পাঁচবিবিতে শিক্ষকের রোষানলে ৯ম শ্রেণির ছাত্রীকে নির্যাতন ও ছাড়পত্র

image
image

শিক্ষকের রোষানলে পড়ে জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে জীবনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের  ৯ম শ্রেণির ছাত্রী আয়েশা সিদ্দিকা(১৪) কে নির্যাতনের পর বিদ্যালয় পরিত্যাগের ছাড়পত্র দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর ওই ছাত্রী মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছে। ক্ষোভ ও লজ্জায় যে কোন সময় আত্মহননের মতো ঘটনা ঘটার আশংকা করছেন ছাত্রীর বাবা সানোয়ার হোসেন।

আয়েশা সিদ্দিকা জানায়, গত ২৩ জুলাই বিদ্যালয় ছুটির পর কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে একই ক্লাসের তানভিরের সাথে কথা বলার অপরাধে পরদিন ২৪ জুলাই সহকারী মৌলানা সামছুল ইসলাম  বেধড়ক মারধর করে।এসময় তিনি একটা সাদা কাগজে আমার স্বাক্ষর নেয়ার চেস্টা করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে শিক্ষক সামছুল ইসলাম মোটরসাইকেল যোগে বাড়িতে নিয়ে এসে আমার চাচা কে বিদ্যালয় পরিত্যাগের ছাড়পত্র দিয়ে বলেন ওকে অন্য স্কুলে ভর্তি করান নইলে বিয়ে দেন।নির্যাতনে শরীরের বিভিন্নস্থানে ফোলা ও বেদনাদায়ক আঘাতের কারনে বাড়িতে এসেই আমি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলি।বাবাকে সাথে নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে নির্যাতনের বর্ননা দিতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত কন্ঠে আয়েশা সিদ্দিকা বলেন,আমি পড়াশোনা করতে চাই। 

ছাত্রীর বাবা সানোয়ার হোসেন বলেন,বিদ্যালয় পরিত্যাগের কারন হিসাবে ছাড়পত্রে লিখা হয়েছে অভিভাবকের ইচ্ছা এটি ডাহা মিথ্যা।আমরা কিছুই জানিনা।মাঝ পথে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায়  মেয়েটি হতাশায় ভুগছে। যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু  বিচার দাবি করেন।

আটাপুর ইউপি সদস্য নাসিমা আক্তার বলেন,ছাত্রীর বাবার সাথে সহকারী মৌলানা সামছুল ইসলামের বিরোধ ছিল।পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করে বিদ্যালয় পরিত্যাগের ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।ওই ছাত্রীকে মারপিট করে স্বীকারোক্তিও নেয়া হয়েছে।  ঘটনার পর তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রতিবাদ করেছেন বলে জানান। 

ছাত্রী নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী মৌলানা সামছুল ইসলাম বলেন, ওটা অনেক দিনের কাহিনী। ছেলে মেয়ে সম্পর্ক ছিল তাই একটু শাসন করা হয়েছে।এ বিষয়ে আরো কিছু প্রশ্ন করা হলে তিনি সদুত্তর দিতে না পেরে মুঠোফোনের সংযোগটি কেটে দেন।

প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন,আচরণ বিধি লংঘন করায় ওই ছাত্রীকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।কিন্তু ছাড়পত্রে তার নৈতিক চরিত্র ভাল, আচরণ সন্তোষজনক লেখা হয়েছে কেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের চায়ের দাওয়াত দেন এবং সাক্ষাতে কথা বলতে বলেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাফিজ বলেন,ছাড়পত্র দেয়ার বিষয়টি পরে জেনেছি। এবিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ব্যাস্ত আছেন বলে জানান।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা টিএম আবদুল হামিদ দেশের বাইরে অবস্থান করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃরাজিবুল আলম বলেন,বিষয়টি কেউ জানায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার