মায়ের মতোই। দূরে থাকা সন্তানের অসুখের খবর কোনো রকম মোবাইল-টেলিফোন ছাড়াই কী করে যেন জেনে যান! কাছে থাকলে একটু দূরে দূরে সরে থাকা আর দূরে থাকলে মন পুড়ে যাওয়া। বাবার সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটাই এমন। ভালোবাসি বলেই কখনো বলা হয় না, ভালোবাসি! সন্তানের সফলতার জন্য তাঁর নিজের ঘাম ঝরাতে তিনি একটু ও চিন্তা করে না। দেশের বাহিরে থাকার জন্য বাবাকে বেশি কাছে পাইনি, কিন্তু যতটুকু পেয়েছি মনে হয়েছে পৃথিবীর সেরা মানুষ একমাত্র বাবা। এতোটুকু কষ্ট পাবে সন্তান চান না বাবা। আরে সামান্য বাজার করতে গেলে বাজারের থলেটা ও আমার হাতে দিতেন না বাবা, আমার কষ্ট হবে বলে।এভাবেই সকল বোঝা নিজের কাঁদে তুলে নেন বাবা। সন্তান যখন কোন সফলতা অর্জন করে মনে হয় সফল হয়েছেন বাবা। বাবা তো এমনি। বাবার যে কত গুন আছে তা কখনো বলে কিংবা লিখে ব্যাখ্যা করে শেষ করা যাবে না। আমার মতো সবার বাবা ও সবাইকে এমন করেই মানুষ করে ভালবাসে কিন্তু আজ দুর্ভাগ্য সমাজের অনেক বাবার আশ্রয়স্থল বৃদ্ধাশ্রম। আফসোস ঐ সকল সন্তানদের জন্য। বাবা মায়ের জন্য প্রতিটি মুনাজতে থাকে রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বায়নি সাগিরা।বাবারা যদি আমাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারে তবে আমরা কেনো পারিনা বাবাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখতে?বাবাদের জন্য ভালবাসা থাকুক অভিরাম ।