পাইকগাছায় দীর্ঘ ৫ বছরেও শেষ হয়নি ৮ কি.মি. রাস্তার কাজ

Img
ছবি: প্রবাসীর দিগন্ত।

খুলনার পাইকগাছার লতা ইউনিয়নের লতা বাজার থেকে পাইকগাছা পৌর সদর পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার রাস্তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে দীর্ঘ ৫ বছরেও কাজ শেষ হয়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারনে নিদিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় চরম জনদূর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

সরজমিনে দেখাযায়, সড়কটিতে কিছু জায়গায় ইটের খোয়া দেওয়া হলেও অধিকাংশ জায়গায় খোড়া অবস্থায় পড়ে আছে। এতেকরে চরম দূর্ভোগে পড়েছে পথচারী ও স্থানীয় জনসাধারণ।

পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে সড়কটিতে পিচ ঢালাইয়ের জন্য ৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয় খুলনা বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের (কেডিআরআইডিপি) অধিনে সড়কটি নির্মান কাজ পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ডলি কনষ্ট্রাকশন।

ওই বছরই সড়কটি খোঁড়া খুড়ি শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে কিন্তু অর্ধেকের বেশি কাজ ফেলে রেখে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

উপজেলা প্রকৌশলী প্রবাসীর দিগন্তকে জানান, মাত্র ৩৫ শতাংশ কাজ করা হয়েছে। গত ৫ বছরে কাজ শেষ না হওয়ায় দূর্ভোগে পড়েছে এ ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

লতা গ্রামের অনুপ মন্ডল প্রবাসীর দিগন্তকে বলেন, আমাদের পাইকগাছা উপজেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এটি কিন্তু ৫ বছর ধরে নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় চরম দূর্ভোগের মধ্যে রয়েছি। সড়ক দিয়ে মানুষ কোন রকম চলাচল করতে পারলেও কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করতে পারেনা। আবার বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। ছাত্র ছাত্রীদের অনেক কষ্টে স্কুল, কলেজে যেতে হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য স্বপন মন্ডল প্রবাসীর দিগন্তকে বলেন, সড়কের কোথাও কোথাও ইটের খোয়া ফেলে রাখা হয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ জায়গা খুড়ে রেখে গর্ত বা খালে রূপ নিয়েছে। এমতাবস্থায় বিভিন্ন পন্য সহ অসুস্থ রোগী বহনের জন্য আসতে পারেনা কোন যানবাহন। কিছু মটর সাইকেল চলাচল করলেও ভ্যান বা অনান্য যানবাহন চলাচল করতে পারেনা।

পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান খান প্রবাসীর দিগন্তকে বলেন, সড়কটি খুলনা বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে থাকায় কাজটির দেখাশোনা করেন খুলনা জেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ফেলে চলে যাওয়ায় পুনরায় দরপত্র আহ্বানের জন্য কাগজ পত্র তৈরি করে জেলা অফিসে জমা দিয়েছি। বৃষ্টির কারনে মালক্রোক করপ জেলা অফিসে পাঠাতে দেরি হয়েছে।

খুলনা জেলা (এলজিডি) প্রকৌশলী কামরুজ্জামান প্রবাসীর দিগন্তকে বলেন, নিদিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না করতে পারায় ডলি কনস্ট্রাকশনের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। এবং আগামী দুই বছর ওই প্রতিষ্ঠান কোন টেন্ডারে অংশ নিতে পারবেনা। তাছাড়া কাজের পরিমান হিসেব করে প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) অফিসে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে দরপত্র আহ্বান করে আরেকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ শেষ করা হবে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার