বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় ওষুধের দোকানের আড়ালে মাদক বিক্রি ও দোকানের নিবন্ধন না থাকায় এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (২৯ জুন) জেলা প্রশাসনের এক ভ্রাম্যমাণ আদালত এই কারাদণ্ড দেন। 

আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী হাকিম জিএম রাশেদুল ইসলাম ও এটিএম কামরুল ইসলাম।

এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন- বগুড়ার র‌্যাব-১২ এর সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজ খান, জেলা ড্রাগ সুপার আহসান হাবিব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক। এ ছাড়া আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে থাকা কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় শাজানাপুরের টেংগা মাগুর এলাকায় ‘দি ইসলামিয়া চিকিৎসালয়’ ফার্মেসির অন্তরালে ‘ইথাইল অ্যালকোহল (৯০%)’ বিক্রি করছেন। 

ফার্মেসির মালিক মো. ইসরাফিল হোসেন (৭০)। সোবমার দুপুরে ওই ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হয়। তার কাছে প্রাপ্ত সকল ড্রাগ ও তথ্য পরীক্ষা করে দেখা যায়, তিনি কোন ধরনের নিবন্ধন নেই। অথচ ফার্মেসি চালাচ্ছেন। ঔষধ বিক্রির ছুতায় বিনা লাইসেন্সে বোতলে করে মাদক (অ্যালকোহল) খুচরা বাজারে বিক্রি করেন। ওই এলাকার উঠতি বয়সের যুবসমাজকে ধ্বংস করে চলছেন দীর্ঘদিন ধরে। স্থানীয় জনসাধারণের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও গোডাউনজাত করে রাখা হয়েছে এসব অবৈধ অ্যালকোহল। এসব অভিযোগে তাকে ৬ মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়।কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবেশীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী- ইসরাফিল দীর্ঘদিন ধরে এ অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন। সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়া সত্বেও তা থেকে বিচ্যুত হননি।

নির্বাহী হাকিম কামরুল ইসলাম জানান, ইসরাফিলের লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসি পরিচালনা এবং খ’ শ্রেণির মাদক লাইসেন্সবিহীন বিপনন, সংরক্ষণের অভিযোগ উত্থাপিত হয়, যা ঔষধ আইন ১৯৪০ এর ১৮ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ১০(ঘ) অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

অপরাধগুলো আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনের ২৭ ও ৩৬(২১) ধারায় অপরাধীর বয়স বিবেচনায় তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম  কারাদণ্ড দেওয়া হয়। 

একই সঙ্গে অবৈধ অ্যালকহল জব্দ করে ধ্বংসের আদেশ দেয়া হয়।এর আগে ২০১৭ সালেও একই অপরাধের দায়ে ইসরাফিলের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। তখনও তার জেল দেওয়া হয়।