সৃষ্টির শুরু থেকে প্রতিনিয়ত আমরা কোনো না কোনো আবিষ্কারের আভাস পেয়ে যাচ্ছি। তার মধ্যে কিছু ব্যতিক্রমী আবিষ্কার থাকে যা সত্যি ই অবাক করে দেওয়ার মত। ঠিক তেমনি অবাক করার মত এক আবিষ্কার নিয়ে হাজির হলেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. মুবারক আহমেদ খান।

যখন আবিষ্কারের নামটি শুনবেন, তখন আপনিও অবাক হবেন এবং বিশ্বাস নাও হতে পারে আপনার।

আচ্ছা, আমরা তো সকলে টিন সম্পর্কে জানি। তবে যদি বলা হয় এই টিন ই হতে পারে পরিবেশ বান্ধব, তবে কি অবাক হবেন? হ্যাঁ অবশ্যই অবাক হবেন।

বিজ্ঞানী ড.মুবারক আহমেদ খান সকল কে অবাক করে দিতেই এমন এক অদ্ভুত আবিষ্কার নিয়ে হাজির হলেন। আবিষ্কারটি হচ্ছে পাট দিয়ে পরিবেশ বান্ধব টিন তৈরি। পাটের ইংরেজী প্রতিশব্দ হচ্ছে Jute । তাই পাট দিয়ে তৈরি বলে এই টিনের নাম জুটিন।

বাংলাদেশের এই বিজ্ঞানীর বিশ্বাস, এই জুটিন ১০০ বছর অনায়াসে রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ের মোকাবেলা করে টিকে থাকতে পারে। টিনের প্রধান উপকরণ লেড এবং জিংকের যোগান পুরোটাই আমদানি নির্ভর। এই অর্থসাশ্রয়ের কথা চিন্তা করেই বিজ্ঞানী এই আবিষ্কারটি করেন। কারণ এই জুটিনের ব্যবহার বাড়লে প্রতি বছর সাশ্রয় হবে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা। এছাড়াও আমরা প্রতিনিয়ত যে ধাতব টিনগুলো দেখে থাকি সেগুলো কিছুদিন পরেই মরিচা ধরে যায়, ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে এবং এতে পরিবেশ নানাবিধ হুমকির সম্মুখীন হয়। কিন্তু এই জুটিনের ব্যবহার বাড়লে এই সমস্যা অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব।

শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও এই জুটিন মাত্র বিশ (২০) মিনিটের মধ্যে তৈরি করা যায়। পাটের জট এবং বিভিন্ন রাসায়নিকের মিশ্রনই মাত্র বিশ (২০) মিনিটের মধ্যে তৈরি করতে সক্ষম হবে এই জুটিন। যদি বানিজ্যিক ভাবে এই জুটিন উৎপাদন করা হয় তবে এই জুটিন তৈরির সময় আরো কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।

এতে প্রয়োজন হবে না কোনো বিশেষ কারিগরীর এবং প্রয়োজন হবে না গ্যাস, বিদ্যুৎ বা অন্য বিশেষ কোনো জ্বালানীর। এই জুটিন অন্যান্য ঢেউটিনের থেকে শতভাগ মজবুত। যদি এই জুটিনের ব্যবহার দিনে দিনে বৃদ্ধি পায় তবে কমিয়ে আনা সম্ভব পরিবেশের ক্ষতি এবং সাশ্রয় হবে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা। এরকম ভিন্নধর্মী আবিষ্কারের দরূণ আমাদের দেশ একদিন এগিয়ে যাবে উন্নতির চরম শিখরে। এক উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে পরিচিতি পাবে আমাদের এই বাংলাদেশ ।