বাংলাদেশের হার্ট এটাকের অন্যতম প্রধান কারণ হল আসলে ভোজ্য তেল, সয়াবীন / অন্যান্য তেল এ থাকা মাত্রাতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাট এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট। যেটা সামান্য খাবার কারনেই দৈনিক লিমিট ক্রস করে যাচ্ছে, এবং মানুষ হার্ট এটাকের স্বীকার হচ্ছে মাত্র ৩০-৪০-৫০ বছর বয়সেই।

আর দোষ হচ্ছে সব ওই নিরীহ অবলা গরুর ছাগলের উপর, যদিও গরু কিছুটা দায়ী। কারণ অনেকে বেশী গরু খায়, খালী চর্বি খায়, ঝোল খায়, গরুর সাথে যে ঝোল থাকে সেটা কিন্তুু আবার সয়াবীন তেলে ভরা, গরুর চর্বি থেকে ওইটা বেশী খারাপ।

কাচ্চিঃ- কাচ্চিতে তো মাংস কম থাকে, কিন্তু যেই তেলটা পোলাউর সাথে থাকে ওটা খারাপ, ওটার মধ্যে শুধু ট্রান্সফ্যাট আর ট্রান্সফ্যাট। কোন অবস্থার পরিপেক্ষিতে যদি এক বার বাহিরে (হোটেল, রেস্তোরা) কাচ্চি খেতে হয়েছে তাহলে আগামী ১ মাস নো মাংস।

তাহলে এখন কিভাবে চলতে হবে?

★ গরু-খাসীর রানের মাংস বা অন্য অঞ্চলের চর্বি ছাড়া মাংস খাওয়া যাবে, কিন্তু লিমিট হল সপ্তাহে ৩৫০ গ্রাম জনপ্রতি, একটু আধটু চর্বি আসলে সমস্যা নাই, শুধু চর্বির দলা বা মাংস-চর্বির ৫০-৫০ মিক্স পীসগুলো এড়িয়ে চলুন।

★ আমরা প্রচুর ঝোল খাই, সমস্যা হল ঝোলে তো ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ তেল থাকে, ওই তেলের ট্রান্সফ্যাট হল বিশাল প্রবলেম, কাজেই ঝোল খেতে হবে খুব কম জাস্ট কোনরকম ভাতকে ভেজানো। পানি বেশী দিয়ে ঝোল বেশী করতে পারেন, কিন্তু তেলের পরিমান হবে প্রতি লিটারে ৫০-৬০ মিলি লিটার, তেল কমিয়ে, মসলা একটু বেশী দিয়ে হলেও তরকারী রাঁধতে হবে।

★ যিনি রাঁধবেন তাকে বলে দিবেন যেন গরুর-খাসীর মাংসে খুব কম তেল দেয়। প্রতি কেজিতে মাত্র ৫০-৬০ এম এল এনাফ, এরপর যখন রান্না হয়ে যাবে তখন তেলটা উপরে ভেসে উঠবে, ভেসে উঠা তেল ফেলে দিতে পারেন(আবার ভাইবেন না টাকা দিয়ে কেনা তেল ফেলে দিব)। ডালে, তরকারীতে তেল কম দিতে হবে, প্রতি লিটারে ৫০ -৬০ এম এল।

★ বাহিরের ভাজা পোড়া খাবেন না, সিঙ্গারা – সমুচা-পরোটা এসব যদি খেতেই হয় প্রয়োজনে বাসায় করে খাবেন মাসে ১-২ বার, কিন্তু বাহিরে না। বাহিরে ব্যবহারিক খোলা তেলে ট্রান্সফ্যাট মাত্রাতিরিক্ত বেশী থাকে এবং তেলকে পোড়ালে সেটা বাতাসের সাথে বিক্রিয়া করে নিজে নিজে ট্রান্সফ্যাট হয়ে যায়। কাজেই যখন বাহিরে পোড়া তেল খাচ্ছেন ডাইরেক্ট সায়ানাইড খাচ্ছেন।

★ ফাস্টফুডে কিন্তুু ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ তেল দিয়েই ভাজে সব কিছু, কাজেই ফাস্ট ফুড থেকে চিকেন, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, প্রয়োজনে বাসায় তৈরি করে খান, কারণ বাসায় তো আপনি ব্র্যান্ডের তেল খাচ্ছেন যেটাতে ট্রান্সফ্যাট লিমিটেড।

★ বাহিরে যদি খেতেই হয় তাহলে রুটি-ভাত-রান্না করা মাছ মাংস এইসব খাবেন ভুলেও তেলে ভাজা কিছু খাবেন না। কাচ্চি-পোলাও-গরু-মুরগী খেতে ইচ্ছে করলে নিজের বাসায় রান্না করা খান।

★ চিংড়ী মাছে গরু-খাসীর তুলনায় ডাবল কোলেস্টেরল থাকে, কাজেই চিংড়ী মাছ খেতে পারবেন 200 গ্রাম প্রতি সপ্তাহে এর বেশী নয়। তেলাপিয়া মাছে মার্কারী – লেড – ক্রোমিয়াম জমে, বিষাক্ত সুতারাং বাদ দিন খাওয়। সামুদ্রিক মাছ খেলে খুব ভাল সামুদ্রিক মাছের তেল ব্লক খুলে দিবে, তাই বেশী বেশী সামুদ্রিক মাছ খান, নদী-পুকুরের মাছও ভাল, মাছের তেল হল ভাল তেল, এইচডিএল থাকে।

যদি এমন কোন উৎস থেকে সয়াবীন তেল সংগ্রহ করতে পারেন যিনি হাইড্রোজেনেটেড করেন না, জাস্ট নরমাল ঘানি ভাঙ্গা তাহলে সেই তেল বেশী একটু খেলেও প্রবলেম নেই বড়জোর ভুড়ি বাড়বে কিন্তু হার্ট ব্লক হবেনা। ঘানিতে ভাংঙ্গা সয়ারিন তেলে ট্রান্সফ্যাট থাকেনা, তবে ওই তেল একটু পাতলা, সংরক্ষণ অসুবিধা মানুষ কিনতে চায়না।

সরিষাঃ- সরিষা যদি হাইড্রোজেনেটেড না করে নরমাল ঘানিভাঙ্গা না হয় তবে কিছুটা সেইফ। তবে সমস্যা হল, সরিষায় আবার মাটিতে থাকা মারকারী-লেড এইসব শোষণ করে, বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়ায় এখন যেখানে সেখানে অনেক ইন্ডাস্ট্রি হয়েছে, যেখান থেকে মার্কারী-লেড মাটিতে চলে যাচ্ছে, যদি সরিষা এমন মাটিতে হয় তাহলে সেটা সেইফ না, এটা বের করা সম্ভব না, যে সরিষা কোন মাটিতে হচ্ছে। কাজেই আমি রিকমেন্ড করিনা আর ইন্ডাস্ট্রি থেকে সরিষা আসলে ওইটাও হাইড্রোজেনেটেড হবে।

হাইড্রোজেনেটেড না হলে সরিষা বা সয়াবীন দুইটাই এক।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের মেজবানী খাবারঃ-

মেজবানী তে অনেক জায়গায় (হোটেলের) গরুর কোন কিছু ফেলা হয়না, পুরো গরু সব চর্বি সহ পাক করে ফেলে, খেতে চরম স্বাদ হয়। তার উপর আছে, গরুর কলিজা, যেটাতে লেড-মার্কারী সহ সব বিষ জমা হয়। এতে আরও আছে, বাজারের ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ সয়াবীন তেল, কাজেই একটা ব্যাপক বিষাক্ত। কাজেই হোটেলের মেজবানী কিন্তু পিউর সায়ানাইড, খাবেন না, খাওয়াবেন না।

গ্রামীন মেজবানী: তেল পরিমিত হলে ঝুঁকি কম।

শেষকথাঃ- যদি ভাজাপোড়া বেশী খান, বেশ তেল সমৃদ্ধ খাবার খান, তাহলে কিন্তু সিক্সপ্যাক নিয়েও আপনার হার্টে ব্লক হতে পারে ট্রান্সফ্যাটের কারণে, স্যাচুরেটেড ফ্যাটের কারণে। কারণ আপনি ক্যালরী মেইন্টেইন করেই খাচ্ছেন কিন্তুু ট্রান্সফ্যাট গিয়ে সব জমতেছে হার্টের আর্টারীর মধ্যে।

তার মানে বাংলাদেশের জন্য ডায়েট কিন্তুু ঝুঁকিপূর্ণ, চিকন হবেন, বাট বুকে ব্লক হবে। যদিও বাংলাদেশে ট্রান্সফ্যাট মেইন্টেইন করেনা সরকার।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে হার্টের ব্লক হওয়া থেকে রক্ষা করবে এটাই প্রার্থনা।

লেখক:  রেজাউল করিম
সাংগঠনিক সম্পাদক
পুষ্টিবিদ ফাউন্ডেশন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা