পুরনো ইট আর অখ্যাত ব্রান্ডের সিমেন্টে শহীদ মিনার নির্মাণ!

Img

পঞ্চগড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে পুরনো ইট। শহীদ মিনার নির্মাণ কাজে পিকেট ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও ব্যবহার করা হয়েছে ২ ও ৩ নাম্বার ইটের খোয়া।

জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের তিস্তার হাট এলাকার শহীদ বুদ্ধিজীবী মুক্তিযোদ্ধা আ. কাদের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় নিম্মমানের নির্মাণ কাজ চলছে মুঠোফোনে এমন অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদিন উপস্থিত থেকে নির্মাণ কাজ তদারকি করছেন। সন্ধ্যা হলেও কেন নির্মাণ কাজ চলছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেন নি।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে নির্মাণ কাজের তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গেলে বিদ্যালয়ের জমিদাতার ছেলে মশিউর, সালাম ও মোশারফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দৈনিক প্রথম খবরের উপজেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান ও সাম্প্রতিক দেশকাল ও গ্লোবাল টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি নাজমুস সাকিব মুনকে বাঁধা দেন। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সাংবাদিকরা সেখান থেকে চলে আসেন।

জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয় সংস্কারের টাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ হচ্ছে। শহীদ মিনার নির্মাণ ও বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে উপজেলার ৫২ টি বিদ্যালয়ের জন্য এই বরাদ্দ দেয়া হয়। এখনো অনেক বিদ্যালয়ে এই কাজ এখনো চলমান রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনার নির্মাণে নতুন ইটের সাথে পুরনো ইট ব্যবহার করা হয়েছে। মিনারের ঢালাইয়ে পিকেটের পরিবর্তে ২ ও ৩ নাম্বার ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাণ কাজে ডিলাক্স নামে একটি অখ্যাত ব্রান্ডের সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এইসব অনিয়মের ভিডিও ধারণের সময় জমি দাতার ছেলেরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণ বন্ধে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। সেই সাথে পুরো নির্মাণ কাজ শিডিউল অনুযায়ী হচ্ছে বলে সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ করে বসেন তিন ভাই।

এলাকাবাসীর অভিযোগ বিদ্যালয়ের জমিদাতা হওয়াতে তারা সবক্ষেত্রে প্রভাব খাটান। অথচ বিদ্যালয়টি এখন সরকারি হয়েছে, তাই স্থানীয়দের বিদ্যালয়টির ভাল-মন্দ জানার অধিকার আছে।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আকবর আলী মুঠোফোন ব্যবহার না করায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন বলেন, ২ লাখ টাকা বরাদ্দ থেকে শহীদ মিনার, প্যারাসাইটিং দেয়াল নির্মাণ, টিচার টেবিল ক্রয় করা হয়েছে। এখানে কোন দুর্নীতি হয়নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামসুল আলম বলেন, শুধু শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ নয়। শহীদ মিনারের জন্য ৭০-৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ। ওই বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। কিছুদিন আগে স্থানীয় এক ব্যক্তি শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য জমি দান করেছিলেন। শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য ওই জমিতে বালু ভরাট, প্যারাসাইটিং ওয়াল নির্মাণ করার কথা। আর বাকী টাকা বিদ্যালয়ের অন্যান্য সংস্কারের জন্য ব্যয় করতে হবে। তবে নিম্মমানের কাজের বিষয়টি বিদ্যালয় পরিদর্শন না করা পর্যন্ত কিছু বলতে পারব না।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার