মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়িতে এক গৃহবধুর মৃত্যুকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নানা গুঞ্জনের। অভিযোগ উঠেছে, ওই গৃহবধূকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে মৃত অনিল মন্ডলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যা করা গৃহবধূর নাম সুবর্ণা রানী মন্ডল (২২)। সে একই গ্রামের মৃত অনিল মন্ডলের ছেলে হৃদয় মন্ডলের স্ত্রী।

সুবর্ণা রানী মন্ডলের মা রেখা রানী মন্ডল জানান, বিগত ১৮ মাস আগে আমার মেয়ের সাথে মৃত অনিল মন্ডলের ছেলে হৃদয় মন্ডলের বিবাহ হয়। বিয়ের ৩-৪ মাস পরে হৃদয় মন্ডল বিদেশ চলে যায়।

সে সুবাদে হৃদয় মন্ডলের মেজো বোনোর স্বামী অঞ্জন মন্ডল আমার মেয়েকে বিভিন্ন ভাবে উত্ত্যক্ত করতো। প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে এক পর্যায়ে মেয়ের শরীরে হাত দেয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ ঘটনা আমাকে বললে আমি আমার জামাতা হৃদয় মন্ডলকে অবগত করি। কিন্তু তারা বিষয়টিকে হেসে উড়িয়ে দেয়।

তিনি আরও বলেন, অঞ্জন মন্ডল আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময় বিয়ের কথা বলতো এবং পালিয়ে যাওয়ার কথা বলতো। সুবর্ণা রানী মন্ডল তার স্বামী হৃদয় মন্ডলকে এ বিষয়ে জানালে ভগ্নিপতির অপরাধের প্রতিবাদ না করে সে সুবর্ণাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতো। এর সূত্র ধরে সুবর্ণা রানী মন্ডল আত্মহত্যা করেছে।

‘আমার মেয়ে স্ট্রোক করেছে বলে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আমাকে জানানো হয়। পরে বাড়ি গিয়ে জানা যায় আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে।’ বলেন সুবর্ণার মা।

এ ঘটনায় সুবর্ণা রানী মন্ডলের মা রেখা রানী মন্ডল বাদী হয়ে টঙ্গিবাড়ি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

টঙ্গিবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মো. আওলাদ হোসেন জানায়, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষটি তদন্তাধীন রয়েছে। যদি এমন কোন ধরনের বিষয় বস্তু পাওয়া যায় তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।