ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে চিরচেনা বন্দরনগরী এখন অনেকটাই ফাঁকা। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে স্বল্প সংখ্যক গাড়ি চলাচল করলেও অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। যানবাহনের চাপ নেই, যানজটের যন্ত্রণাও নেই। এ যেন কোলাহলমুক্ত নগর।

মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) নগরীর বহদ্দারহাট, চকবাজার, আন্দরকিল্লা, লালদীঘি, কোতোয়ালি, জিইসি, ২ নম্বর গেইট, মুরাদপুর, টাইগারপাস, আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ফাঁকা দেখা গেছে। ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা নগন্য। পাশাপাশি গণপরিবহনও কমে গেছে।

রোববার (১১ আগস্ট) থেকে ঈদের ছুটি শুরু হলেও এর আগেই বৃহস্পতিবার বিকেলে (৮ আগস্ট) অনেকে শহর ছেড়েছেন। শুক্রবারও (৯ আগস্ট) পরিবার নিয়ে গ্রামে গেছেন অনেকে। বুধবার (১৪ আগস্ট) বেশ কিছু অফিস-আদালত খুলবে। তবে সবার উপস্থিতি দেখতে আরও দুয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে, ঈদ সেলামির নামে মৌসুমী রিকশা চালক ও সিএনজি অটোরিকশা চালকরা নির্ধ‍ারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া আদায় করছে।

জিসান নামে ওয়াসার মোড় এলাকার এক বাসিন্দা জানান, ঈদের দিন নগরের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে ঈদের জামাত পড়েছি। পরে বিকেলের দিকে গ্রামের বাড়ি আনোয়ারায় গিয়ে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে রাতেই শহরে চলে এসেছি। আমাদের ভাড়া বাসাগুলো পুরোটাই ফাঁকা। সবাই ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়ি চলে গেছে। আমরা বাড়ির মালিক হয়ে এখন অনেকটা পাহাড়াদার হিসেবে কাজ করছি।

জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৬০ লাখ নগরবাসীর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষই নগরী ছেড়েছেন। তবে রয়ে গেছেন আদি বাসিন্দারা। এছাড়াও সংবাদমাধ্যমে কর্মরত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাদের ছুটি মেলেনি কিংবা একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজনে যারা নাড়ির টানে যেতে পারেন নি; তারা আছেন শহরে।

সামশুল নামে নন্দনকানন এলাকার এক বাসিন্দা জানান, জন্মের পর থেকেই শহরে ঈদুল আজহা উদযাপন করছি। শহরেই আমাদের বসবাস এবং বেড়ে ওঠা। ঈদ এলেই নগরী পুরোটাই ফাঁকা হয়ে যায়। সড়কে আর কোন যানজট থাকে না। এসময় ঘুরতে বেশ ভালোই লাগে।

ঈদের ছুটিতেও বিভিন্ন সরকারি অফিস-আদালত ও বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তারক্ষীরা দায়িত্ব পালন করছেন। জননিরাপত্তায় আছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও।

ঈদের ছুটি শেষে সবাই যখন নগরমুখী হবেন, তখন বন্দরনগর আবারও প্রাণ ফিরে পাবে, মুখরিত হবে চিরচেনা চট্টগ্রাম শহর।