পর্তুগাল যাচ্ছে নান্দাইলের প্রত্যন্ত গ্রামে তিন মেয়ে

Img

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের তিন কিশোরী সিনহা জাহান শিখা, স্বপ্না আক্তার জিলি ও তানিয়া আক্তার তানিশা ফুটবলের প্রশিক্ষণ নিতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দেশ পর্তুগালে যাচ্ছে ।

আগামী জুলাই মাসে তারা যাবে পর্তুগালে। নান্দাইলের এই মেয়েদের নিয়ে এখন মাতামাতি, আনন্দ উৎসব চলছে। তাদের পরিবারগুলোতে বইছে খুশী।

স্বপ্না, তানিশা ও শিখা ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক, দিন মজুর, টমটম চালকের তিন কিশোরী কন্যা। 

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় ক্রীড়া অধিদপ্তর বঙ্গমাতা নারী ফুটবলের সেরা ৪০ খেলোয়াড়কে নিয়ে বিকেএসপিতে দুই মাসের ক্যাম্প করে। সেই খেলোয়াড়দের মধ্যে থেকেই নির্বাচিত হয়েছে নান্দাইলের তিন কিশোরী । তাদের নিয়েই গড়া একটি দল এখন প্রশিক্ষণের জন্য যাবে পর্তুগালে। এই দলে সুযোগ পেয়েছে শিখা, স্বপ্না ও তানিয়া। এর মধ্যে এই খেলোয়াড়দের পাসপোর্ট তৈরিসহ বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তুতি নিয়েছে।

প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে তাদের বাড়ি। আর্থিক অভাব অনটনসহ শত বাঁধা পেরিয়েও আজ তাদের খ্যাতির দ্যুতি চারদিকে।

এই তিনজনই নান্দাইল পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। শিখা ৯ম শ্রেণিতে, জিলি ও তানিসা ৮ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

শিখার বাড়ি নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামে। বাবার  বিপ্লব মিয়া মা মারা যাওয়ার পর থেকেই নানার বাড়িতে বেড়ে উঠেছে সে। বিধবা নানিই তার দেখভাল করেছেন। দ্বিতীয় সংসার নিয়ে টমটম চালক বাবা অন্যত্র থাকলেও শিখার খোঁজখবর নেন প্রায়ই। নানির বাড়িতে সামান্য ভিটায় একটি জরাজীর্ণ ঘর ছাড়া আর কিছুই নেই। হাঁস-মুরগি লালন-পালন করে শিখার খরচের ব্যয় মেটান নানি হালিমা বেগম।

স্বপ্না আক্তার  জিলির বাড়ি একই ইউনিয়নের ইলাশপুর গ্রামে। পিতার ফয়জুদ্দিন কৃষিকাজ করেন।

মা সুরাইয়া বেগম জানান, সাত সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে তিনি হিমশিম খেয়ে যান। এ অবস্থার মধ্যেও মেয়েকে খেলা থেকে বিরত থাকতে দেননি। এখন বিদেশে যাওয়ার খবরে এলাকার মানুষের উৎসাহ দেখে তিনিও খুশি।

অন্যদিকে, উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কুতুবপুর গ্রামের দুলাল মিয়ার মেয়ে তানিশা। দুলাল একটি ছোট্ট পোল্ট্রি ফার্মের ব্যবসা করেন। থাকার জন্য একটি ঘর ছাড়া কিছুই নেই।

দুলাল জানান, মেয়ে ফুটবল খেলে এ নিয়ে অনেক কথা গ্রামে শুনতে হয়েছে।

সিনহা জাহান শিখা জানায়, আমার পজিশন স্ট্রাইকার, রোনালদোর দেশে যাচ্ছি আমার যে কত খুশি লাগছে তা বলে বোঝাতে পারব না! ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন আমার।

স্বপ্না আক্তার জিলি বলেন, আমার পজিশন গোলরক্ষক। জাতীয় দলে খেলার ইচ্ছা আমার। বিদেশ খেলতে যাচ্ছি এ আমার কাছে এটি অনেক আনন্দের বিষয়।

রক্ষণভাগে খেলোয়াড় তানিয়া আক্তার তানিসা জানায়, স্বপ্ন আমার ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে চাই। 

নান্দাইল পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল খালেক বলেন, আমাদের মেয়েরা একদিন সারাদেশে আলোকিত হয়ে সুনাম বয়ে আনবে। সে লক্ষ্যে আমাদের চেষ্টা  অব্যাহত আছে। তিন মেয়ে প্রশিক্ষণের জন্যে পর্তুগালে যাচ্ছে এটি আমাদের বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকসহ এলাকাবাসীর জন্যে অনেক আনন্দের বটে।

প্রশিক্ষক মো. মকবুর হোসেন জানান, এই তিন খেলোয়াড়সহ নান্দাইলে আমার টিমটি ২০১৭ সালে জাতীয় ভাবে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ (প্রাথমিক) রানার আপ ও জাতীয় ভাবে চ্যাম্পিয়ান হয়। ২০২১ সালে বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল এই টিমটি জাতীয় ভাবে চ্যাম্পিয়ান হয়।

তিনি আরও বলেন, এই মেয়েরা ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করবে বলে আমি আশাবাদী।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার