পামওয়েল নিয়ে বিপাকে মালয়েশিয়া

Img

কোভিড-১৯ পেনডেমিক এ অব্যাহত মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (এমসিও) লকডাউনে মালয়েশিয়ার অন্যতম অর্থনীতির চালিকা শক্তি পামওয়েল তেল নিয়ে রীতিমতো বিপাকে পড়েছে দেশটির সরকার। কোভিড এর কারণে বিশ্ব বাণিজ্য ঘাটতি ও বিদেশী ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ স্বাভাবিক না হওয়ায় উৎপাদিত পামওয়েল সিংহভাগই অবিক্রিত থেকে গেছে।  এঅবস্থায় দেশটির জিডিপিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।  

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশটির জাতীয় অনলাইন সংবাদ মাধ্যম "দ্য স্টার" এ বিষয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া লকডাউনের পর সারা বিশ্বজুড়ে মালয়েশিয়ার পামওয়েল তেল রপ্তানি ধ্বস নামার পর মাঝখানে লকডাউন শিথিল হওয়ার পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত ও বিশ্বে তেল রপ্তানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। এই শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখার প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন বেশি হওয়ায় সঠিক দাম না পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা। 

ইন্টারব্যান্ড গ্রুপ অফ কোম্পানির সিনিয়র পাম তেল ব্যবসায়ী মিঃ জিম তেহ বলেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস সাধারণত পাম তেল উৎপাদন ও বিপনন এর জন্য একটি ভাল সময়। কিন্তু বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতির কারণে এই পরিস্থিতি এখন আর অনুকুলেই নেই।

তিনি আরো বলেন, আগামী সপ্তাহে পামতেল টন প্রতি ২৮০০ রিংগিত থেকে ২৭০০ রিংগিতে দাম হ্রাস পাবে। 

দেশটিতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় তীব্র  শ্রমিক সংকটে পাম তেল উৎপাদন ও  ব্যাহত হচ্ছে।  তার মূল কারণ হচ্ছে পাম তেল শিল্পে গাধার মত খাটুনি  মালয়েশিয়ান শ্রমিকরা কখনোই দিতে পারে না।  এর জন্য পুরোপুরি নির্ভর করতে হয় বিদেশি শ্রমিক উল্লেখ্য যোগ্য যেমন বাংলাদেশী ও ইন্দোনেশিয়ার শ্রমিকদের উপরে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, এর মধ্যে আশার আলো দেখছে ব্যবসায়ীরা যেমন আগামী সপ্তাহে মালয়েশিয়ার অন্যতম পামতেল আমদানি কারক দেশ ভারত আসন্ন দীপাবলি উৎসবে যে রেকর্ড পরিমান পামতেল আমদানি করবে। এই চাহিদার বিপরীতে রপ্তানির পর বাণিজ্য ঘাটতি কিছু টা কমবে বলে আশা করা যাচ্ছে। চাহিদ আগামী সপ্তাহে ২৪১,৪৬০ লট থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩০৩,৭৭৩  লটে পৌঁছেছে। 

উল্লেখ্য, এশিয়ার ইউরোপ খ্যাত দ্রুত উন্নয়নের দিকে ধাবিত দেশটির প্রধানমন্ত্রী তান শ্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিন জাতির উদ্দেশ্য এক ভাষণে বলেছিলেন গত ২২ বছর পর জিডিপি কোভিড-১৯ পেনডেমিকের কারণে সর্বনিম্নে পৌছেছে। এই পরিস্থিতি পূনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী ৩৫ বিলিয়ন রিংগিত আর্থিক প্রনোদনা ঘোষণা করেছিলেন।  কিন্তু লকডাউনের কারণে এর সুফল বার বার ব্যাহত হচ্ছে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার