পর্তুগালে প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের নতুন সংগঠন বিষয়ে সভা

Img

দাবি আদায়ে জোট বা সংগঠন প্রাচীনকাল থেকেই কার্যকর হয়ে আসছে আমাদের ছেলেবেলায় যেমন পড়ানো হতো দশের লাঠি একের বোঝা বিষয়টা ঠিক সেরকমই।

পর্তুগাল তথা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এমনকি পুরো বিশ্বের বাংলাদেশীদের অবাধ বিচরণ এরমধ্যে কেউ ব্যবসা করছেন কেউ চাকরি করছেন। চাকরিজীবীর সংখ্যা বেশি হলেও ব্যবসায়ীদের সংখ্যা নেহাতই কম নয়। পর্তুগালে বাংলাদেশী প্রবাসীদের মধ্যে আনুমানিক এক-তৃতীয়াংশই ব্যবসা বাণিজ্যের সাথে জড়িত। উক্ত ব্যবসায়ীরা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের পাশাপাশি পর্তুগালের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছেন।

এখানকার ব্যবসায়ীরা ভালই আছেন তবে মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবন্ধকতা সম্মুখীন হতে হয়, সাধারণ নিয়মে ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্যের কারণে, এক কথায় বলতে গেলে এখানকার সংস্কৃতি আর আমাদের দেশের সংস্কৃতি সম্পূর্ণ বিপরীত সঙ্গত কারণে আইন-কানুনের পার্থক্য রয়েছে।

অর্থনৈতিক পরিবেশের মানদণ্ডে ও বিস্তর পার্থক্য রয়েছে বাংলাদেশ এবং পর্তুগালের মধ্যে, অপরদিকে ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে এখানকার প্রবাসিদেরকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সংখ্যাই বেশি এবং সে কারণেই বিভিন্ন সরকারি সাহায্য সহযোগিতা, ব্যাংক ঋণ ও নতুন প্রবর্তিত আইন কানুন এর কারণে প্রবাসী ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। 

মাঝেমধ্যে কিছু দুষ্কৃতিকারীর হামলার শিকার হন তবে এর সংখ্যায় নেহাতই কম তদুপরি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য সহযোগিতা এবং যারা ব্যবসা করছেন তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এঅবস্থায় সকল ব্যবসায়ীরা একটি ব্যবসায়িক সংগঠন গঠন করার লক্ষ্যে (২৫ জুলাই) শনিবার পর্তুগালের লিসবনে শহরে অবস্থিত কম্পু মারতিরেস পাতরিয়া পার্ক সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আলোচনা সভার আয়োজন করেন।

পর্তুগালের লিসবনে বাংলাদেশের প্রবাসী ব্যবসায়ীগন, কমিউনিটির প্রবীণ ব্যক্তিগণ, স্থানীয় পর্তুগিজ সমাজকর্মী, একটি ব্যবসায়িক সংগঠন সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যক্তি পর্যায়ে যে সকল সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে না, তা সমষ্টিগতভাবে কিভাবে সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব সে বিষয়ে বিশদ আলোচনা ও পর্যালোচনা করেন।

যদিও ইতিপূর্বে একটি ব্যবসায়িক সংগঠন সৃষ্টি করার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা থাকলেও সকলের ঐক্যের মতভেদ থাকায় তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি তবে বর্তমান মহামারীর প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন এখন তারা উপলব্ধি করতে পারছেন আসলে একটি ব্যবসায়িক সংগঠন বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পর্তুগিজ সরকারের নিকট তাদের দাবি উপস্থাপন করে যৌক্তিকভাবে আদায় করা সম্ভব। 

উক্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত সকলে একমত পোষণ করেন এবং খুব শীঘ্রই একটি ব্যবসায়ী সংগঠন গঠন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা নির্ধারণ করেন। সকলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই সংগঠন পর্তুগালের রাজধানী লিসবন তথা সমগ্র পর্তুগালের ব্যবসায়ীদের সুন্দর ভাবে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

প্রতিক্রিয়া (১৩) মন্তব্য (০) শেয়ার (৪)