ফ্রিজ ছাড়াই খাবার সংরক্ষণের পদ্ধতি

Img

ফ্রিজে সহজে খাবারের ব্যাকটেরিয়া জন্মায় না, তাই খাবার থাকে একদম তাজা। কিন্তু মাঝে মাঝেই ইলেক্ট্রিসিটির কারণে ফ্রিজে সব খাবার, মাছ, মাংস, যা খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হতে শুরু করবে, তখন কি করা যায়? হয়ত সব পঁচে গেলে আপনাকে ফেলে দিতে হবে। কিন্তু আপনি ফ্রিজ ছাড়াই আপনার খাবার সংরক্ষণ করতে পারবেন। মানুষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছে খাবারকে প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষণের জন্য। আপনিও আপনার খাবার সহজ কিছু প্রাকৃতিক পদ্ধতির মাধ্যমে খুব সহজেই ফ্রিজ ছাড়া লম্বা সময়ের জন্য একদম টাটকা রাখতে পারেন। এসব পদ্ধতি প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে খাবার সংরক্ষণ করার জন্য এবং শরীরের কোনো ক্ষতি ছাড়াই।

আসুন জেনে নেই ফ্রিজ ব্যতীত খাবার সংরক্ষণের কিছু আদিম পদ্ধতি

১। মুরগীর মাংসঃ যদি মুরগীর মাংস সংরক্ষণ করতে চান তাহলে এর পানির কন্টেন্ট কমিয়ে ফেলতে হবে, যেন তা সহজে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত না হয়। মাইক্রোওয়েভে কিছুক্ষণের জন্য রাখুন বা একে ভেজে ফেলুন। এরপর তা একটি বাটিতে রাখুন আর পাতলা সুতির কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন।

২। সবজিঃ আপনি সবজি কেটে সেগুলো রোদে শুকাতে দিন যেন তার আদ্রতার পরিমান কমে যায়, যেন ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ না হয়। আর শুকনো সবজির স্বাদও কিন্তু দারুন! আপনি চাইলে ভেজেও রাখতে পারেন দুই থেকে তিন দিনের জন্য, তবে এর বেশি না। এভাবে আপনি ফ্রিজ ছাড়াও সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন সবজি।

৩। দুধঃ দুধ শুধুমাত্র একটি উপায়েই সংরক্ষণ করতে পারেন- তা হলো দুধকে ফুটিয়ে। দুধকে ফুটতে দিন এবং এর মধ্যে এক চা চামচ পরিমান মধু দিন। এবার দুই থেকে তিন দিনের জন্য সংরক্ষণ করতে চাইলে তা দিনে দুইবার ফুটিয়ে নিন, সকাল এবং সন্ধ্যা। দুধ ফুটানোর পর তাতে মধু মিশিয়ে নেয়া, দুধ সংরক্ষণ করার সবচেয়ে ভালো উপায়।

৪। মাখন এবং জ্যামঃ আপনি যদি দোকান থেকে জ্যাম আর বাটার কিনে আনেন তবে তাতে ক্যামিকাল প্রিজারভেটিভ দেয়া আছে। কিন্তু যদি আপনি ঘরে তৈরি করেন তবে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, তাই বোতলগুলো ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখুন। একটি বড় বাটিতে পানি নিন এবং বোতলগুলো তাতে ডুবিয়ে রাখুন। কিছু সবজি শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়: গাজর শুকানোঃ গাজরের বোটার দিকের সামান্য সবুজ অংশ বাদ দিয়ে খোসা ছাড়িয়ে ৫ মি.মি. পুরু করে চাকা টুকরা করে নিতে হবে। ফুটানো পানিতে ৩-৪ মিনিট ভাপ দিতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ২.৫ গ্রাম (আধা চা চামচ ) হিসেবে পটাসিয়াম মেটা বাই সালফাইট মিশিয়ে ভাপানো ঠান্ডা গাজর ১.৫ ঘন্টা ডুবিয়ে রাখতে হবে,এর পর পানি ঝরিয়ে দলে বা চালনিতে হালকা ভাবে ছড়িয়ে দিয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। মার্চ এপ্রিল মাসে চড়া রোদে ৩-৪ দিন শুকাতে হবে।

৫। আলু শুকানোঃ কম চোখ যুক্ত বড় আকারের আলু নিতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম পটাসিয়াম মেটা বাই সালফাইট আগে থেকে মিশিয়ে রাখতে হবে। আলু পরিস্কার করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে ৩মি.মি. পুরু করে স্লাইস করে ফুটানো পানিতে ২মিনিট ভাপাতে হবে। ভাপানো আলু সামান্য ঠান্ডা করে আগে করে রাখা দ্রবনে ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রেখে দিতে হবে। এরপর পানি ঝরিয়ে পেয়াজের মত রোদে শুকাতে হবে। আলু শুকিয়ে মচমচে হয়ে টোস্ট বিস্কুটের মত গুড়িয়ে ভাঙ্গা গেলে আর রোদে শুকাতে হবে না, এর পর তা সংরক্ষণ করতে হবে, সংরক্ষিত আলু হয় একবারে ব্যবহার করে ফেলতে হবে নয়তো আবার রোদে শুকিয়ে রেখে দিতে হবে। এটা চিপসের মত ডুবো তেলে ভাজা যায়। মার্চ ও এপ্রিল মাস হচ্ছে আলু সংরক্ষণের সময়।

৬। বাধাকপি শুকানোঃ টাটকা এবং ঠাসা বাধাকপি ধুয়ে মোটা করে কুচি করে ফুটানো পানিতে ৩ মিনিট ভাপাতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ১.২৫ গ্রাম পটাসিয়াম মেটা বাই সালফাইট মিশিয়ে ভাপানো বাধাকপি ১.৫ ঘন্টা ডুবিয়ে রাখতে হবে। এরপর তা চড়া রোদে মচমচে করে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর তা সংরক্ষণ এর উপযোগী হবে,তবে মাসে একবার শুকনো বাধাকপি রোদে দেয়া উচিত।

৭। মটরশুটি শুকানোঃ পরিপক্ক ও তাজা মটরশুটির দানা ছাড়িয়ে নিয়ে নতুন আলপিন দিয়ে প্রতিটি দানার কেন্দ্র বিন্দু পর্যন্ত একটি ছিদ্র করতে হবে, প্রতি লিটার পানিতে ৫ গ্রাম (১ চা চামচ ) পটাসিয়াম মেটা বাই সালফাইট, ১ গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড এবং ১ গ্রাম খাবার সোডা মিশিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। ফুটানো পানিতে মটরশুটি ৩-৪ মিনিট ভাপাতে হবে , এর পর পানি ঝরিয়ে চড়া রোদে ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে। (বি:দ্র :-শুকানো সব্জি রান্নার আগে ৫-৬ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে আবার তাজা হয়ে উঠবে )

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার