পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে সাবেক প্রতিমন্ত্রীর জানাযায় জনতার ঢল

Img

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি একেএম মোশাররফ হোসেন এফসিএ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বাদ জোহর ময়মনসিংহ নগরীর আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে মরহুমের নামাজে জানাযা হওয়ার কথা থাকলেও পুলিশি বাঁধায় সেখানে জানাযা করতে দেওয়া হয়নি। পরে নগরীর গঙ্গাদাস রোডস্থ মরহুমের নিজ বাসভবনের সামনে মরহুমের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মরহুমের জানাযায় শরিক হতে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, মোশারফ হোসেনের জানাযার নামাজে বাঁধা দিয়েছে পুলিশ। যা দুঃখজনক এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। তারা আরো জানায়, মরহুমের লাশ নিয়ে নগরীতে ঢুকার পথে মাসকান্দা বাইপাসে বাঁধা দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে নগরীর ঐতিহ্যবাহী আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে জানাযার নামাজ পড়তে দেয়নি পুলিশ। পরে বাধ্য হয়ে নিজ বাসভবনের সামনে জানাযার নামাজ পড়া হয়েছে। বিকেলে বাদ আছর মুক্তাগাছা উপজেলার খেলার মাঠে দ্বিতীয় জানাযা এবং মরহুমের নিজ গ্রাম কান্দিগাওয়ে তৃতীয় জানাযা শেষে সেখানেই পারিবারিক গোরস্থানে তাঁর দাফন করা হয়।

তবে জানাযার নামাজে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার। তিনি বলেন, জানাযার নামাজে বাঁধা দেয়া হয়নি।

মরহুম করোনা পজেটিভ হওয়ায় সীমিত আকারে জানাযা পড়তে বলা হয়েছে।

জানাযায় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা: এজেডএম জাহিদ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ওয়ারেস আলী মামুন, সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার, বিএনপি নেতা অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, আবু ওয়াহাব আকন্দ, ডা: মাহবুবুর রহমান লিটন, আলমগীর মাহমুদ আলম,অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, মোতাহার হোসেন তালুকদার, অ্যাড. নূরুল হক, জেলা জাতীয় পার্টির নেতা জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ। এ সময় বিএনপি, অঙ্গ-সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মরহুমের জানাযায় অংশগ্রহন করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, একেএম মোশাররফ হোসেন এফসিএ বিসিআইসির চেয়ারম্যান ছিলেন। ছিলেন শিল্প সচিব। এরপর চাকরি জীবন শেষ করে ১৯৯৬ সালে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে ময়মনসিংহ-৫ মুক্তাগাছা আসন থেকে দলীয় মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার সময়ে ময়মনসিংহসহ মুক্তাগাছা উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়, যা এখনো দৃশ্যমান। এরপর ২০০১ সালে তিনি দ্বিতীয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার