আজ থেকে শুরু মাধ্যমিক পরীক্ষা। তা নির্বিঘ্ন করতে রাজ্য প্রশাসন সব রকমের প্রস্তুতি। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছে পরিবহণ দপ্তর। মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, রাস্তায় পরীক্ষার্থী দেখলেই থামাতে হবে বাস। তা সরকারি হোক বা বেসরকারি, ওই পরীক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে নির্দিষ্ট স্কুলে পৌঁছে দিতে হবে। সোমবার বিধানসভায় এই সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

একইসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার্থীদের নিয়ে যেসব বাস যাবে তাদের স্পিড গভর্নর পরীক্ষা করে নিতে হবে। পরীক্ষার আগে দপ্তরের আধিকারিক, পুলিশ প্রশাসন ও জেলাশাসকদের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। মন্ত্রীর কথায়, “ছাত্রছাত্রী, অভিভাবকরা রাস্তায় যেখানেই থাকবেন সরকার ও বেসরকারি বাস তাদের তুলে নেবে। অননুমোদিত রুট না হলেও কোনও বাস চলবে। পরীক্ষার সময় যাতে সামগ্রিকভাবে পরিবহণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক এবং মসৃণ থাকে, তার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।”

বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, “পরীক্ষার্থীদের নিয়ে যে গাড়িগুলি যাবে তাদের স্পিড গভর্নর পরীক্ষা করে নিতে হবে। সেগুলি ঠিকমতো রাখা বাধ্যতামূলক।” রাস্তায় বসানো হয়েছে স্পিড লেজার গানও। গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণকারী এই যন্ত্র পরীক্ষার্থী-সহ সমস্ত যাত্রীর নিরাপত্তার কথা ভেবে ২০ কিলোমিটার অন্তর বসানো হচ্ছে বিভিন্ন সড়কে।

পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের পাশে দাঁড়াতে এবার দলকে মাঠে নামাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক হয়েছে, নিজের নিজের এলাকার পরীক্ষাকেন্দ্র ভিজিট করবেন মন্ত্রী, বিধায়করা। অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলবেন। পরীক্ষা চলাকালীন চাইলে বসে আড্ডাও দিতে পারেন। এমনিতেই প্রতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে তৃণমূলের তরফে ক্যাম্প করা হয়। অপেক্ষারত অভিভাবকদের বসার ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য পানি-বাতাসা, গ্লুকোজ এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। সেই আয়োজন এবার বহরে আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার আগে এই পরীক্ষাকে হাতিয়ার করে যে শেষ মুহূর্তের জনসংযোগ তৃণমূল দক্ষতার সঙ্গে সেরে রাখতে চাইছে, তা বলাই বাহুল্য।সূত্র-সংবাদ প্রতিদিন