পাইকগাছায় মৎস্য ঘের প্রস্তুত; পোনা সরবরাহ কম থাকায় চাষিরা বিপাকে!

Img

চলতি মৌসুমে খুলনার পাইকগাছায় মৎস চাষিরা ঘের প্রস্তুত সম্পন্ন করলেও বাগদা চিংড়ি পোনা ছাড়তে পারছেনা। পোনা সংকটের কারণে চলতি বছর চাহিদার তুলনায় বাগদার পোনা সরবরাহ অপ্রতুল। অন্য বছরের তুলনায় দাম ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি হওয়ায় চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন চিংড়ি চাষিরা। কোথাও মিলছে না নদীর পোনা। হ্যাচরী পোনার সরবরাহ কম ফলে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন তারা।

জানা যায়, খুলনার পাইকগাছাসহ দক্ষিণাঞ্চলে আশির দশক থেকে চিংড়ি উৎপাদন হয়ে আসছে। উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ঘেরের সংখ্যা ৩ হাজার ৯৪০ টি। যার আয়তন ১৭ হাজার ৭৫ হেক্টর। গত বছর ব্যাপক ভাইরাসজনিত কারণে মড়কের পরও ৫ হাজার ৭২০ মেট্রিকটন চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে। চলতি বছর বাগদার পোনার ব্যাপক সংকট ও অধিক দামের কারণে অধিকাংশ চিংড়ি ঘেরে অনেকেই পোনা ছাড়তে পারেননি। এছাড়া মে মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত মৎস্য প্রজননজনিত কারণে মাদার আহরণ বন্ধ থাকায় এ বছর চিংড়ি চাষ নিয়ে হতাশায় ভুগছেন চাষিরা। গত বছর ১ হাজার পোনার দাম ছিল ২-৩ শ টাকা, চলতি বছর যার দাম ৯ শ থেকে এক হাজার টাকা।

খুলনা বিভাগীয় পোনা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রয়েল ফিস লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী গোলাম কিবরিয়া রিপন জানান, গত বছরের চেয়ে চলতি বছর ৮০% পোনার সংকট। প্রতিদিন এলাকায় ৭০/৮০ লাখ পোনার চাহিদা থাকলেও সরবরাহ রয়েছে মাত্র ৭ থেকে ৮ লাখ। কক্সবাজার, খুলনা, সাতক্ষীরায় ৮০ টি হ্যাচারির মধ্যে ২৮ টিতে পোনা উৎপাদিত হচ্ছে। নদীতে মিলছে না প্রাকৃতিক উপায়ে বাগদার পোনা। 
চিংড়ি চাষি ও হেলাল মৎস্য খামারের স্বত্বাধিকারী মোবারেক সরদার ও সবুজ মৎস্য খামারের স্বত্বাধিকারী ইশতিয়ার রহমান শুভ জানান, বিগত বছরে চিংড়ি ঘেরে একদিনে যে পরিমাণ পোনা ছেড়েছি, এবার ১০ দিনেও সে পরিমাণ পোনা ছাড়তে পারছি না। এভাবে থাকলে আদৌ চিংড়ি চাষ করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করেন তিনি। 

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস.এম শহিদুল্লাহ জানান, মাদার সংকটের কারণে পোনার সংকট দেখা দিয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি এ সংকট কেটে যাবে।

পূর্ববর্তী সংবাদ

বরিশালে অতিরিক্ত মূল্যে মাস্ক বিক্রি, ঠেকাতে মাঠে প্রশাসন

বরিশালে অতিরিক্ত মূল্যে মাস্ক বিক্রি ঠেকাতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। শহরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত মঙ্গলবার দিনভর অভিযান চালিয়েছেন। এসময় অতিরিক্ত মূল্যে মাস্ক বিক্রি অপরাধে অন্তত চার দোকানিকে জরিমানাও করেন। ২০/৩০ টাকা মূল্যের মাস্ক দাম বাড়িয়ে তারা ১৫০/২০০ টাকা মূল্যে বিক্রি করছিল।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মরণঘাতি করোনাভাইরাস বাংলাদেশেও বিস্তার লাভ করেছে এমন সংবাদ ছড়িয়ে শহরের চকবাজারসহ আশপাশের ব্যবসায়ীরা সম্প্রতি মাস্ক অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি শুরু করলে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অভিযোগ আকারে অবহিত করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত চকবাজারের বিক্রিয় কেন্দ্রগুলোতে হানা দেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত মূল্যে মাস্ক বিক্রির প্রমাণ মিললে নগরীর ফলপট্টি এলাকার ২ দোকানিকে ৫ হাজার টাকা করে ১০ হাজার টাকা, মহসীন মার্কেটের ১ দোকানিকে ২০ হাজার টাকা এবং জেলা পরিষদ মার্কেটের একটি দোকানে ৫ হাজার টাকাসহ ৪টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এবং অপরাপর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মালিকদের করোনাকে পুঁজি করে মাস্ক বাণিজ্য সম্পূর্ণরুপে বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান জানান, অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর ৪০ ধারায় চার দোকানিকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার