পাকিস্তান সীমান্তের কাছে ২০ হাজার ভারতীয় সেনাসদস্য

আমির হোসেন | নিজস্ব প্রতিবেদক : মে ৪, ২০১৮

ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২০ হাজারেরও বেশি সেনাসদস্য রাজস্থানে পাকিস্তান সীমান্তের কাছে সামরিক মহড়া শুরু করেছে। পাকিস্তান সীমান্তের ৩০০ কিলোমিটার দূরে সুরাতগড়ের মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে এই মহড়া চলছে। মহড়ায় অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই মহড়া আগামী ৯ মে শেষ হবে।

ভারতীয় বিমান বাহিনী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের জন্যই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভারতীয় মিডিয়ায় এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, মহড়ায় বিভিন্ন ধরনের বিপদের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যেগুলো যৌথভাবে বিমান ও স্থল অভিযান চালানোর উপযোগী করে পরিকল্পনা করা হয়েছে। মহড়ায় কয়েক শ' বিমান, কয়েক হাজার ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান রয়েছে যেগুলিকে বাস্তবিক গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারির সহায়তা এবং সময়মতো সরঞ্জাম সহায়তা দিয়ে সাহায্য করা হচ্ছে।

নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক পরিবেশে চর্চা এবং অভিযান পরিচালনার জন্য কিছু সৃজনশীল ধারণার প্রয়োগ করা হয়েছে এই মহড়ায়। আধুনিক সেন্সরের সঙ্গে অস্ত্রশস্ত্রের সমন্বয়, আকাশ থেকে হামলায় অ্যাটাক হেলিকপ্টারের ব্যবহার এবং স্পেশাল ফোর্সের সরঞ্জামাদির আগ্রাসী ব্যবহার করা হয়েছে এই মহড়ায়।

এদিকে, সমুদ্রতল থেকে ১১,৬০০ ফুট উচ্চতায় লে অঞ্চলে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা একটি ছোট টারবোফ্যান ইঞ্জিনের প্রোটটাইপ পরীক্ষায় সফল হয়েছেন। এটা ছিল অতিশীতল পরিবেশে ড্রোন ইঞ্জিনের পরীক্ষা। গত ফেব্রুয়ারি থেকে এই পরীক্ষা শুরু হয়। ড্রোন ইঞ্জিনের নাম রাখা হয়েছে ‘মানিক’।

উচ্চভূমিতে চলার উপযুক্ত ড্রোন ইঞ্জিনের নকসা তৈরি করে ‘গ্যাস টারবাইন রিসার্চ এস্টাবলিশমেন্ট’ (জিটিআরই)। ড্রোনের জন্য মোবাইল টেস্ট বেড ও ফুয়েল সাপ্লাই সিস্টেমও তৈরি করে তারা। নিরাপত্তা ও অন্যান্য নকশাগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে আপস না করে পরীক্ষা চালানো নিশ্চিত করতে কন্ট্রোল ডেস্ক, ডেটা অ্যাক্যুইজিশন সিস্টেম ও ভাইব্রেশন মনিটরিং প্যানেলের নিরাপদ অপারেশনের জন্য একটি ক্লাইমেট-কন্ট্রোলড কেবিনের স্যুটেবল অপারেটর কনসোল স্থাপন করা হয়।

ভারতীয় বিমানবাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী ৪৫০ কেজি থার্স্ট ক্লাস ইঞ্জিনের উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে। উচ্চ পার্বত্য এলাকায় চলাচলের উপযুক্ত ড্রোনের চাহিদা রয়েছে বিমানবাহিনীর। এই ধরনের ড্রোনের ব্যাপারে নৌ বাহিনীরও আগ্রহ রয়েছে।

গত মাসে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে ড্রোন ইঞ্জিন প্রস্তুত ও সংযোজনের জন্য ভারতীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আগ্রহপত্র আহ্বান করেছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ‘টেকনোলজি পার্সপেকটিভ অ্যান্ড ক্যাপাবিলিটি রোডম্যাপ ২০১৮’ শীর্ষক এই দলিলে আগামী এক দশকে কমব্যাট ও সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণের উপযোগী ৪০০ রিমোটলি পাইলটেড এয়াক্রাফট (ড্রোন)-এর চাহিদার কথা বলা হয়।

