বাগেরহাটে লোকাল ইট দিয়ে তড়িঘড়ি করে সড়ক নির্মাণ

সিসিআরআইপি প্রকল্পের আওতায় ৯ কোটি ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ

Img

প্রকল্পের মেয়াদ দিন দিন কমে যাওয়ার কারণে বাগেরহাটের শরণখোলায় যেন তেন ভাবে একটি সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়মনীতির অনুসরণ না করে বালুর পরিবর্তে কাঁদা মাটি বাটার ইটের পরিবর্তে গ্রামাঞ্চলের লোকাল পাজার নিন্মমানের ইট ব্যবহার করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তবে চলমান নির্মাণ কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশল বিভাগের নজরদারী কম থাকায় নিন্মমানের কাজ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে অনেকটা চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। যার ফলে প্রকল্পের স্থায়ীত্ব নিয়ে সংঙ্কিত স্থানীয় জন সাধারণ।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ২০১৬ সালে (সি.সি.আর.আই.পি) প্রকল্পের আওতায় ৯ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজাপুর বাজার-জীবন দুয়ারী-রায়েন্দা জি.সি সড়ক নির্মাণের কাজ পান ঢাকার বনানীস্থ মিজান কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ ইতোমধ্যে দু-দফা শেষ হলেও সড়কটির ৪৮.৮০ মিটার কার্পেটিং এর অর্ধেকও এ পর্যন্ত শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ। আগামী ১০/১২ দিনের মধ্যে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ না হলে বর্ধিত সময়ের জন্য (৪র্থ বারের মত) আবেদন করতে হবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের। তাই দ্রুত কাজ শেষ করতে গিয়ে অনিয়মের মধ্য দিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়কটির কার্পেটিং এর কাজ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে গেলে, সড়ক সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা আবুল হাশেম, গণি মিয়া, বারেক হাওলাদার সহ অনেকে বলেন, ৩ বছর পূর্বে সরকার রাস্তাটি পাকা করার জন্য কয়েক কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু প্রথম দিকে ঠিকাদার মাটি খুড়ে ২/৩ বছর রাস্তাটি ফেলে রাখার কারণে গ্রামের শত শত মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

বর্তমানে কাজ শুরু হলেও তদারকির অভাব থাকায় ঠিকাদার তার ইচ্ছামত নিন্মমানের উপকরণ ব্যবহার করছে। এছাড়াও নাম প্রকাশ না করা শর্তে, স্থানীয়দের কয়েকজন বলেন, গ্রামাঞ্চলের লোকাল পাজার ইট, খাল ও ডোবা থেকে কাঁদা-মাটি মিশ্রিত বালু উত্তোলণ করে রাস্তায় ব্যবহার করলেও কর্মকর্তাদের দৃষ্টিতে কাজ অনেক ভাল হচ্ছে। এমনকি কার্পেটিং এর পূর্বে রাস্তা জুড়ে ব্যাপকভাবে কেরোসিন ছিটিয়ে দেয়ায় তার গন্ধ বসতবাড়ি পর্যন্ত ছড়াচ্ছে।

সঠিক তদারকির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্পের সুফল বেশিদিন ভোগ করা যাবে না বলে সাধারণ মানুষের ধারণা। তাই যথাযথভাবে যাতে সড়কটি যাতে নির্মাণ করা হয় সেজন্য তারা দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রতি জোর অনুরোধ করেন।

প্রকল্প এলাকায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নির্ভরযোগ্য কাউকে পাওয়া না গেলেও এ ব্যাপারে সাইড ইঞ্জিনিয়ার মোঃ বাবু বলেন, রাস্তাটি নির্মাণের ক্ষেত্রে কোন ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না। নিয়ম মেনেই কার্যক্রম চলছে। কাজ সম্পর্কে স্থানীয়দের তেমন কোন জ্ঞান না থাকায় ঠিকাদারকে বেকায়দায় ফেলতে উল্টা পাল্টা অভিযোগ করেছে।

তবে, উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, ওই প্রকল্পের মেয়াদ চলতি মাসের ৩১ মে শেষ হবে। তাই ঠিকাদার সংশ্লিষ্টরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সড়কটি হস্তান্তরের জন্য খুব দ্রুত কাজ চালাচ্ছেন।

এছাড়া অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত উর্ধ্বতন কর্মকর্তারও প্রকল্পটির খোঁজ খবর নিচ্ছেন। তবে রাস্তার ম্যাকাডাম ঠিক রাখতে স্থানীয়ভাবে কিছু বালু ও লোকাল ইট ব্যবহার করতে হচ্ছে।

পূর্ববর্তী সংবাদ

বাগেরহাটে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

 বাগেরহাটের শরণখোলায় পুকুরের পানিতে ডুবে শুভ ঋষি (১২) নামে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১৯ মে) দুপুরে উপজেলার রায়েন্দা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

শুভর বড়ভাই ইন্দ্র ঋষি বাংলানিউজকে জানান, পরিবারসহ তারা ঢাকায় বসবাস করেন। সারাদেশে চলছে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ। আর তাই ভোটার হওয়ার জন্য গত বুধবার (১৫ মে) ঢাকা থেকে তিনি তার পরিবারের সঙ্গে শরণখোলায় দাদার বাড়িতে আসেন। রোববার দুপুরে শুভ সাতার না জানায় অন্য শিশুদের সঙ্গে এলাকার ভূমি অফিস সংলগ্ন সোনালী মসজিদের পুকুরে গোসল করতে নেমে ডুবে যায়। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে শুভকে উদ্ধার করে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক খয়রুল বাসার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার