ঈদ মানে আনন্দ ,ঈদ মানে খুশি ,ঈদ মানেইতো হাসি ঈদ সারাদিন উৎসব আর প্রিয়জনের সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের আনন্দ ভাগাভাগী করার নামই ঈদ।

সিয়াম সাধনার একটি মাস পালন শেষ করার মাধ্যমে ঈদ পালন করা হয়ে থাকে। ঈদ বড়দের চেয়ে ছোটদের বেশী আনন্দ দিয়ে থাকে। তবে ঈদ সবার মনে একটু চোঁয়া দিয়ে যায় ,বিশেষ করে ঈদুল ফিতর বা রমজান ঈদ।বাড়তি একটা ব্যাস্ততা থাকা হয় না এই ঈদে।

বাজ্ঞালী তথা মুসলমানের ধর্মীয় উৎসব এটি  আবেগ, অনুভূতী আনন্দ,উচ্ছাসের মধ্য দিয়ে মুসলমানদের ঈদ পালিত হয়। সারা বছর দেখা না হলে ও ঈদের নামাজ আদায় করার মাধ্যমে সমাজের দেশের পুরনো অনেক গুলো পুরনো প্রিয় মানুষের সাথে দেখা হয় এই দিনে । একে অপরের সাথে কোলাকুলির মাধ্যমে ভাবের আদান প্রদান হয়ে থাকে।

হিংসা বিদ্বেষ ভুলে একে অপরের ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ঈদ পালন করা হয়ে থাকে। দিন শুরুটা হয় অন্য রকম একটা অনুভূতি দিয়ে।সারা বছর কারো সাথে দেখা না হলে ঈদের দিন প্রিয় মানুষ গুলোর সাথে দেখা হয়ে থাকে।

কিন্তু এই পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছে যাদের কাছে ঈদ আনন্দ নিয়ে আসে না আর তারা হলেন প্রবাসী ।দেশের সূর্য সন্তান ,রেভিটেন্স যোদ্ধা । যারা নিজের কথা না ভেবে পরিবার ও দেশের জন্য নিরবে কাজ করে যাচ্ছে।

মোমবাতির মত অন্য কে আলোকিত করে থাকে। নিজে শেষ হয়ে যাবে তবুও অন্য কে ফুটে তুলবে আর এরাই হলো প্রবাসী।

প্রকৃত পহ্মে আমরা যারা প্রবাসে থাকি তাদের দেহ থাকে বিদেশে আর মন পড়ে থাকে দেশে , প্রতিটি মুহূর্তে আমরা  দেশ ও পরিবার নিয়ে ভাবতে থাকি । প্রবাস জীবন মানেই সংগ্রামী জীবন । উন্নয়নের সংগ্রাম ,এ জীবন কর্মমুখোর প্রতি নিয়ত সংগ্রাম করে চলতে হয় এইখানে। এখানে বেশীভাগ প্রবাসী নতুন জামা কিনার কথা চিন্তাই করে না, পুরাতন জামা পরেই এরা ঈদ পালন করে থাকে।

ফজরের আজানের পর দল বেঁধে ছোটাছুটি করে গোসল সেরে মিষ্টি মুখে নতুন জামা-কাপড় পরে ঈদগাহ মাঠে যাওয়া প্রবাসীদের জন্য যেন শুধুই স্মৃতি। নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় পাশের বাড়ির কেউ ডাক দিয়ে বলে না- সেমাই খেয়ে যাও। শত কর্মব্যস্ততার মাঝে ঈদের ছুটিতে লম্বা ঘুম অধিকাংশ প্রবাসীর ঈদের দিনের মূল কর্মসূচি।

ঈদের নামাজ শেষে দেশে ফোন করার পর বুকের ভেতর কষ্টের তীব্রতা যেন আরও বেড়ে যায়। বুকফাটা যন্ত্রণাকে বুকে নিয়ে বিছানায় যেয়ে চোখের পানিতে বালিশ বিজিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করেন অনেকে। আর এরপর দুপুর গড়িয়ে পুবের সূর্যটা পশ্চিমে হেলতে শুরু করে। বিছানা ছেড়ে দু’একজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সামান্য আনন্দের প্রত্যাশায় অজানার উদ্দেশ্যে ছুটে চলা। এভাবেই কেটে যায় প্রবাসীদের ঈদ নামের নিঃসঙ্গ বেদনার দিনটি অনেকের সাথে আলাপ করে এমনটি প্রকাশ করে সবাই।

প্রবাস মানে  সংগ্রাম যা করে প্রতিদিন আমাদের টিকেথাকতে হয়, কিছু মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। 

আরপ্রবাসে ঈদ মানে আমাদের কোন আনন্দ নেই।প্রতিদিনেরমত জীবন যুদ্ধে লড়াই করা।প্রবাসীদের কষ্ট কেউ বোঝে না।

আর তারা কাউকে কিছু বুঝতে ও দেয় না।।পরিবার যখনজিঙ্গাসা করে,ঈদে তুমি কি নিছো। তখন তারা ডিউটি অবস্থাথাকাকালীন বলে আমি তো শপিং করতেছে।তোমরাকিনছো।কিন্ত তা চরম মিথ্যা কথা।তারা কাজ নিয়ে ব্যস্ত।কিসের ঈদ কিসের শপিং।তারা একটা জিনিসে আনন্দ খুজেঁপায়,শুধু প্রিয় মানুষদের একটু হাসিতে। প্রবাসীরা বাস্তব জীবনে অভিনেতা বটে।

প্রিয় মানুষের মুখে হাসি  দেখলে অনুভূতিটা ভাল লাগে এই।এখন আমাদের কোন অনুভূতি নাই! এখন আমাদের সব হলপরিবার  আর দেশের মানুষের  সুখ দেখেই  ভাল লাগে আর এটাই   অনুভূতি ।

প্রবাস জীবনে   ঈদ পালন করতেছি ,পরিবার মা বাবা ভাই বোন সাথে ঈদ পালন করার মজাই আলাদা ।ঈদের দিন ফযর নামাজ আদায় করে ,কবরস্থান জেয়ারত করে শুরু হত এই দিনটি ।নতুন পাঞ্জাবি পরে প্রথমেই আম্মুকে সালাম করে শুরু করতাম অন্যদের সালাম করা । এক সময় ঈদের সালামী পাওয়া হলে ও ধীরে ধীরে তা নিজেকে দিতে হত। 

তবে সালা্মি নতুন টাকাটি ছোটদের হাতে দেয়ার মাঝে একটা আনন্দ আছে । বাড়ির সবার সাথে দেখা করে সালামি পর্ব শেষ করে ঈদের নামাজ আদায় করার জন্য রওনা করা হত। নামাজ আদায় করে বন্ধু বান্ধবদের সাথে কুলাকুলি করে ,বাসায় ফিরে আম্মুর হাতে নানা পিঠা ও সেমাই খাওয়ার মধ্য দিয়ে কেটে যেত ।

দেশের সেই ঈদের আনন্দেরদিনগুলো আজ বারবার মনে পড়ছে। তখন ঈদের জন্য কতকিছু বাজেট করতাম।এত টাকা দিয়ে শপিং করব, ওখানে-সেখানে যাব, ওখানে এটা খাব।

এ রকম আরও কত যেপরিকল্পনা করতাম তার শেষ নেই।আম্মু এটা রান্না করো,ওটা রান্না করো, কত বায়না।অনেক বেশি মিস করছি মাতোমাকে আর তোমার হাতের রান্না। 

মা-বাবা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন ছাড়া ঈদ যেন ঈদ নয়, অপূর্ণ ঈদ অনেক কষ্টের ঈদ। দাদা দাদু কে পাইনি ,নানা ছিল তিনি ও না ফেরার দেশে চলে গেছেন ।গত কয়টি বছর নানুই ছিল একমাত্র যে সালাম করার সাথে সাথে বুকে টেনে নিয়ে দুই হাত তুলে দোয়া করে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন ,নানু বলতো তুমি আমার রাজা নাতী সবার সেরা ,মিস করবো সব কিছুই এইবার।

কিন্তু এইবার এটি আর হচ্ছে না মিস করতে হবে সব কিছুই ,অন্য সবার মত আমাকে ও প্রবাস জীবনের ঈদ পালন করতে হব। এত সব আনন্দ ছাড়া ঈদ পালন করা খুবইকষ্টের।প্রতিবার পরিবারের সবার জন্য নতুন জামা কাপড় নিজে নিয়ে প্রছন্দ করে কিনে দিতে হত, , ভোগে সুখ নেই ত্যাগেই প্রকৃত সুখ প্রবাস জীবনে এই তার জলন্ত প্রমান। প্রকৃত পক্ষে প্রিয় মানুশের শূন্যতায় থেকে যায় প্রবাসে ঈদের অপূর্নতা।