এতে আরো বলা হয়, এগুলো হবে মিডিয়াম অল্টিটিউট, লং-এনডিউন্সে কমব্যাট আরপিএ (রিমোটলি পাইলটেড এয়ারক্রাফট), যা ৩০ হাজার ফুট উচ্চতা দিয়ে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত উড়তে পারবে এবং তা স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন রেঞ্জের মধ্যে থাকতে হবে।

এদিকে, ভারতের অস্ত্রসম্ভার আরও শক্তিশালী করতে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম ‘হাই-অল্টিটিউড সারভেইল্যান্স আর্মড আনম্যান এরিয়াল ভেহিকেল’ (ড্রোন) বিক্রি করতে রাজি হয়েছে। এসব ড্রোন স্থল ও সমুদ্র সীমান্তের ওপারে গিয়ে লক্ষ্যবস্তুকে ধাওয়া ও ধ্বংস করতে সক্ষম। ভারতকে এই প্রিডেটর-বি ড্রোন সরবরাহের ব্যাপারে পেন্টাগনের সিদ্ধান্তের বিষয়টি ভারত ও আমেরিকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। এখন শুধু এগুলো কেনার ব্যাপারে দরদাম করে মোদি সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পালা।

জেনারেল অ্যাটোমিকস-এর তৈরি প্রিডেটর ড্রোনের স্থল ও নৌ সংস্করণ রয়েছে। এগুলো এয়ার-টু-এয়ার ও অ্যান্টি-শিপ মিসাইল এবং লেজার গাইডেড বোমায় সজ্জিত করা যায়। ড্রোনের স্ট্যান্ড-অব সামর্থ্য বলতে বোঝায় লক্ষ্যবস্তুর পাল্টা হামলার সামর্থ্য বিবেচনা ছাড়াই আঘাত হানার সামর্থ্য। সূত্রের খবর, গত মাসে ওয়াশিংটন সফরকালে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, পররাষ্ট্রসচিব বিজয় গোখলে ও প্রতিরক্ষা সচিব বিষয়টি আমেরিকার কাছে উত্থাপন করেন।

আমেরিকার সর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হলে ভারতকে তাদের সঙ্গে ‘কমিউনিকেশন কমপ্যাটিবিলিটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এগ্রিমেন্ট’ (কমকাসা) এবং ‘বেসিক এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট’ (বিইসিএ) সই করতে হবে। ইতিপূর্বে পেন্টাগন ভারতের কাছে ২২টি গার্ডিয়ান নেভাল ড্রোন (অস্ত্রবিহীন) বিক্রিতে রাজি হলেও দাম বিবেচনা করে নয়াদিল্লি বলছে যে, স্থল ও পানিসীমায় পরিচালানার যোগ্য সশস্ত্র ড্রোন কেনাই ভালো হবে।

ভারতের সশস্ত্র ড্রোন প্রয়োজন। যেগুলো শুধু লক্ষ্যবস্তুকে চিহ্নিত করবে না, ধ্বংসও করবে। তবে আমেরিকার কাছ থেকে ড্রোন কেনা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ রয়েছে। এর অন্যতম অস্ত্রসজ্জিত ড্রোনের এনক্রিপশন কি। এই কি’র মাধ্যমে আমেরিকাও এসব ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করবে কি না, তা নিয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনাবিদরা চিন্তিত।

জানা গেছে, আমেরিকা চাইলে এগুলোকে জ্যাম করে দিতে পারবে। তবে আমেরিকার প্রস্তুতকারক সংস্থা এই আশঙ্কা বাতিল করে দিয়ে বলেছে যে, সশস্ত্র ড্রোনের সবধরনের এনক্রিপশন কি ভারতকে দিয়ে দেয়া হবে।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: মে ৪, ২০১৮

প্রতিবেদক: আমির হোসেন

পড়েছেন: 513 জন

মন্তব্য: 0 টি