পাসপোর্ট জমা রাখা মানে নাগরিকত্ব ত্যাগ নয়: মির্জা ফখরুল

Img

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বক্তব্য প্রমাণ করে, দেশে তারেক রহমানের জীবন নিরাপদ নয়। তারেক রহমান ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। পাসপোর্ট জমা দেওয়া মানে নাগরিকত্ব ত্যাগ নয়।

আজ মঙ্গলবার সকালে দলের রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি নেতা বলেন, তারেক রহমান সুস্থ হলে এবং দেশে আসতে চাইলে তিনি আবার পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে আবেদন করবেন। সেটি তিনি করতে পারবেন। সুতরাং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যে তথ্য দিয়েছেন, তা মোটেও সঠিক নয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (শাহরিয়ার আলম) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাসপোর্ট ও নাগরিকত্বের বিষয়ে যে চিঠি দিয়েছেন, এটি অত্যন্ত রহস্যজনক। কারণ এ চিঠিতে ১৩টি মারাত্মক ভুল আছে, যা ব্রিটিশরা কোনোভাবেই করতে পারেন না।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তারেক রহমান তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে যে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন, দেশের মানুষ তার জবাবের অপেক্ষা করছে। আশা করি, তিনি নোটিশের জবাব দেবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘মূলত আমরা যখন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন করি, তখনই জনগণের চোখ ভিন্ন দিকে নিতে চেষ্টা করে আওয়ামী লীগ।’

বিএনপি নেতা আরো বলেন, তারেক রহমান জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক। সংবিধানেও বলা আছে, বড় কোনো সমস্যা না হলে জন্মসূত্রের নাগরিকত্ব সহজে বাতিল হয় না।

তারেক রহমান পাসপোর্ট জমা দিয়ে নাগরিকত্ব ছেড়ে দিয়েছেন—পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে গতকাল সোমবার তারেক রহমানের পক্ষে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

গত সোমবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম লন্ডনে বলেছিলেন, ‘২০১৪ সালের ২ জুন যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের পাসপোর্ট লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ফেরত পাঠানো হয়। তাঁদের কারও কাছে কোনো ট্রাভেল ডকুমেন্ট নেই, যা দিয়ে তাঁরা বাংলাদেশে আসতে পারবেন।’

ঢাকায় ফিরে গতকাল সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাঁর বাসায় সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। সেখানে তিনি তারেকের মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টের কপি এবং ব্রিটিশ হোম অফিসের একটি নথি দেখান। পাসপোর্ট হস্তান্তর মানে কি নাগরিকত্ব ছেড়ে দেওয়া কি না, জানতে চাইলে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমি একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তা-ই মনে করি। বিদেশে আপনার পরিচয় হচ্ছে আপনার পাসপোর্ট। এটি ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে আপনি সেটি দাবি করছেন না। আমার হিসেবে তিনি (তারেক রহমান) বাংলাদেশের নাগরিক নন।’

বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্য, নথির শুরুতেই ডিপার্টমেন্টের নাম ভুল লেখা হয়েছে। চিঠিতে লেখা আছে, ‘বাংলাদেশ অ্যাম্বাসি’। কিন্তু হবে ‘হাইকমিশন অব বাংলাদেশ’। এতে বড় করে টেলিফোন নম্বর ও ফ্যাক্স নম্বর দেওয়া আছে, যেটা ‘আনকমন’ (অস্বাভাবিক)। ব্রিটিশ চিঠির মধ্যে এগুলো থাকে না। ‘ডিয়ার স্যার’ লেখার পরিবর্তে ‘ডিয়ার স্যারস’ লেখা আছে। চিঠির ওপরে চারটি পাসপোর্টের কথা বলা হলেও নিচের দিকে আবার একটি পাসপোর্টের কথা বলা হয়েছে। চিঠির শেষাংশে ‘ফেইথফুলি’র এফ বড় হাতের অক্ষর দিয়ে লেখা হয়েছে। ব্রিটিশরা এটা কখনোই লিখবে না। যিনি সই করেছেন, তাঁর কোনো নাম নেই। এসব বিবেচনায় চিঠি নিয়ে যথেষ্ট রহস্য রয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, স্রেফ জমা রাখার জন্য ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র বিভাগ থেকে তারেক রহমানের পাসপোর্ট লন্ডন হাইকমিশনে পাঠানোর যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তার দ্বারা কোনো আইন কিংবা যুক্তিতে প্রমাণ হয় না যে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, লন্ডন সফরের একমাত্র অর্জন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সংগ্রহ করা তারেক রহমানের ২০০৮ সালে ইস্যু করা পাসপোর্টের ৩টি পাতা এবং ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র বিভাগের অসংখ্য ভুলে ভরা এক লাইনের রহস্যজনক একটি চিঠির ফটোকপি। কী বিচিত্র এই সরকার! কী দুর্বল তাদের অপকৌশল!

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ।

- সূত্র: একুশে টেলিভিশন
প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার