বরিশালে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে মায়ের সংবাদ সম্মেলন

Img

পটুয়াখালীর মুসলিম পাড়ায় ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার ঘটনায় বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মা কামরুন্নাহার বেগম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা মা কামরুন্নাহার বেগম ও প্যারালাইজড বাবা নুরুল ইসলাম মাস্টার। 

সোমবার (৩০ নভেম্বর) বেলা ১১টায় নগরীর আগরপুর রোডস্থ বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলন কামরুন্নাহার বেগম বলেন, তার ছেলে তানভীর রহমান ঢাকার এক ফার্মেসীতে চাকরি করতো। কিছুদিন আগে পটুয়াখালী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড মুসলিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহীন ফেরদৌসের মেয়ে মারিয়ার সঙ্গে তানভীরের মোবাইলফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। উভয়ের প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতে পেরে মারিয়ার বাবা শাহীন ফেরদৌস, স্ত্রী রুমা বেগম, মেয়ে মারিয়া গত ৫ নভেম্বর তানভীরকে ঢাকা থেকে তাদের বাড়িতে ডেকে নেয়। তানভীর পটুয়াখালীতে এসেছে সে কথা না জানিয়ে ৭ নভেম্বর তানভীর বাসায় ফোন করে ২ হাজার টাকা বিকাশ করতে বলে। এরপর ১১ নভেম্বর তানভীর রহমানের  মরদেহ শাহীন ফেরদৌসের বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে পটুয়াখালী থানা থেকে তানভীরের বোন নিপা বেগমের কাছে ফোন করে জানায় তানভীর নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তারা পটুয়াখালী হাসপাতালের মর্গে তানভীরের সন্ধান পান। 

তিনি আরো বলেন, আমার মেয়ে নিপাসহ কয়েকজন মুসলিম পাড়া এলাকায় গিয়ে জানতে পারে তানভীরকে ১১ নভেম্বর সকাল ৭টা থেকে ৩টা পর্যন্ত আটকে রেখে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার সঙ্গে মরিয়ার বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে শাহীন ফেরদৌস। এতে তানভীর রাজি না হওয়ায় তাকে শরীরিকভাবে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। মারিয়ার পরিবার তানভীরের মরদেহ বাসায় রেখে গুম করার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। তানভীরকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে দায় এড়াতে তার গলায় ওড়না পেচিয়ে রাখে।

কামরুন্নাহার বেগম বলেন, আমার ছেলেকে হত্যার পরও হত্যাকারী শাহীন ফেরদৌস পটুখাখালী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, তানভীরের মরদেহ যেখাননথেকে উদ্ধার করা হলো পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদের দায়ের করা মামলা নিলো কিভাবে? তিনি আরো বলেন, ওই এলাকার লোকজনের মাধ্যমে জানতে পেরেছি তানভীর তার বোনের বিয়ের পর বিয়ে করবে বলে শাহীন ফেরদৌসের কাছে সময় চেয়েছিল। কিন্তু তিনি তার মেয়েকে জোর করে বিয়ে করার চাপ প্রয়োগ করে। এতে রাজি না হওয়ায় তানভীরকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। 

এ ঘটনায় তিনি (তানভীরের মা কামরুন্নাহার বেগম) বাদী হয়ে শহীন ফেরদৌস, স্ত্রী রুমা বেগম, মেয়ে মারিয়া, পালিত ছেলে ইমরানের বিরুদ্ধে পটুয়াখালীর সিনিয়র
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। 

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি ছেলে হত্যার বিচার ও মামলার সুষ্ঠ তদন্তের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার